জানা গিয়েছে যে, মার্কিন রাষ্ট্রপতির ডাকা ওয়াশিংটনের পারমানবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত শীর্ষ বৈঠকের জায়গায় ভারতের প্রধান মন্ত্রী মনমোহন সিংহ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি দুবার দেখা করেছেন. কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় "এই স্বল্প সময়ের সাক্ষাত্কারে তাঁরা খালি সম্ভাষণ বিনিময় করতে পেরেছেন". ডঃ মনমোহন সিংহের ভাষায় ইসলামাবাদের মুম্বাই হামলার দোষী দের শাস্তি দিতে না চাওয়াই এর কারণ. আর তা না হলে ভারত পাকিস্থানের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না.

    বিষয়টি বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    সুতরাং পারমানবিক নিরাপত্তার বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয়েছে. অবশ্যই এই কারণে দুঃখ হয়. বিশেষত যখন এই শীর্ষ বৈঠকে অন্যান্য দেশেরা বহু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে. যেমন, একটি মূল্যবান তম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রাশিয়া আমেরিকার অতিরিক্ত সমরাস্ত্রের উপযুক্ত সমৃদ্ধ প্লুটোনিয়ামের উপযোগ নিয়ে প্রোটোকল স্বাক্ষর. এরপর অপ্রয়োজনীয় পারমানবিক অস্ত্রের কাঁচামাল বিদ্যুত শক্তি উত্পাদনে কাজে লাগবে, পারমানবিক বোমা বানানো হবে না. ইউক্রেন ও মেক্সিকো এই শীর্ষ বৈঠকে ঘোষণা করেছে যে, তাদের সমস্ত পারমানবিক সম্ভার থেকে তারা মুক্ত হবে. বেশ কয়েকটি দেশ ঠিক করেছে যে, পারমানবিক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রযুক্তি তৈরীর জন্য তারা বিশেষ ধরনের কেন্দ্র তৈরী করবে এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দেবে. ভারতও এই শীর্ষ বৈঠকে এই ধরনের আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার কেন্দ্র তৈরী করবে বলে ঘোষণা করেছে. কিন্তু এটি ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত এবং পাকিস্থান এক্ষেত্রে কোন ভাবেই নেই.ভারতের প্রতিনিধির ভাষায় এই কেন্দ্রের মূল কাজ হবে সন্ত্রাসবাদীরা যাতে গণ হত্যার অস্ত্র ব্যবহার করতে না পারে তার ব্যবস্থা করা.

    এই বিষয়ে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের কর্মী রাশিয়ার রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী ও পূর্ব্ব দেশ বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেন:

   "রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতির জন্য, দক্ষিণ এশিয়াতে এবং সারা বিশ্বেই রাশিয়ার জাতীয় স্বার্থের কারণে প্রধান অর্থবহ হতে পারে সেই শক্তি প্রয়োগ, যা আজকের দিনের বিশ্বে উদয় হওয়া যুযুধান মানসিকতার প্রশমণে সাহায্য করবে. আমি মনে করি সহমতে আসার পথ বার করতে হবে এবং কোন রকম চরম পন্থা নিলে চলবে না. শুধুমাত্র সুপ্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক চলতে পারে, কোন রকমের বিরোধ ভারত ও পাকিস্থানের মত পারমানবিক শক্তিধর দক্ষিণ এশিয়ার দেশের জন্য শুধু নয়, তাদের থেকে বহু দূরের জন্যও ক্ষতিকারক".

    দুঃখের কথা হল, ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে পারমানবিক শক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা আজ শুধু এই অঞ্চলের জন্যই বিপজ্জনক নয়, পারমানবিক যুদ্ধ হলে সারা বিশ্বের জন্যই তা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক. এই বিপদ আরও মারাত্মক, কারণ ভারত ও পাকিস্থান এখনও পারমানবিক অস্ত্র প্রযুক্তি প্রসারের বিরোধে যে চুক্তি তাতে স্বাক্ষর করেনি, যাতে আজ বিশ্বের বেশীর ভাগ দেশই স্বাক্ষর করেছে. তার ফলে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে পারমানবিক অস্ত্র পড়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে. পাকিস্থানে বহু সন্ত্রাস বাদী দল সক্রিয় ভাবে কাজ করছে, লস্কর এ তৈবার মত দল যারা আল কায়দার সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত এবং আফগান সীমান্তের কাছে গত এক বছর ধরে ক্রমাগত পাকিস্থানের সরকারি ফৌজের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত তালিবানের মত দলেরা চেষ্টা করছে এই অস্ত্র হাতে পেতে. যদিও পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি বারাক ওবামাকে আস্বস্ত করেছেন যে, পাকিস্থান তাদের পারমানবিক অস্ত্র সন্ত্রাসবাদীদের হাতে পড়তে দেবে না, তবু যথেষ্ট হবে পাকিস্থানের বিজ্ঞানী পরমাণু বিশেষজ্ঞ আবদুল কাদের খানের ইরান, লিবিয়া ও আরও কয়েকটি দেশকে পারমানবিক গোপন তথ্য দেওয়ার স্ক্যাণ্ডালের কথা মনে করলেই.

    এই সব আরও নানা সমস্যা দূর করতে হলে, গণহত্যার অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে হলে উচিত হবে দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরী করার. এটা না হলে সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে না.