পারমানবিক শক্তি – কোন সাময়িক বিষয় নয়, বরং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা অন্তর্ভুক্ত দেশ গুলির জন্য এক অপরিবর্তন যোগ্য অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা. এই ঘোষণা করেছেন মস্কোতে আয়োজিত পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত সম্মেলনের মঞ্চ থেকে বক্তৃতা দিতে গিয়ে রাশিয়ার বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কেন্দ্র কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ইভগেনি ভেলিখভ.

    অ্যাকাডেমিক ভেলিখভ যা বলেছেন তা হল এই বিষয়ে ছয়টি সদস্য দেশের সকলেরই একই ধারণা. তারা এই সম্মেলনে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, এই সংস্থার সদস্য দেশ গুলি হল: রাশিয়া, চীন, কাজাখস্থান, তাজিকিস্থান, কিরগিজিয়া ও উজবেকিস্থান. এই সংস্থার উন্নতির জন্য পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে যে সমাকলনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা অবশ্যই সাফল্য মণ্ডিত হবে. এই সম্মেলনে সকলেই জ্বালানী ও শক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে উন্নতি করার জন্য পারস্পরিক আগ্রহ প্রদর্শন করেছে এবং এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মালিকানার কোম্পানী গুলিও এগিয়ে এসেছে. এই সম্মেলনের মধ্যে একটি আয়োজনের কাজ ছিল, সেটি হল সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার "জ্বালানী ও শক্তি ক্লাবের" গঠন করা, যে ধারণা কয়েক বছর আগে সংস্থাকে বলেছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন.

    বিগত কিছু সময় ধরে বহু দেশই পারমানবিক শক্তির বিষয়ে উন্নতির পক্ষে ঘোষণা করেছে, এই বিষয় উল্লেখ করে জাতীয় জ্বালানী ও শক্তি নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান কনস্তানতিন সিমোনভ বলেছেন:

    রাশিয়া এই ক্ষেত্রে বহু আশাব্যঞ্জক পরিকল্পনা করেছে, আর চীনের তো বিশ্বের সবার থেকে বড় দূর অভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে. ২০৩০ সালের মধ্যে চীন চায় ১০০ টি পারমানবিক রিয়্যাক্টর তৈরী করে ফেলতে.তাই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশগুলি এবং অন্যান্য দেশ গুলিও পারমানবিক বিদ্যুত উত্পাদনকে নিজেদের ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদার সমস্যা মেটানোর জন্য অন্যতম পদক্ষেপ বলে ভাবতে শুরু করেছে.

    সংস্থার দেশ গুলির জন্য পারমানবিক শক্তি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একমাত্র সহযোগিতার ক্ষেত্র নয়. বর্তমানেই খোঁজ চলেছে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত প্রকল্পের সন্ধান, যার সঙ্গে এমন কি পর্যবেক্ষক দেশগুলিও, যেমন ভারত যোগ দান করতে পারে. তার মধ্যে রয়েছে শক্তি সংক্রান্ত যন্ত্র উত্পাদন, কার্বন যৌগের গভীর পরিশোধন, জল বিদ্যুত কেন্দ্র. এই সংস্থার দেশ গুলির মধ্যে দিয়ে ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বিশাল রকমের সীমান্ত অতিক্রম করে পরিবহনের উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে. এই সবই সহযোগিতাকে অন্যান্য অর্থনৈতিক সহযোগিতার দিকে নিয়ে যাবে এবং একই সঙ্গে সদস্য দেশ গুলির জন্য বহু প্রয়োজনীয় আধুনিক উচ্চ প্রকৌশলের প্রযুক্তি নিয়ে আসবে, যা আজকের দুনিয়াতে প্রতিযোগিতায় বিজয়ের এক অন্যতম ক্ষমতা.

    সব মিলিয়ে জ্বালানী ও শক্তি ক্ষেত্রে উন্নতি দেশ গুলির মধ্যে আরও বড় মাপের সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করবে, জাতীয় অর্থনীতির বহুমাত্রিক উন্নতির ব্যবস্থা করবে ও বিশ্বের বহু মূল সমস্যার বিষয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সাহায্য করবে. তা না হলে, এই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা কোম্পানী গুলির লাভের বৃদ্ধির জন্য এক সম্পূর্ণ ভাবে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে. আর চীনের দ্রুত উন্নতি করা অর্থনৈতিক ক্ষমতার কথা ভাবলে, রাশিয়ার আধুনিকীকরণের অন্তর্নিহিত শক্তি এবং মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির প্রাকৃতিক সম্পদ কে এক জোট করে অনেক গভীর ধরনের বহু জাতিক সমাকলনের সূচনা করা যেতে পারে. অবশ্য এর জন্য কিছু তর্কের অবসান করতে হবে. অংশতঃ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য পদ রাশিয়া প্রাথমিক ভাবেই শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সুবিধার কথা ভেবে বা তার জন্যই নেয় নি, যতটা না সম্মিলিত ভাবে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার জন্য নিয়েছে. আর চীন, দেখেছে এই সংস্থাকে এক বড় নতুন বাজারে ঢোকার পথ হিসাবে. তবুও দেশ গুলির দৃষ্টিকোণ ধীরে হলেও কাছে আসছে.

    সর্ব শেষে এই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পরিধিতে রাশিয়া ও চীনের মত পারমানবিক শক্তি ধারী দুটি দেশের কিছুটা একত্রিত অবস্থান লক্ষ্যনীয়. রাশিয়া ও চীনের সম্মিলিত ভাবে করা যে কোন পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য প্রস্তাব ঘোষণা বিশ্বে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা হবে.

<sound>