পারমানবিক নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে শীর্ষ বৈঠক যথেষ্ট সাফল্য মণ্ডিত হয়েছে. ৪৭ টি দেশের নেতাদের জড়ো করে এই আন্তর্জাতিক ফোরামের মান নির্ধারণ করে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ এই মন্তব্য করেছেন. একই রকমের ধারণা এই সম্মেলনের অন্যন্য প্রতিনিধিরাও করেছেন. এই বৈঠকের শেষে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা বলেছেন যে, আমাদের বিশ্ব আরও নিরাপদ হয়েছে.

    এই রকম উচ্চ মান নির্ধারণের জন্য সমস্ত ভিত্তি আছে. ওয়াশিংটন শীর্ষ বৈঠকের ফল হয়েছে একটি দলিলে স্বাক্ষর, যার অর্থ হল এই সম্মেলনে যোগদান কারী সমস্ত দেশই আগামী চার বছরের মধ্যে নিজেদের পারমানবিক পদার্থ নিরাপদ ও সুরক্ষিত করার বিষয়ে সমস্ত রকমের ব্যবস্থা নেবে, যাতে তা সন্ত্রাসবাদী দের হাতে না পড়ে. এই প্রসঙ্গে বেশ কিছু দেশ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে তারা কিভাবে এই লক্ষ্য পূরণের জন্য কাজ করবে. যেমন, ইউক্রেন ও মেক্সিকো ঠিক করেছে চিলির উদাহরণ অনুসরণ করে দেশের সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সংগ্রহ নষ্ট করে ফেলবে. কানাডা তার সংগ্রহের অনেক খানি বাদ দেবে বলে ঠিক করেছে.

    এই ফোরামের একটি প্রধান ফল হয়েছে রাশিয়া ও আমেরিকা একটি সংযুক্ত প্রোটোকলে স্বাক্ষর করেছে, যার ফলে অতিরিক্ত সমরাস্ত্রের উপযুক্ত প্লুটোনিয়াম উপযোগ করে ফেলবে. এই দলিল অনুযায়ী দুই দেশই নিজেদের রিয়্যাক্টরে ৩৪ টন করে এই বিপজ্জনক পদার্থ পুড়িয়ে ফেলবে, এই পরিমান যথেষ্ট হত বেশ কয়েক হাজার যুদ্ধাস্ত্র তৈরী করার জন্য.

    সব মিলিয়ে এই শীর্ষ বৈঠকের অংশগ্রহণ কারীরা সকলে একমত হয়েছেন যে, বিশ্বের আরও বড় মাপের নিরাপত্তার জন্যই নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়াকে আরও সক্রিয় করা দরকার. এই বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিদ ও নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যাখ্যা করে বলেছেন. রেডিও রাশিয়ার সংবাদ দাতা মিখাইল কুরাকিন এই বিষয়ে ঘটনা স্থল থেকে যা পাঠিয়েছেন তা হল:

    "ওয়াশিংটনে থেকে দিমিত্রি মেদভেদেভ ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটে বক্তৃতা দিয়েছেন. এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অন্যতম বৃহত্ ও প্রভাবশালী ইনস্টিটিউট, যা বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধানের কাজ করে, তার মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয় ও রয়েছে. এই ক্ষেত্রই  সেই মঞ্চ হয়েছে, যেখান থেকে রাশিয়ার নেতা তাঁর বিশ্বের বৃহত্তম সমস্যা গুলি সম্বন্ধে তাঁর ধারণার কথা জানিয়েছেন".

    রাশিয়া ও আমেরিকার পারস্পরিক কর্মের একটি বড় অংশই হল আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি. সবচেয়ে ভরসা যোগ্য এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা রক্ষার জন্যই আমরা ইউরোপীয় নিরাপত্তা চুক্তির উদ্যোগ নিয়ে অগ্রসর হয়েছি. তিনি বলছেন:

    "এই চুক্তি কোন সংস্থারই বিরুদ্ধে নয়. এটি রুশ দের কোন চালাকির প্যাঁচ নয় ন্যাটো বা ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংস্থার বিরুদ্ধে. আমরা শুধু বর্তমানের ইউরোপীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থায় আরও বেশী কার্যকর আইন সঙ্গত উপকরণ যোগ করতে প্রস্তাব করেছি".

    প্রসঙ্গতঃ রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর শেষ বারাক ওবামার সঙ্গে আলোচনা কোন বিশ্বের নিরাপত্তা নিয়ে হয় নি, হয়েছে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রশ্নে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি স্বীকার করেছেন যে, রুশ আমেরিকান সম্পর্কের এই দিকটি খুব একটা উন্নত নয়. কিন্তু বিগত কিছু কা ধরে এই বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে. মেদভেদেভ আশ্বাস দিয়েছেন যে, আমেরিকার ব্যবসায়ের সফল কাজ কর্মের জন্য রাশিয়াতে সমস্ত রকমের ব্যবস্থা তৈরী করা হবে.

    দিমিত্রি মেদভেদেভ ইরান প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাননি, তিনি ঘোষণা করেছেন যে, এই দেশের পারমানবিক পরিকল্পনা সারা বিশ্ব সমাজের জন্যই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরী করেছে. তিনি নিষেধাজ্ঞা জারী করাকে বাদ দেন নি. কিন্তু রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির মতে, সেগুলি হতে হবে খুবই নিখুঁত ভাবে ওজন করে এবং কোন ক্রমেই দেশের নাগরিক দের যেন তার ছোঁয়া না লাগে. এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন:

    "আমি সেই "অচল করে দেওয়া" নামের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে নই, যা দেশের মানুষকে কষ্ট পেতে বাধ্য করে. প্রথমতঃ এটা নৈতিকতার বিরোধী, দ্বিতীয়তঃ এর ফলে উল্টো এবং অত্যন্ত  বিপজ্জনক ফল পাওয়া যায়. ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা যেন বুদ্ধিমত্তা পূর্ণ হয়, সবার জন্য একই ধরনের হয়, এই প্রশ্নে নিযুক্ত প্রধান সদস্য দেশ গুলির সঙ্গে তার বিষয়ে যেন আলোচনা করা হয় যাতে একটি মাত্র ফলই পাওয়া যায়. সেই কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়ার উপর নির্ভর করে না, এমন কি চীন ও লাতিন আমেরিকার উপরও নির্ভর করে. এই প্রশ্নে সকলের একমত হওয়ার পরে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, শুধু তা থেকেই ফল পাওয়া যেতে পারে".

    আফগানিস্থান, কিরগিজিয়া, মস্কো মেট্রো তে সন্ত্রাসবাদী হানা, বারাক ওবামার সঙ্গে এস এম এস বিনিময়, কোনটাই রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ মনোযোগ দিতে বাকী রাখেন নি. তিনি খুবই খোলাখুলি ভাবে উত্তর দিয়েছেন এবং আমেরিকার সমাজের আগ্রহের সমস্ত প্রশ্নের উত্তরই দিয়েছেন যথেষ্ট বড় করে. আর তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই কথাবার্তা আমেরিকার লোকেদের রাশিয়াকে ভাল করে বুঝতে সাহায্য করবে.

<sound>