মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে কোন পারমানবিক বোমা সেই সব দেশের উপর ফেলা হবে না, যাদের এই অস্ত্র নেই. নতুন মার্কিন পারমানবিক অস্ত্র সংক্রান্ত নীতির এটি একটি অন্যতম ধারা, যা রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার প্রশাসন দেশের কংগ্রেস কে বিচার করার জন্য তৈরী করে পাঠিয়েছেন.

    ২০০৫ সালে গৃহীত দলিলের তুলনায় নতুন স্ট্র্যাটেজিক দলিলে বেশ কয়েকটি বিষয়ে মার্কিন নীতির মূল সুর নরম করা হয়েছে. বর্তমানে যে সমস্ত দেশ পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে, তাদের দিক থেকে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর এমন কি রাসায়নিক বা জৈব রোগ বহ অস্ত্রও প্রয়োগ করা হয়, তাহলেও আমেরিকা পারমানবিক বোমা ব্যবহার না করে তার বদলে অন্য ব্যবস্থা নেবে. এ কথা সত্য যে, এই ছাড় উত্তর কোরিয়া বা ইরানের জন্য করা হচ্ছে না. তা ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় ভাবে পারমানবিক নয় এমন ধরনের অস্ত্রের বিষয়ে উন্নতি করার চেষ্টা করবে. তার মধ্যে রকেট প্রতিরোধের ব্যবস্থা রয়েছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রবার্ট গেইটস এর কথা মতো "শুধু মাত্র আমেরিকা ও তার বন্ধু ও সহকারী দেশ গুলির প্রতিরক্ষার জন্যই করা হচ্ছে".

    মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের প্রধান অন্তরায় ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বসানোর থেকে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পেছিয়ে আসতে রাজী নয়. কিন্তু এটাকে স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত নতুন চুক্তির স্বাক্ষরের প্রসঙ্গের সাথে যোগ করার কোন প্রয়োজন নেই. রাশিয়ার সঙ্গে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বসানো নিয়ে আলোচনা চালু থাকবে, পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টনের ভাষ্যে যে কোন পরিস্থিতিতেই তা চালু থাকবে. আর বিশ্বের নিরাপত্তা বিষয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তর হবে স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত নতুন চুক্তির স্বাক্ষর. এই বিষয়টি দুই পক্ষই মেনে নিয়েছে. তা ছাড়া স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক ভারসাম্য রাশিয়ার জন্যই বেশী লাভজনক হবে স্রেফ অর্থনৈতিক কারণে: আমেরিকার পারমানবিক অস্ত্র সজ্জা বৃদ্ধি করার মত যথেষ্ট ক্ষমতা আছে.

    সব মিলিয়ে নতুন মার্কিন পারমানবিক নীতি সঠিক দিকে প্রথম পদক্ষেপ, মনে করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইনস্টিটিউটের উপপ্রধান পাভেল জোলোতারিয়েভ. তিনি বলেছেন:

    "শুধুমাত্র পারমানবিক বোমা নিয়ে হামলার বিরুদ্ধে পারমানবিক বোমা ব্যবহার করা যাবে বলে ওবামা যে ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তা অবশ্যই সোত্সাহ সমর্থন যোগ্য. এখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ হল যে, এই নীতিতে নতুন ধরনের পারমানবিক অস্ত্রের বিষয়ে উন্নতি করার পথ বন্ধ করা হয়েছে. প্রথমতঃ লক্ষ্যভেদী পারমানবিক অস্ত্র যা এমন কি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য থাকা লক্ষ্য কেও ভেদ করতে পারে, তার উন্নতি বন্ধ করা. এই অস্ত্র বহু দেশের উদ্বেগের কারণ হয়েছে, তার মধ্যে রাশিয়াও আছে".

    ওয়াশিংটনের নতুন পারমানবিক স্ট্র্যাটেজি সংক্রান্ত দলিলের বাহ্যিক দিকের বিষয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ণ করেছেন রাশিয়ার লোকসভার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিষদের প্রধান কনস্তানতিন কোসাচেভ ও. তাঁর দৃষ্টিকোণ থেকে এই দলিল বিশ্ব নিরাপত্তার বিষয়ে রাশিয়ার নজরের সঙ্গে মেলে. তার সঙ্গে পারমানবিক অস্ত্র বিহীণ বিশ্বের দিকে যাওয়ার অবস্থানের সঙ্গেও মেলে.

    প্রসঙ্গতঃ বিশ্ব নিরাপত্তার প্রশ্নে অনেক গুলি সমস্যার সমাধান করা দরকার. অংশতঃ এটা ন্যাটো জোটের বর্তমান ভূমিকা ও রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার প্রশ্নেও রয়েছে. জানাই আছে যে, রাশিয়ার সামরিক নীতি সংক্রান্ত নতুন দলিলে বলা হয়েছে যে, ন্যাটো এমন একটি জোট, যারা নিজেদের বিশ্বের আইন বহির্ভূত ভাবে নিজেরাই নিজেদের বিশ্বের কাজ করে বেড়ানোর অধিকার দিয়েছে. বাস্তবে এই জোটের পূর্ব্ব ইউরোপে প্রসারের প্রচেষ্টা রাশিয়ার পক্ষে বিপদের আভাস ও উদ্বেগের কারণ হয়েছে.আর প্রাথমিক ভাবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে পারমানবিক অস্ত্র প্রয়োগের বিষয়ে বর্তমান পরিস্থিতি দেশের সামরিক নীতির দলিলে এই ধারাকে অবিকৃত রাখতে বাধ্য করেছে. তা স্বত্ত্বেও পর্যবেক্ষকেরা নির্দেশ করেছেন যে, মস্কো চায় ধীরে পারমানবিক অস্ত্রের বর্তমান মর্যাদা কম করতে এবং পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে পরম্পরা মেনে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে.

<sound>