৪৯তম বার রাশিয়াতে মহাকাশ বিজ্ঞান দিবস পালিত হচ্ছে. শৈশব থেকেই বহু প্রজন্ম ধরে রাশিয়ার লোকেরা জানেন যে, ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল মানুষ প্রথম মহাকাশে উড়ে গিয়েছিল. এই দিনে ঐতিহ্য মেনে বিশ্বের লোকেরা মনে করেন সেই সব লোকেদের. যাঁদের ছাড়া ইউরি গাগারীনের পৃথিবীর চারদিকে মহাকাশ পরিভ্রমণ সম্ভব হত না.

মহাকাশ শব্দের সাথে অটুট ভাবে জুড়ে গিয়েছে একটি নাম – সের্গেই পাভলোভিচ করোলিয়ভ. সোভিয়েত দেশের রকেট – মহাকাশ প্রযুক্তি ও মিসাইল অস্ত্রের উত্পাদনের মূলে ছিলেন এই বিখ্যাত সোভিয়েত বিজ্ঞানী ও নির্মাতা. মহাকাশ দিবসে এই মহান ব্যক্তির কথা মনে করেছেন ইউরি গাগারীনের উড়ানের প্রকল্পের একজন সদস্য ও প্রযোজনা কারী এবং মিশন কন্ট্রোল (এম. সি. সি.)সেন্টারের এক অগ্রণী অনুসন্ধান ও বিকাশ কর্তা ভালেরিয়ান স্কোরনিয়াকভ. তিনি বলেছেন:

"তিনি একজন মানুষ হিসাবে অসাধারন গুণের জন্য বিখ্যাত ছিলেন: মানুষের প্রতি তাঁর মনোযোগ, লোকের দেখাশোনা করা, সেবা, ইচ্ছা ও সাহায্য করার প্রচেষ্টা তাঁর ছিল একেবারে আলাদা. আমি এই রকম এক সমস্যায় পড়েছিলাম, আমার নিজের ভাগ্নে, বাচ্চা ছেলে, তার খুব গভীর অসুখ হয়েছিল, বাস্তবে প্রায় মৃত্যু শয্যায় ছিল. আমি সের্গেই পাভলোভিচের কাছে সাহায্যের প্রত্যাশায় গিয়েছিলাম. করোলিয়ভ দেরী না করে তাকে ক্রেমলিনের হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর এর ফলে আমার ভাগ্নের জীবন রক্ষা পেয়েছিল".

স্কোরনিয়াকভ মনে করেন করোলিয়ভ মারা যাওয়ার পরে ৪০ বছর কেটে গেছে কিন্তু মহাকাশ বিজ্ঞানে একেবারে নতুন বিশেষ কিছু হয় নি. একই সঙ্গে বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে, দেশের অন্তরীক্ষ বিজ্ঞানের বিষয়ে বৃহত্ সাফল্যের সম্ভাবনা এখনও ভবিষ্যতের বাঁকে লুকিয়ে আছে. অংশতঃ ভবিষ্যতের মহাকাশ যানের সৃষ্টির কথা বলা হলে. এই নিয়ে কাজ চলছে খুবই গোপনীয় ভাবে. কিন্তু জানা আছে যে, আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে প্রথম পরীক্ষা মূলক যাত্রা শুরু হতে পারে, এনার্জী মিসাইল- মহাকাশ কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট ভিতালি লপতা বলেছেন:

"আমরা নতুন গঠন খুঁজতে বাধ্য, আর আমরা তা ইতিমধ্যেই পেয়েছি. এই গঠন মনে করিয়ে দেয় মাঝামাঝি অর্ধেক করে দেওয়া কৌণিক লাট্টুর গঠন. এই মহাকাশ যান আরও প্রযুক্তি গত ভাবে আধুনিক এবং তৈরী করতে সহজ হবে, তাতে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের নির্মাণের বস্তু ব্যবহার করা হবে. কারণ মহাকাশ যান যখন তার প্রাথমিক মহাকাশের গতি নিয়ে আমদের বিশ্বের বায়ু মন্ডলে প্রবেশ করে তখন প্রায় দিই থেকে আড়াই হাজার ডিগ্রী গরম হয়ে ওঠে. কোন রকম মৌল, কোন রকম ধাতু এই রকম তাপ সহ্য করতে পারে না. তার ওপরে ব্যবহার করা হবে নানা ধরনের মাটিতে অবতরণের ব্যবস্থা – অর্থাত্ প্যারাশুট কিম্বা প্রতিক্রিয়া কারী ব্যবস্থা ব্যবহার করে".

বর্তমানে অন্তরীক্ষ অভিযান – একটি সারা বিশ্বের যৌথ প্রচেষ্টার প্রকল্প. এর অস্তিত্ব আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া করা সম্ভব হবে না. লোকসভার সদস্য আন্দ্রেই ককোশিন এই বিষয়ে একমত হয়ে এই মন্তব্য করেছেন. এখানে বৃহস্পতি ও চন্দ্রে পাইলট সহ মহাকাশ যান পাঠানোর কথা হচ্ছে, চাঁদে মহাকাশ স্টেশন খোলার কথা হচ্ছে. কারণ চাঁদ পৃথিবীর জ্বালানীর চাহিদা মেটানোর জন্য খুবই প্রয়োজনীয় উত্স হতে পারে.

আধুনিক অন্তরীক্ষ বিজ্ঞানীরা করোলিয়ভের অমর প্রবাদ বাক্যে পরিণত হওয়া কথার প্রতি লক্ষ্য করে চলতে পারেন – "জলের তলায় রকেট – অসম্ভব, কিন্তু সেই কারণেই আমি এটা নিয়ে কাজ করব". যদিও জানাই আছে যে, বিশ্বের সমস্ত বৃহত্ প্রকল্পই স্বপ্ন থেকে বাস্তবে আসে.