ওয়ারশ শহরে রাষ্ট্রপতি ভবনে পোলিশ রাষ্ট্রপ্রধান লেখ কাচিনস্কি ও তাঁর স্ত্রী মারিয়ার মর দেহে শ্রদ্ধা অর্পণ শুরু হয়েছে. খুব সম্ভবতঃ এই প্রাসাদের দরজা রাতেও বন্ধ করা হবে না – এতই বেশী সংখ্যক শোক মিচেলে লোক এসেছেন, যাঁরা চান তাঁদের নিহত রাষ্ট্রপতিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে. পোল্যান্ডের নেতৃত্ব স্থানীয় লোকেদের কবে কবর দেওয়া হবে, তা এখনও সঠিক করে জানানো হয় নি, কিন্তু আপাততঃ মনে করা হয়েছে যে, ১৮ই এপ্রিল রবিবারে হতে পারে.

    এই মুহূর্তে স্মোলেনস্ক উপকন্ঠে দুর্ঘটনায় নিহত ৯৬ জনের মধ্যে ৪৫ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে. কাতীনের স্মৃতি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি লেখ কাচিনস্কি সস্ত্রীক পোল্যান্ডের রাজনৈতিক, সামরিক, ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে আসছিলেন, তাঁর বিমান অবতরণের সময় ধ্বংস হয়ে যায়. কেউ বেঁচে নেই.

    পোল্যান্ডের লোকেদের শোক এই ট্র্যাজেডিতে বিহ্বল রাশিয়ার লোকেরা ভাগ করে নিয়েছে. হাতে গোনা কয়েক ঘন্টার মধ্যে মস্কোয় পোলিশ দূতাবাসের সামনের রাস্তা ফুলে ভরে উঠেছিল. রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ১২ ই এপ্রিলকে জাতীয় শোক দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন. দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে নিহতদের আত্মীয়দের জন্য ভিসার বন্দোবস্ত সহজ তম করা হয়েছিল – সমস্ত কাজই মস্কো এয়ার পোর্টে নামা মাত্র করা সম্ভব হয়েছে. হোটেলে থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও অনুবাদক সঙ্গে দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন রাজধানী মস্কোর প্রশাসন.

    পোলিশ লোক ও দেশের নেতৃত্ব রাশিয়ার পক্ষ থেকে সক্রিয় ভাবে দুর্ঘটনা স্থলে খোঁজ ও উদ্ধারের কাজ এবং তার পরের সমস্ত কাজ কর্মকে উচ্চ মূল্যায়ণ করেছেন. এই সবার বিপদের দিনে এমনকি কাতীনের ট্র্যাজেডির ছায়া, যা এত দিন ধরে মস্কো ও ওয়ারশ দুই রাজধানীর সম্পর্ককে অনুজ্জ্বল করে রাখত, তাও খানিকটা ম্লান হয়ে গিয়েছে. রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়ার তরফ থেকে আন্তরিক সমবেদনা সেই অবিশ্বাস কে ধ্বংস করেছে, যা এতকাল দুটি দেশের মধ্যে ছিল.

    বিগত অনেক কাল ধরেই লেখ কাচিনস্কি কাতীন সম্বন্ধে যথেষ্ট কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন. অবশ্যই তাঁর এই অবস্থান মস্কো ও ওয়ারশর সম্পর্কের মধ্যে এক অন্তরায় হয়েছিল. কিন্তু তিনি এই দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কিছু আগে তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন. এটা তাঁর কাতীনের অনুষ্ঠান উপলক্ষে লেখা ভাষণ থেকে বোঝা গেল, যা তিনি আর দিতে পারলেন না. এই ভাষণের কিছু অংশ উদ্ধৃত করা যাক: "কাতীন পোল্যান্ডের ইতিহাসে এক বেদনা দায়ক ক্ষত হয়েছিল এবং বহু বছর ধরেই রাশিয়া ও পোল্যান্ডের সম্পর্ককে তা বিষাক্ত করেছিল. চলুন এমন করা যাক, যাতে কাতীনের ক্ষত শেষ অবধি সেরে উঠতে পারে, শুকিয়ে যেতে পারে. আমরা আর সেই পথকে ফেরাতে পারবো না. আমরা পোল্যান্ডের লোকেরা, বিগত কিছু বছরে রুশী লোকেরা যা করেছে, তার মূল্য দিয়ে থাকে. আর এই পথ দিয়ে, যা আমাদের দুই দেশের মানুষদের কাছাকাছি হতে সাহায্য করে, আমরা এগিয়ে চলতে চাই, না থেমে এবং পিছনে না হঠে গিয়ে".

         এখন শুধু আশা করব, এই না দেওয়া ভাষণের কথা নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদেরা এবং সমাজের নেতারা, যারা নিহতদের জায়গা নেবেন, তাঁরা এক ধরনের উইল হিসাবে নেবেন. আর পোল্যান্ড ও রাশিয়ার দেশের লোকেরা, যাদের আজ সকলের শোক এসে ছুঁয়েছে, তাঁরা পরবর্তী কালেও একসাথে থাকবেন.