রাষ্ট্রসংঘের আবহাওয়া সংক্রান্ত কনভেনশনের সদস্য দেশ গুলির প্রতিনিধি দলের পূর্ব সূচী ছাড়াই যে অধিবেশন হতে চেলেছে, তার দিকে আন্তর্জাতিক সমাজ আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে. জার্মানী বন শহরে আগামী ৯ থেকে ১১ এপ্রিল ১৯৪ দেশের প্রতিনিধিরা যে সম্মেলনে যোগ দিতে চলেছেন, তা বিশ্বে তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা প্রক্রিয়ায় এক বড় ভূমিকা নিতে পারে. সে কথা ভাবার বড় কারণ রয়েছে, বিগত কয়েক দিন আগে আরও কুড়িটি দেশ পরিবেশ দূষণে আবহাওয়াতে দূষণ কমানোর বিষয়ে দায়িত্ব নিতে রাজী হয়েছে. এই সম্বন্ধে বিশদ ব্যাখ্যা করে রাশিয়ার বিশ্ব বন্য প্রকৃতি ফান্ডের প্রধান আলেক্সেই ককোরিন একটি সাক্ষাত্কার "রেডিও রাশিয়া" কে দিয়েছেন.

    এই পরিবেশ বিজ্ঞানী উল্লেখ করেছেন যে, এই ভাবে বিশ্বের সব বড় দেশই, যারা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস বাতাসে ছাড়ছে, তারা বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াই করতে রাজী হয়েছে. কোপেনহেগেন সম্মেলনের পরিবেশ সংক্রান্ত সমঝোতায় সবচেয়ে বেশী পরিবেশ দূষণ কারী দুই দেশ ভারত ও চীনের বর্তমানের সম্মেলন খুবই প্রয়োজন. বর্তমানে ২০২০ সালের মধ্যে বাতাসে গ্রীন হাউস এফেক্ট কমানোর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে ৭৫টি দেশ, তার মধ্যে রাশিয়াও আছে. সব মিলিয়ে বিশ্বের আশি শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড এই সব দেশেই পরিবেশে ছাড়া হয়. বিশেষজ্ঞ মনে করেছেন যে, সম্ভাব্য সার্বজনিক চুক্তি গ্রহণের একটা পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে, প্রায় সব দেশের অংশ গ্রহণে এবং নতুন চুক্তি কিয়োটো প্রোটোকলের জায়গা নেবে. রাশিয়া পরিবেশ দূষণের মোকাবিলায় নতুন সকলের জন্য এবং আইন সঙ্গত বাধ্যতা মূলক চুক্তি গ্রহণের কথা বলেছে, আর এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রক্ষা করতে প্রস্তুত. এই প্রসঙ্গে আলেক্সেই ককোরিন বলেছেন:

    "নতুন দলিল কিয়োটো প্রোটোকলের চেয়ে অনেক বেশী প্রসারিত হওয়া দরকার. যদি বর্তমানের চুক্তিতে রাশিয়া সহ শুধুমাত্র উন্নত দেশ গুলিই আবহাওয়ায় বিষাক্ত গ্যাস বর্জন কমানোর বিষয়ে বাধ্য ছিল, তবে এখন নীতি গত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হল উন্নতিশীল দেশ গুলির অংশ নেওয়া. অংশতঃ চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, যারা এর মধ্যেই গ্রীন হাউস গ্যাস কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে. বাকী রয়েছে শুধু এই ইচ্ছাকে বাধ্যতা মূলক কার্যকরী দলিলে পরিণত করা".

    কিয়োটো প্রোটোকলের মেয়াদ এর মধ্যে শেষ হচ্ছে ২০১২ সালের শেষে. ধারণা করা হয়েছিল যে, এই চুক্তির বদলে নতুন যে চুক্তি আসবে, তা গত বছরে রাষ্ট্রসংঘের কোপেনহেগেন সম্মেলনে গ্রহণ করা হবে. কিন্তু সেই পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে সম্মেলন পরিষ্কার আবহাওয়া আনতে পারে নি, বরং উন্নত ও উন্নতিশীল দেশ গুলির মধ্যে বিরোধের ফলে ছত্রভঙ্গ হয়েছে. এই নতুন চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা আপাততঃ এই বছরের শেষে মেক্সিকো শহরে যে, সম্মেলন হওয়ার কথা আছে তাতে হতে পারে. আলেক্সেই ককোরিন মনে করেন যে, মস্কো এই নতুন আবহাওয়া দূষণ নিয়ে চুক্তির খসড়া তৈরীর বিষয়ে নেতৃত্ব দিতে চলেছে, তিনি বলছেন:

    "১৯৯০ সালের তুলনায় ২০২০ সালে বাতাসে বিষাক্ত গ্যাস ছাড়ার বিষয়ে প্রথমতঃ কার্বন ডাই অক্সাইডের ব্যাপারে রাশিয়া তৈরী আছে শতকরা ২৫ ভাগ কম করতে. তা ছাড়া মস্কো পরিকল্পনা করেছে রাশিয়ার অর্থনীতিতে শতকরা ৪০ ভাগ শক্তি ব্যবহার কম করতে. কিন্তু সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি যে, রাশিয়া ২০২০ সালে বাতাসে পরিবেশ দূষিত করার উপযুক্ত গ্যাসের নিষ্কাশনে একটা ভারসাম্য আনতে চায় এবং পরবর্তী বছর গুলিতে তা আরও কম করতে চলেছে. তার প্রধান কারণ হচ্ছে, আমাদের দেশে শক্তি সংরক্ষণ, শক্তির নির্দিষ্ট সফল ব্যবহার ও প্রযুক্তি গত পুনর্নবীকরণ".

    যদিও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণ নিয়ে বিতর্ক চলছে, কিন্তু বোধহয় একজনও এরকম লোক পাওয়া যাবে না, যে বলবে আবহাওয়াতে গ্রীন হাউস গ্যাস ছাড়া ভাল. বর্তমানে এক দিনে এত কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানো হয় যা, প্রকৃতিতে তৈরী হতে বহু শত বছর লেগেছে. আর যদিও আমরা জানি যে, পৃথিবীর ইতিহাসে আরও অনেক বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তবুও বর্তমানে সমস্যা হল তা আসবার জন্য সময় দ্রুত কমে আসছে বলে. বিগত কয়েক বছরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে নানা ধরনের বিপর্যয় ঘটছে: বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, আঁধি, প্রচণ্ড গরম এবং প্রচণ্ড ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া. এটা বিশ্বের আবহাওয়া পরিবর্তনের ফল. পরবর্তী কালে, এখন থেকে ব্যবস্থা না নিলে, এই রকম পরিবেশ পরিবর্তনের মধ্যে দোদুল্যমানতার হার বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিবারে আরও অনেক বেশী ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে. বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি – এটি সারা গ্রহের সমস্যা, যার উপরে মানুষের ভবিষ্যত অনেকটাই নির্ভর করছে.