আন্তর্জাতিক নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলন, যা গত সপ্তাহের শেষ দুটি ছুটির দিনে তেহরানে ৫৬ টি দেশের প্রতিনিধিদের এক করেছিল, তা এক শেষ সম্মিলিত বিবৃতি গ্রহণের পর শেষ হয়েছে. এই সম্মেলনে অংশ গ্রহণ কারীরা পারমানবিক অস্ত্র প্রসার নিরোধ চুক্তি পালন করার প্রয়োজন সমর্থন করে বিশ্ব সমাজকে আহ্বান করেছেন সারা বিশ্বের সমস্ত দেশেরই শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি বিষয়ে অনুসন্ধানের অধিকার কে মেনে নিতে বলেছেন.

    এই চুক্তির মধ্যেই পারমানবিক অস্ত্র প্রসার নিরোধ চুক্তিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ ভাবে পারমানবিক শক্তি প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকারকে উল্লেখ করা হয়েছে. কিন্তু বেশ কয়েকটি দেশের কাজকর্ম আন্তর্জাতিক সমাজের উদ্বেগের কারণ হয়েছে, সত্যই কি তাদের পারমানবিক শক্তি বিষয়ে গবেষণা শুধুমাত্র নাগরিক উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে করা হয়েছে. এই রকম হয়েছে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনাকে নিয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমেত পশ্চিমের দেশগুলি ইরানের প্রতি এই বিষয়ে অনাস্থা প্রকাশ করেছে এবং তাদের পারমানবিক পরিকল্পনা বন্ধ করতে জোর করেছে. রাশিয়া, চীনের মতই আরও ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করতে চাইছে, আর সেই বিষয়ে আবারও এই সম্মেলনে উল্লেখ করেছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের একাডেমীর পূর্ব দেশ অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিন এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    "আমরা আপাততঃ এই রকম একটা ধারণা থেকে কাজ করছি যে, ইরান পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর কারী দেশ. ইরান কবে পারমানবিক বোমা তৈরী করবে এবং তাদের সেই রকম ক্ষমতা আছে কি না এই সবই আমরা শুধুমাত্র ধারণা হিসাবেই দেখছি. পশ্চিমের তরফ থেকে ইরানের প্রতি বর্তমানের যে রাজনৈতিক সক্রিয়তা, তাদের প্রতি নিষেধাজ্ঞার যে খড়গ মাথার উপরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসুবিধার কারণ হিসাবে ঝুলে রয়েছে. তা অবশ্যই তেহরানের পক্ষে গ্রহণ যোগ্য নয়".

    কিন্তু এই বিষয়ে বিশ্ব সমাজের সঙ্গে বিরোধে যাওয়া অবশ্যই ইরানের পরিকল্পনার মধ্যে নেই. তাই, যদিও তারা পরিকল্পনা গুটিয়ে ফেলতে অস্বীকার করছে, তার ওপরে মাহমুদ আহমাদিনিজাদ ১০ টি নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি করণের কারখানা নির্মাণের কথা সমর্থন করে বলেছেন যে, এই পারমানবিক পদার্থ তাদের দেশে শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ কারণেই প্রয়োজন. তাও নিজেদের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলন আহ্বান করতে বাধ্য হয়েছে. আর তা ওয়াশিংটনের পারমানবিক নিরাপত্তা নিয়ে শীর্ষ বৈঠকের অব্যবহিত পরেই. সেখানে তাদের ডাকা হয় নি. আগামী বছরেও এই রকম একটি সম্মেলনের কথা এখনই ঘোষণা করেছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ মন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ যে রকম উল্লেখ করেছেন যে, তেহরানের দিক থেকে এই ধরনের পদক্ষেপ তাদের পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে মনোভাবের গুরুত্ব সম্বন্ধে আবারও সবাইকে ওয়াকিবহাল করে দিয়েছে.

    শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই কাজকে কম ইতিবাচক বলে ভেবেছে, এমনকি তেহরানের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা তারা জারী করতে চায়, তাও তাদের কাছে ফল দায়ক বলে মনে হচ্ছে না. অংশতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রবার্ট গেইটস রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার নামে একটি পত্র পাঠিয়েছেন, যেখানে তিনি সাবধান করে দিয়েছেন যে, ইরানের পারমানবিক শক্তি বিষয়ে পরিকল্পনার জন্য বর্তমানের প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়. পেন্টাগনের মাথা মনে করেন যে, হোয়াইট হাউসের কাছে যথেষ্ট রকমের প্রভাব ফেলার মত কিছুই নেই, যদি ইরান কূটনৈতিক চাপের কাছে নত না হয়ে শেষ অবধি পরমাণু বোমা বানিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়. প্রসঙ্গতঃ ৬ই এপ্রিল প্রকাশিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমানবিক ডকট্রিনে বলা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর তখনই পারমানবিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে, যখন ইরানের পক্ষ থেকে সেই রকম আশঙ্কা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য থাকবে. সুতরাং সম্ভবতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর ইরানের দিক থেকে হামলার আশঙ্কা এবং ইরানের পরমাণু বোমা বানানোর বিষয়ে ইচ্ছা এই দুটির মধ্যে কোথায় সেই সীমারেখা রয়েছে, তা নির্ণয় করা, পেন্টাগনের প্রধানের বোধহয় উচিত হবে.

<sound>