রাশিয়ায় এবং আরও একসারি দেশে আজ শোক দিবস পালিত হচ্ছে বিমান দুর্ঘটনায় পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি লেখ কাচিনস্কি এবং পোল্যান্ডের অন্যান্য নেতার মৃত্যু উপলক্ষে. স্মোলেনস্কের উপকন্ঠে ১০ই এপ্রিল সকালে পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতির বিমানের দুর্ঘটনা হয়. প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির বিমান অবতরণের সময় ঘন কুয়াশার জন্য গাছের মাথায় লেগে মাটিতে পড়ে ভেঙ্গে পড়ে. বিমানে ছিল ৯৬ জন- ৮৮ জন যাত্রী এবং আট জন বিমান-কর্মী. নিহত হন- রাষ্ট্রপতি নিজে, তাঁর স্ত্রী মারিয়া, উচ্চপদস্থ সরকারী ব্যক্তি এবং একসারি সামরিক অধিনায়ক. তাঁরা যাচ্ছিলেন কাতীনে, রাজনৈতিক দমনের শিকারদের একক সমাধিস্থলের জায়গায় শোক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ এ বিপর্যয়কে ভয়ঙ্কর, দৃষ্টান্তহীন বলে অভিহিত করেন. পোল্যান্ডের জনগণের প্রতি আবেদনে মেদভেদেভ বলেন, সমস্ত রাশিয়াবাসী আপনাদের দুঃখ ও শোকের অংশভাগী. রাষ্ট্রপতি প্রতিশ্রুতি দেন যে, এ বিপর্যয়ের গোটা পরিস্থিতি অতি বিশদে তদন্ত করা হবে পোল্যান্ডের পক্ষের সাথে ঘনিষ্ঠ পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ চালিয়ে. বিপর্যয়ের কারণ নির্ধারণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় কমিশনের নেতৃত্ব করছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন. রাশিয়া পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি লেখ কাচিনস্কিকে অন্তিম শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে. বিদায়ী সমারোহ অনুষ্ঠিত হয় স্মোলেনস্কের সামরিক বিমান-বন্দরে. তাতে অংশগ্রহণ করেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ায় পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ইয়েঝি আর্তুর বার. তারপর পোল্যান্ডের গার্ড অফ অনার দেওয়া সৈনিকরা তাদের রাষ্ট্রপতির কফিন নিয়ে তোলে পোল্যান্ডের বিমান বাহিনীর বিমানে. তার দু ঘন্টা বাদে এ বিমানটি নামে ওয়ারশ-র "ওকেনছে" বিমানবন্দরে. নিহতদের সনাক্ত করার জন্য মস্কোয় আসছেন তাদের আত্মীয়-স্বজনেরা. দমোদেদোভা বিমানবন্দরে বিপর্যয় নিরসন বিভাগের মনস্তত্ববিদরা এবং ডাক্তাররা ডিউটি দিচ্ছে. মস্কোর সরকার তাঁদের থাকা-খাওয়ার সমস্ত খরচ এবং সমাধিস্থ করার খরচ বহণ করবে. নিহতদের আত্মীয়স্বজনদের বেশির ভাগকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে "রেনেসাঁ" নামে হোটেলে.