আজ থেকে ৬৫ বছর আগে ৯ই এপ্রিল ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত সৈন্য বাহিনী কেনিগ্সবের্গ শহর আক্রমণ করে দখল করে নিয়েছিল. এই শহর নাত্সীরা মনে করত জার্মানীর ইতিহাসের সেরা দুর্গ. হিটলার এর নাম দিয়েছিল "জার্মান আত্মার সম্পূর্ণ ভাবে অভেদ্য প্রাচীরের শত্রু আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য তৈরী অগ্রবর্তী মিনার".

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া বন্দী ও ফ্যাসিস্ট বাহিনীর জন্য দাসত্ব করা লোকেদের দিয়ে পূর্ব্ব প্রুশিয়াতে কয়েক হাজার কিলোমিটার লম্বা পরিখা খনন করা হয়েছিল, যাতে ট্যাঙ্ক পার না হতে পারে এবং নানা জায়গায় খুবই ক্ষমতাশালী বিস্ফোরক দিয়ে পথ আটকানোর বন্দোবস্ত করা হয়েছিল. সোভিয়েত বাহিনীর স্তালিনগ্রাদ ও কুরস্ক যুদ্ধে জয়ের পর আরও সক্রিয় ভাবে এখানে প্রতিরক্ষা বলয় তৈরী করা হয়েছিল.

    কেনিগ্সবের্গ শহরে পৌঁছনোর পথ ছিল এই রকম বহু পূর্ব্ব প্রুশিয়ার মিনার শহর পার হয়ে, যেখানে মাটির তলায় লোহা ও কংক্রীট দিয়ে বানানো কেল্লা সমেত বহুতল উঁচু থেকে গোলা ছোঁড়ার উপযুক্ত স্তম্ভ ছিল. তাদের গায়ে খুব শক্ত লোহার ঢাকনা বা গোলা ছোঁড়ার জন্য অনেক কামান এক সাথে লাগানো হয়েছিল.

    খুবই কঠিন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পূর্ব্ব প্রুশিয়াতে আক্রমণ করে সোভিয়েত বাহিনী এই লোহা, পাথর ও কংক্রীটের দেয়াল গুলি পেরিয়ে কেনিগ্সবের্গ শহর ঘিরে ধরে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অংশগ্রহণ কারী ইতিহাসে ডক্টরেট করা ওলেগ রেঝেশেভস্কি বলেছেন:

    "৬ই এপ্রিল এই শহরে আক্রমণ করা শুরু হয়েছিল, এই যুদ্ধ ছিল ভীষণ কঠিন. এই যুদ্ধের সময়ই প্রথম সোভিয়েত সোনা বাহিনী মার্শাল ভাসিলিয়েভস্কির নেতৃত্বে নতুন যুদ্ধ কৌশল, ঘোলা বর্ষণ শেষ হওয়ার আগেই পদাতিক বাহিনীর আঘাত হানা শুরু করেছিল. এই শহরের প্রতিরোধ প্রাচীর ধ্বংস করা চলেছিল টানা তিন দিন ও তিন রাত. ৯ই এপ্রিল দের দোনা নামের মিনারের উপরে, যেখানে বর্তমানে অম্বর পাথরের যাদুঘর আছে, সেখানে লাল পতাকা তোলা হয়েছিল, যার মানে হয়েছিল এই শহরের জার্মান ইতিহাসের শেষ".

    এই দুর্গের প্রধান রক্ষক জেনেরাল অটো ফন লাশ এক লক্ষ সেনা সমেত বন্দী হিসাবে আত্ম সমর্পণ করে. সোভিয়েত সেনা বাহিনীর কাছে সাড়ে তিন হাজারের বেশী কামান ও মাইন ছোঁড়ার কামান, প্রায় ১৩০ টি যুদ্ধ বিমান এবং ৯০ টি ট্যাঙ্ক সমর্পণ করা হয়.

    হিটলার যখন জানতে পেরেছিল কেনিগ্সবের্গ শহরের ঘটনা তখন পাগল হয়ে গিয়েছিল রাগে. এই শহর ছিল তার পূজনীয় এবং আদর্শ প্রুশিয়ার রাজা ও সৈন্য পরিচালক মহান ফ্রিডরিখের শহর, যার ছবি সব সময় হিটলার নিজের সঙ্গে নিয়ে ঘুরত. তাই তার প্রতিশোধ ও ছিল ভয়ঙ্কর. সে হুকুম দিয়েছিল সেই সব সেনাপতি ও সেনারা যারা ধরা দিয়েছে, তাদের পূর্ব্ব পুরুষের কবর খুঁড়ে ছাই তুলে হাওয়ায় ছড়িয়ে দিতে, আর সকলকে তাদের বিনা উপস্থিতিতে মৃত্যু দণ্ড দিতে.

    এই পূর্ব্ব প্রুশিয়ার আক্রমণ করার ফলে সোভিয়েত বাহিনী জার্মান সামরিক প্রশাসনের প্রধান অগ্রবর্তী দুর্গের প্রতিরোধ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল. পোল্যান্ডের পূর্ব্ব দিকের কিছু অংশ স্বাধীন করতে পেরেছিল. সম্পূর্ণ ভাবে ২৫টিরও বেশী নাত্সী বাহিনীর ডিভিশন ধ্বংস করে দিয়েছিল. উত্তর বাল্টিক সমুদ্রে জার্মান সমুদ্র যোগাযোগ ও নষ্ট করে দিয়েছিল.

    ১৯৪৫ সালের ৯ থেকে ১০ই এপ্রিল রাতে মস্কোতে কেনিগ্সবের্গ যুদ্ধের বিজয়ীদের বীরত্ব, সাহস ও পুরুষকার এর সম্মানে স্যালুট করেছিল ৩২৪ টি কামান থেকে ২৪ বার তোপ দেগে. এই যুদ্ধ উপলক্ষে বিশেষ পদক কেনিগ্সবের্গ দখলের জন্য নামে পদক দেওয়া হয়েছিল, যদিও সাধারণতঃ কোন দেশের রাজধানী দখল করতে পারলে তবেই একমাত্র বিশেষ পদক তখন দেওয়া হত. সোভিয়েত বাহিনীর সকলেই যারা এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল, তারা তাদের অসীম স্থৈর্য ও শঙ্কা হীণ দলগত বীরত্বের জন্য এই পদকের সম্মানে ভূষিত হয়েছিল. প্রায় ২০০ জন সেনা কে বীর উপাধি দিয়ে সোনার তারা দেওয়া হয়েছিল.