রাশিয়ার উচিত্ ব্রিক ফরম্যাটে জি – ৮ দেশের সদস্য দেশ হিসাবেই যোগ দেওয়া. চার দেশের শীর্ষ বৈঠকের আগে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর সদস্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান ভাসিলি মিখিয়েভ এই মন্তব্য করেছেন. রেডিও রাশিয়া কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, নিরাপত্তা ও উন্নতির প্রশ্নে বিশ্বের সমস্যা প্রতিটি দেশকেই এখন বাধ্য করেছে শুধুমাত্র প্রতিযোগী নয়, এমন কি সহকর্মী দেশ হিসাবেও একে অপরকে দেখতে, এর মধ্যে শুধু ব্রিক সদস্য দেশগুলিই নয়, অন্যান্য দেশ গুলিও পড়ে.

    বিজ্ঞানীর মতে ব্রিক দেশগুলিরও জি ২০ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির মতই নিরাপত্তা ও উন্নতির প্রশ্নে অনুধাবনের মাত্রা একই ধরনের এবং তারাও একে অপরকে ছাড়া বাঁচতে পারবে না. একই সঙ্গে ভাসিলি মিখিয়েভ উল্লেখ করেছেন যে, ব্রিক সংস্থায় রাশিয়ার উচিত্ জি ৮ সদস্য দেশ হিসাবেই যাওয়া. এই রকমের একটি ধারণা আছে যে, রাশিয়াকে ব্রিক দেশের সহকর্মী দেশ হিসাবে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী তম দেশ গুলির ক্লাবে না দেখতে চেয়ে সেখান থেকে "ঠেলে বের করে" দিতে চাওয়া হয়েছে. কিন্তু বিগত দুই দশকের রাশিয়ার কূটনীতি বিষয়ে পরম্পরা রাশিয়াকে বাধ্য করেছে "ব্রিক""জি ৮" এই দুই ফোরামই রাশিয়ার জন্য আলাদা কারণে গুরুত্বপূর্ণ. ব্রাজিল শীর্ষ বৈঠকের বিষয়ে বলতে হলে, বিজ্ঞানী বলেছেন যে, রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হবে, কারণ এই বৈঠকের সময়ে নিরাপত্তা, ব্যাঙ্কের মধ্যে সহযোগিতা, কোঅপারেটিভ সহযোগিতা ইত্যাদি নিয়ে কথা হবে.

    চীন এই শীর্ষ বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আসছে এবং তারা চাইবে তাদের মডেলকে যেন এখানে সকলে সমর্থন করে. আর খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে কেন রাশিয়া কতটা চীনকে সমর্থন করবে.

    ব্রিক কাঠামোর মধ্যে সক্রিয় ভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতির প্রচেষ্টা হবে. আর রাশিয়ার প্রয়োজন প্রাথমিক ভাবে চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিকাঠামো ঠিক করা. এই বিশ্বাস নিয়ে ভাসিলি মিখিয়েভ বলেছেন:

    "২০০৪ সালে নিজের রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ভ্লাদিমির পুতিন এই দিকে অনেক গুলি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করেছিলেন. কিন্তু এই কাঠামো এখনও যথেষ্ট সফল ভাবে কাজ করছে না. অংশতঃ ব্রিক দেশ গুলির মধ্যে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের কাঠামো বিষয়ে প্রথমে চীনের সঙ্গে মতের মিল খুঁজতে হবে. তারপর তা ভারত ও ব্রাজিলের কাছে প্রস্তাব হিসাবে আনতে হবে, কারণ তারা এই প্রশ্নে খুব কমই উদ্যোগ প্রকাশ করেছে".

    বিনিয়োগ ক্ষেত্র ছাড়াও আরও অনেক দিক রয়েছে, যা ব্রিক সংস্থার দেশ গুলি তাদের সহযোগিতার মুখ্য বলে নিতে পারে. নিজের কয়েকদিন আগের প্রবন্ধে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ নির্দেশ করেছেন যে, পারমানবিক শক্তি, বিমান নির্মাণ, মহাকাশ গবেষণা ও তার ব্যবহার, ন্যানোটেকনোলজি এই সব ক্ষেত্রেই প্রসারিত ভাবে সহযোগিতা হতে পারে. চীনের নেতা হু জিন টাও এর মতে বিশ্বের সমস্যার মোকাবিলার জন্য তাদের জন্য ব্রিক সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার গভীরতা অবশ্য প্রয়োজনীয় বিষয়. এখানে শুধুমাত্র অর্থনীতি বা সঙ্কট পরবর্তী কালের উন্নয়নের কথাই নেই, বরং আরও আছে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা.

    বর্তমানের বিশ্বের সমস্যার মোকাবিলাতে এই রকমের বহুমুখী ও সহমতে আসা পথেই ব্রিক দেশ গুলি একটি অর্থনৈতিক সংগঠনের থেকে রাজনৈতিক সংগঠনে পরিবর্তিত হতে পারে. আর তার ফলে এটি বিশ্বের অর্থনীতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি প্রভাবশালী সংগঠনে পরিণত হতে পারবে. কারণ এই চারটি দেশের মোট জাতীয় উত্পাদনের পরিমাণ আজ বিশ্বের শতকরা ১৫ শতাংশ, তাদের বিশ্বের অর্থনীতিতে উন্নতির মোট হার শতকরা ৫০ শতাংশ এবং বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষই এই চারটি দেশে থাকে.