কিরগিজিয়াতে পরিস্থিতি ঘোরালো হয়েছে. প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধী পক্ষের সংঘর্ষ ক্রমশ আরও নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে, সেখান থেকে খবর এসেছে যে, বেশ কিছু লোক হতাহত এবং অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে. মস্কোতে খুবই মনোযোগ দিয়ে এই মধ্য এশিয়ার দেশের দিকে দেখা হচ্ছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে আহ্বান করা হয়েছে যেন সমস্ত পক্ষই শান্তিপূর্ণ ভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের মীমাংসা করার প্রচেষ্টা করে, যাতে জনগণের কোন ক্ষতি না হয়.

    ৬ই এপ্রিল থেকে বিরোধী পক্ষের দেশের আইন রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের শুরু হয়েছিল দেশের কয়েকটি অঞ্চলে. প্রথম সঙ্কেত এসেছিল তালাস অঞ্চলের প্রশাসনিক দপ্তর সেখানের বিরোধী পক্ষের বর্তমান প্রশাসনের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মিটিং করতে আসা লোকেদের হাতে দখল হয়ে গেছে বলে. সরকার এই অঞ্চলে বাড়তি পুলিশ বাহিনী পাঠিয়েছিল. মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল যে, মিটিং করতে আসা লোকেদের তাড়িয়ে দেওয়া গিয়েছে এবং প্রশাসনিক কেন্দ্র আবারও নিয়ন্ত্রণে এসেছে. কিন্তু পরে স্থানীয় লোকেরা জানিয়েছেন যে, এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া লোকেরা আবার সেই বাড়ীর দখল নিয়েছে.

    তারপর নতুন করে গোলমাল দেশের আরও একটি উত্তরের নারীন নামের শহরে ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি রাজধানী বিশকেকে শুরু হয়ে যায়. একই সঙ্গে খবর আসে যে, কিরগিজিয়াতে কয়েকজন বিরোধী পক্ষের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দেশের প্রধান অভিশংসকের বক্তব্য অনুযায়ী তাঁদের নামে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দোষের অভিযোগে বেশ কয়েকটি ধারায় ফরিয়াদী মামলা দায়ের করা হয়েছে. কিরগিজিয়াতে রাশিয়া ও কাজাখস্থানের ইন্টারনেট সাইট দেখবার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে. তা ছাড়া এই দেশে অনেক দিন হল "ইকো অফ মস্কো" এবং "রেডিও রাশিয়া" র সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে.

     বর্তমানে কিরগিজিয়াতে গোলমালের কারণ হল দেশের উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে যুদ্ধ. অন্ততঃ তাই মনে করেছেন স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের ইনস্টিটিউটের উপ প্রধান ভ্লাদিমির ঝারিখিন, তিনি বলেছেন:

    "এর জন্য যথেষ্ট হবে মানচিত্রের দিকে তাকালে. তালাস শহর উত্তরে. আর আমরা জানি যে, সেই তথাকথিত টিউলিপ বিপ্লবের সূত্রপাত হয়েছিল দক্ষিণের লোকেদের সক্রিয় যোগদানে, যাদের দেশের উত্তরের লোকেদের প্রশাসনে জায়গা দখল ভাল লাগে নি. বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ রকমের উল্টো. যখন রাষ্ট্রপতি বাকিয়েভ উত্তরের দিকে ঝুঁকে থাকা কমানো শুরু করেছিলেন, তখন তিনি প্রভাবিত হয়ে দক্ষিণের লোকেদের স্বার্থ বেশী করে দেখে উত্তরের লোকেদের সমস্যায় ফেলেছেন. এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাকিয়েভের ছেলে কে নিয়ে অবস্থা, যে কিনা দেশের সমস্ত ব্যবসা নিজের কুক্ষিগত করে বসে আছে. তার ওপরে বাকিয়েভ বিগত কিছু কাল ধরে দেশের বিরোধী পক্ষের উপর খুব চাপ সৃষ্টি করেছেন, তিনি ওদের আইন সঙ্গত ভাবে কিছু করার রাস্তাই রাখেন নি. এই সবই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী. কিন্তু আমার খুবই ইচ্ছা যে, বর্তমানের পরিস্থিতি যেন নতুন টিউলিপ বিপ্লবের দিকে নিয়ে না যায়. আর আমার মতে রাষ্ট্রপতি বাকিয়েভ অবশ্যই যেন বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে শুরু করেন এবং কোন একটা সমঝোতায় আসেন".

    রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব বান গী মুন কয়েকদিন আগেই কিরগিজিয়া সফরে গিয়েছিলেন, সেখানে তিনি রাষ্ট্রপতি বাকিয়েভের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে দেশের প্রশাসনকে মানবাধিকার রক্ষা করতে বলেছিলেন, তিনিও এখন দুই বিবাদী পক্ষকে আলোচনায় বসতে আহ্বান জানিয়েছেন.