সোমবার ১২ই এপ্রিল রাশিয়াতে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস ঘোষিত হয়েছে. রাশিয়ার লোকেরা স্মোলেনস্ক শহরের কাছে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত দের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করছে, এই দুর্ঘটনাতে ৯৬ জন পোলিশ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন. দেশের রাষ্ট্রপতি লেখ কাচিনস্কি ও তাঁর স্ত্রী মারিয়া, অন্যান্য প্রতিনিধি দলের লোকেরা, যাঁরা পোল্যান্ড দেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে ছিলেন, তাঁরা সকলেই এই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন.

    দুর্ঘটনার দিন ১০ই এপ্রিল, পোল্যান্ডের জনগণের উদ্দেশ্য দেওয়া এক ভাষণে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করে বলেছেন:

"প্রিয় বন্ধুগণ, শ্রদ্ধেয় পোলিশ প্রজাতন্ত্রের নাগরিকেরা. রাশিয়া এই ভয়ঙ্কর শোক পূর্ণ ঘটনায় কম্পিত হয়েছে. এই দিন গুলিতে আমরা সমবেত ভাবে কাতিনে স্মৃতি অনুষ্ঠান করছিলাম. লেখ কাচিনস্কি রাশিয়া আসছিলেন ব্যক্তিগত ভাবে নিহত পোলিশ অফিসারদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রকাশ করতে, একজন রাষ্ট্রপতি হিসাবে ও একজন পোল্যান্ডের নাগরিক হিসাবে. সমস্ত রাশিয়ার লোকেরাই আপনাদের সঙ্গে নিহত দের জন্য শোক ও শ্রদ্ধা ভাগ করে নিচ্ছেন".

    সত্যই সেই প্রথম মুহূর্ত থেকেই, যখন ট্র্যাজেডির খবর এসেছে, মস্কোর রাশিয়ায় পোল্যান্ডের রাজদূতাবাসে, সেন্ট পিটার্সবার্গে, কালিনিনগ্রাদে, ইরকুতস্কের কনস্যুল দপ্তর গুলিতে লোকেরা ফুল এবং তর্পণের মোমবাতি নিয়ে ক্রমাগত এসেছেন, সাধারণত সাদা ও লাল কার্নেশন ফুল নিয়ে  - পোল্যান্ডের জাতীয় পতাকার রঙের. মস্কোর কেন্দ্র স্থলে পোলিশ রাজদূতাবাসের সামনে বিশেষ নীরবতা পালিত হচ্ছে. জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত. দূতাবাসে ঢোকার মুখে লেখ কাচিনস্কি ও তাঁর স্ত্রী মারিয়ার ছবি, কালো শোকের ফিতে দিয়ে কোনাতে মোড়া. মস্কোর নাগরিকেরা পোল্যান্ড দূতাবাসের ভিতরে শোক প্রকাশের জন্য রাখা খাতাতে নিজেদের গভীরতম সমবেদনার কথা লিখে এসেছেন. অনেকেই কাছের দেবী মারিয়ার স্বর্গীয় সন্তান সম্ভাবনার উদ্দেশ্যে নিবেদিত ক্যাথলিক ক্যাথেড্রালে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন. রবিবারে এই খানে ও রাশিয়ার আরো সমস্ত ক্যাথলিক গির্জাতে পোলিশ ভাষায় প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছিল. চার্চ থেকে বেরোনোর মুখে মস্কোর এক নাগরিক মিখাইল লায়েভস্কি রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিককে বলেছেন:

         "ভয়ানক ট্র্যাজেডি. নিজের প্রজাতির নিহত লোকেদের জন্য খুবই চিন্তা করেছি এবং এখনও চিন্তা হচ্ছে. আমি যে রাশিয়ায় থাকা পোলিশ লোক".

    এক ছাত্রী আলিওনা বগদানোভা, খুবই চিন্তিত ভাবে রেডিও রাশিয়ার শ্রোতাদের কাছে কেন সে পোল্যান্ডের রাজদূতাবাসে এসেছে তা ব্যাখ্যা করেছে…

    "আমাকে পোল্যান্ডের সঙ্গে যোগ করার মত একেবারে কিছুই নেই. শুধু এটা আমার একটা ইচ্ছা কোন রকম ভাবে তাদের কে একটু সাহারা দেওয়ার, যাদের এখন খুবই মনে কষ্ট হয়েছে. আমার মতে, বিষয়টা কোন বিশেষ দেশের নয়, বিষয়টা সমস্ত মানব জাতির, কারণ সবাই সব জায়গাতেই একই রকম অনুভূতি প্রবণ. আমার মতে, বর্তমানে কোন একটি জাতি হিসাবে ভাগ করার আর কোন দরকার নেই, কোন সীমান্তের প্রয়োজন নেই… আমরা সবাই মানুষ. সমস্যা যে কোন লোকেরই হতে পারে".

    রাশিয়ার প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল, যিনি বর্তমানে ইজিপ্ট সফরে গিয়েছেন, তিনি নিজের শোক বার্তাতে পোলিশ প্রতিনিধি দল যাঁরা কাতিনে আসছিলেন তাঁদের মিশন কে "ধর্মীয় প্রবজ্যা" নাম দিয়েছেন. যাত্রীদের তালিকা অনুযায়ী এই বিমান দুর্ঘটনাতে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১০ জন পোল্যান্ডের যাজক ছিলেন. তিনি বলেছেন:

    "আমরা সেই সব লোকেদের জন্য প্রার্থনা করব, যাঁরা আজ নিহত. আর আমরা বিশ্বাস করি যে, কাতিনে এরপর থেকে শুধুমাত্র নির্দোষ মৃত লোকেদের স্মৃতির প্রতিই শ্রদ্ধা জানানো হবে না, আরও যাঁরা এঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এই "ধর্মীয় প্রবজ্যা" করতে এসে মারা গেলেন, তাঁদের স্মৃতিতেও শ্রদ্ধা জানানো হবে".

    রাশিয়ার প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল রাশিয়া শোক দিবসের প্রাক্কালে বিখ্যাত পোলিশ চলচ্চিত্র পরিচালক আঞ্জেই ভাইদার তোলা চল্লিশের দশকে পোলিশ অফিসারদের গণহত্যা নিয়ে সিনেমা কাতিন দেখিয়েছে, এঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই নিহতরা সকলে আসছিলেন. এই দিনে স্মোলেনস্ক শহরে পবিত্র উস্পেনস্কি ক্যাথেড্রাল গির্জাতে স্মৃতি তর্পণ করে প্রার্থনা হয়েছে. এই প্রার্থনা পরিচালনা করেছেন স্মোলেনস্ক ও ভিয়াজমার বিশপ থিওফিল্যাক্ট. তিনি বলেছেন: "আমরা পোল্যান্ডের নাগরিকদের সাথে একত্রে শোক প্রকাশ করছি, আমরা প্রার্থনা করছি সমস্ত নিহতদের আত্মার শান্তি হোক".

<sound>