কিরগিজিয়ার অস্থায়ী সরকার দেশের রাজনৈতিক কাঠামো বদল করতে চাইছে, বর্তমানে দেশের সংবিধান বদলানোর জন্য কাজ চলছে. ১৯শে এপ্রিল জনতার সামনে আলোচনার জন্য দেশের প্রধান আইনের খসড়া প্রকাশের প্রচেষ্টা করা হবে.

    মনে করা হয়েছে যে, এই সংবিধানের সেই অংশের বদল করা হবে, যেখানে দেশের রাষ্ট্রপতির, পার্লামেন্টের, প্রশাসনের কার্যকরী দপ্তরের ও আইন ব্যবস্থার ক্ষমতার প্রসঙ্গ রয়েছে. দেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধান রোজা ওতুনবায়েভা কিরগিজিয়া পার্লামেন্ট পরিচালিত প্রজাতন্ত্র যে হতে পারে, সেই সম্ভাবনাকে নাকচ করেন নি. এখানে বক্তব্য রাখা হয়েছে দেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভাবে হ্রাস করার এবং প্রশাসনকে পার্লামেন্টের বেশী নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা. শুধু এতেই থেমে না থেকে নতুন সরকার চায় আগামী ছয় মাস পরে দেশে পার্লামেন্ট ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে. বিশকেক থেকে ফিরে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি ইয়ান কুবিশ এই সংবাদ দিয়েছেন.

    এই ধরনের প্রশ্নের সামনে হওয়ার যুক্তি আছে, যদি কিরগিজিয়ার বর্তমানের পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য করা যায়. বাকিয়েভের প্রশাসনের পতনের কারণ শুধুমাত্র দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে উন্নতির বিষয়ে কিছু করতে না পারাই ছিল না, বরং দুর্নীতি, দলাদলি ও স্বজন পোষণ ও ছিল. বর্তমানে প্রয়োজন এই ধরনের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আইনের প্রাধান্যকে জারী করা. কিন্তু এটা কতটা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তরে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কনোভালভ বলেছেন:

    "খুব ভাল সংবিধান রচনা করা সম্ভব, কিন্তু তা দেশের ঐতিহ্য, অভ্যাস, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের ধারাকে পার করে কার্যকরী করা অত্যন্ত কঠিন. কুরমানবেক বাকিয়েভ ও ক্ষমতায় এসেছিলেন গণতান্ত্রিক ধুয়ো তুলে, কিন্তু কিছু করাই কঠিন, যদি গণতন্ত্রের মানে হয় একজন নেতাকে অন্য জন দিয়ে শুধু পাল্টানো. যে আবার স্বজন পোষণ করবে ও আগের নেতার নিজের লোকেদের জায়গায় নিজের লোকেদের বসাতে চাইবে. তাই আমি জানি না, এই সংবিধান বদলে ভাল হবে কি না, কিন্তু তাও এটা একটা সম্মুখ গতি – সংবিধান রচনা ও নেতার ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া".

    রাজনৈতিক কাঠামো বদল, অবশ্যই নতুন কিরগিজিয়ার সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের অংশ. তবু বর্তমানের কিরগিজিয়াতে এখনও অর্থনৈতিক সমস্যা অনেক বেশী, সমাজের বিভিন্ন দিকেও আশু মনোযোগ দেওয়ার জন্য অনেক বিষয় রয়েছে. আর নতুন নেতাদের প্রতি মনোভাব অনেকটাই নির্ভর করবে, তারা মানুষের ভালর জন্য কতটা করতে পারবেন. (sound)