বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাঙ্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা"র বিশেষজ্ঞরা আস্থা প্রকাশ করেছেন যে রাশিয়ার অর্থনীতিতে বিশাল পরিবর্তন আসতে চলেছে.

    এই ব্যাঙ্কের এক কর্তা ডেভিড হোনের তার রিপোর্টে সমর্থন করেছেন যে, রাশিয়ার ২০১০ সালে সার্বিক জাতীয় উত্পাদনের হার শতকরা ৭ ভাগ বৃদ্ধি হবে. আর এই হার প্রমাণ করে দিয়েছে যে, রাশিয়া বিশ্বের অন্যান্য অর্থনীতির চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছে. ২০১১ সালের শুরুতেই রাশিয়ার অর্থনীতি বিশ্ব সঙ্কটের আগের স্তরে ফিরে আসতে পারবে. এই রকম বৃদ্ধির হারের কারণ হিসাবে অর্থনীতিবিদ বলেছেন যে, ক্রমবর্ধমান কাঁচা মালের চাহিদা ও বাজারের সুবিধাজনক পরিস্থিতি. অন্যান্য সূচক যে গুলি অর্থনৈতিক উন্নতির সম্ভাব্য উড়ানের প্রমাণ দেয়, তার মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন খুচরো বিক্রীর হার বৃদ্ধি, বেকারত্ব কম হওয়া এবং কোম্পানী গুলির জিনিসের গুদাম ভর্তি হয়ে ওঠা. এই ৭ শতাংশ অবধি বৃদ্ধির সম্ভাবনা আরও একটি বৃহত্ আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক "মেরিল লিঞ্চ" জানিয়েছে. আর সেটাও তেলের দামের সঙ্গে আবার যোগ করে.

         রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় নিজেদের মূল্যায়নে অনেকটাই বিনয়ী. দেশের প্রধান অর্থনৈতিক দপ্তরের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী দেশের জাতীয় উত্পাদনের হার বৃদ্ধি শতকরা ৩ শতাংশ বলা হয়েছে. কিন্তু বিষয় শুধু এটাই নয়. তেলের দাম – একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আর তার বৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকের উপর প্রভাব ফেলে, কিন্তু আমরা বোধহয় নতুন অর্থনৈতিক আশ্চর্যের সামনে সাক্ষী হতে পারবো না – এই কথা বলে দেশের রুশ ব্যবসা পরামর্শ নামের সংবাদ সংস্থার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার ইয়াকভলেভ মন্তব্য করেছেন:

    সম্ভবতঃ আমরা অন্য অনেক অর্থনীতির চেয়ে ভাল অবস্থায় আছি, কিন্তু "তেলের বুদ্বুদ" যা আবার ফোলানো হচ্ছে তা বাস্তব থেকে আলাদা এবং যে কোন মুহূর্তেই ফাটতে পারে, তার ফল তত্ক্ষণাত রাশিয়ার অর্থনীতিতে পড়বে.

    আমেরিকার নাম করা বিশেষজ্ঞরা অদূর ও আগামী সব বছরের জন্য এই রকম সব রঙীণ সম্ভাবনার কথা বলেও আলাদা করে উল্লেখ করতে ভোলেন নি যে, রাশিয়ার অর্থনীতি ও জাতীয় রাজনীতি এখনও কাঁচা মাল নির্ভর. কিন্তু ২০০৮ সালের সঙ্কট ও তেলের দাম খুব কমে যাওয়া পরিষ্কার করে দেখিয়েছে যে, এমনকি খুবই বাস্তব নির্ভর ভবিষ্যদ্বাণী কেও খুবই সমালোচকের দৃষ্টিতে দেখা উচিত. আর তা কখনোই অর্থনৈতিক উন্নতির পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার করা ঠিক হবে না. এই বিষয়েই একাধিক বার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ সাবধান করেছেন. অংশতঃ তোমস্ক শহরে কয়েকদিন আগে ছাত্রদের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে তিনি সোজাসুজিই বলেছেন যে, রাশিয়ার বর্তমানের প্রধান কাজ হল – অর্থনীতির আধুনিকীকরণ এবং দেশের সামাজিক ব্যবস্থা পাল্টানো. যা করা দরকার নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী প্রকৌশল কাজে লাগিয়ে. আর প্রধান অর্থনৈতিক সমস্যা হল – কাঁচামালের উপর নির্ভরতা. এই বিষয়টা আধুনিক বহু দিকে প্রসারিত মডেল দিয়ে বদলাতে হবে, আর কার্বন যৌগ সম্বন্ধে রাশিয়ার নেতার বক্তব্য হল যে, তিনি বিশ্বাস করেন যে, সময় এসেছে আগামী প্রজন্মের জন্য তা সংরক্ষণের. তা ছাড়া দেশে আধুনিকীকরণের জন্য বেশ কিছু জাতীয় প্রকল্প চালু করা হয়েছে এবং স্কোলকোভা শহরে তথাকথিত রাশিয়ার "সিলিকন ভ্যালি" চালু করার ফলে রুশ বুদ্ধিজীবি দের বাজার ভাল হওয়ার সম্ভাবনা খুব খারাপ নয়, যা এমন কি আমেরিকার জন্যও অর্থনৈতিক উন্নতির ভিত্তি.

    তার ওপরে বড় ব্যবসা বলতে বর্তমানে কাঁচা মাল বিক্রী করার কোম্পানী যারা, তারাও বর্তমানে রাষ্ট্রপতির পরিষ্কার সঙ্কেত বুঝতে পেরেছে যে, সময় হয়েছে দেশকে তার প্রাপ্য ঋণ ফেরত দেওয়ার. কিন্তু তার জন্য অর্থ ফেরত নয়, প্রয়োজন শিক্ষা ও নিজেদের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করার.  এর মানে হল  - ভবিষ্যতে কাঁচা মালের উপর না নির্ভর করে উন্নতি, পরিষ্কার দেখাই যাচ্ছে যে, দেশের সরকার দরকার বোধ করেছে উদ্ভাবনী অর্থনীতির এবং তৈরী হয়েছে এর জন্য আবার একটি ভাল সময়কে ব্যবহার করতে. প্রসঙ্গতঃ আমেরিকার অর্থনীতি বিদেরা এই বিষয়টা কেন জানি দেখতে চাইছেন না, তারা আগের মতই রাশিয়াকে তাদের ভবিষ্যদ্বাণী করার সময়ে খালি তেলের সঙ্গেই যোগ দিয়ে দেখেন.