মস্কো বিজয়ের জয়ন্তী উপলক্ষে তৈরী হচ্ছে, ৯ই মে রেড স্কোয়ারে প্যারেড হবে. এই বছরে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে প্যারেড সবচেয়ে সুন্দর হবে. প্রধান উত্সবের এক মাস আগে থেকেই ১৫৪ নম্বর পৃথক কম্যান্ড্যান্ট বাহিনীর সৈন্যরা খুব কসরত করে কুজ কাওয়াজ করতে শুরু করেছে, তারাই পতাকা হাতে প্যারেড করে থাকে. এই বাহিনীতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সেনা দেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্যারেডের প্রধান পতাকা – জয়ের নিশান হাতে নিয়ে প্যারেড করার.

    কনুই থুতনির সমান উঁচু হবে, প্রতিটি পদক্ষেপ মাপা হবে সেন্টিমিটার পর্যন্ত, গোটা শরীর থাকবে একদম সোজা. এই ভাবে প্রত্যেক দিন পাঁচ ঘন্টা করে প্যারেডের রিহার্সাল আর আরও এক ঘন্টা ব্যায়াম. সকলে এটা করতেই পারবে না. কিন্তু এই ধরনের খাটিয়ে কঙ্কাল বানিয়ে দেওয়া রিহার্সাল করানো খুবই দরকার, কারণ প্যারেডের শুরু এই পতাকা বাহক সেনারা. কতটা সমান ভাবে ও কি কৌশলের সাথে তারা রেড স্কোয়ারের পাথরের রাস্তার উপর দিয়ে প্যারেড করে যাবে, দর্শকেরা তা দেখতে পাবেন ও তাই দেখে তাদের তৈরী হওয়ার মান নির্ধারণ করতে পারবেন. শুধুশুধুই তো আর এই পতাকা বাহক দের অনেক জনের মধ্যে থেকে বাছাই করা হয় নি. এই ১৫৪ নম্বর পৃথক কম্যান্ড্যান্ট বাহিনীর কম্যাণ্ডার মিখাইল বারীশেভ ব্যাখ্যা করে বলেছেনঃ

   এক বছর ধরে বিশেষ প্রহরা সেনা বাহিনীর কম্যাণ্ডারেরা রেড স্কোয়ারে পতাকা বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের বাহিনীর সেরা দের বাছাই করেছেন, এই প্রতিযোগিতায় যারা অংশ নিয়েছে, তাদের শুধু ভাল চেহারা আর প্যারেড করার বিষয়ে সেরা হলেই চলবে না, এমন কি প্রত্যেক সেনা এই ঘটনার গুরুত্ব অনুভব করতে বাধ্য. ইতিহাস জানতে বাধ্য.

    পতাকা বহন যারা করছে তারা তিন জন. সব কিছুই একেবারে মিলিয়ে দেখে নেওয়া হয়েছে, লম্বা সুদর্শন সব ছেলে. এই বছর বিজয় পতাকা দণ্ড বিশ্বাস করে বহন করতে দেওয়া হয়েছে ২৪ বছরের গ্লেব এফিমভ কে. তার সহকারী হিসাবে থাকছে যমজ গোর টাইটেলের দুই ভাই. এই রকমই ট্র্যাডিশন, সব সময়েই সহকারী হয়েছে যমজ ভাইয়েরা. গ্লেব একজন মাস্টার্স ডিগ্রী শেষ করা শিক্ষক, সেনা বাহিনীতে কাজ করছে চুক্তিবদ্ধ হয়ে. সে তার কাজের প্রতি খুবই সিরিয়াস. তার জন্য এটা বিশাল সম্মানের বিষয়. তাই সে মনে করে রেড স্কোয়ারের পাথরে উপর দিয়ে যাওয়ার সময় কোন ভুল বা ভ্রান্তি হতেই পারে না. সে বলেছেঃ

    সমান তালে চলা, এক সাথে চলা – তিন জনকে যেন মনে হয় যে এক জনই হাঁটছে, কারণ এটা একটা যন্ত্রের মত, যেটা চলে আর এই সব বলে দেওয়া প্যারেডের কৌশল দেখায়.

    প্যারেড হওয়ার শেষ কয়েক দিন আগে চেষ্টা করা হচ্ছে, যেন একেবারে নিঃখূত ভাবে সব হয়. সামনে শেষ কয়েকটি ট্রেনিং মস্কো উপকণ্ঠের আলাবিনো সেনা ছাউনিতে, তারপর রেড স্কোয়ারের পাথরের রাস্তায়. এই খানে ছেলেদের কষ্ট হবেই, একে পাথুরে রাস্তা, আর সেখানে পা তুলতে হবে বেশী উঁচু করে, অ্যাসফাল্ট দেওয়া রাস্তার পর এখানে চললে পা ব্যাথা হওয়ার সম্ভাবনা বেশী.

    মনে করিয়ে দিই যে, এই বছরের ৬৫তম বিজয় উত্সব উপলক্ষে আয়োজিত প্যারেডে অংশ নেবেন দশ হাজারেরও বেশী সৈন্য, তাদের মধ্যে থাকবেন যুদ্ধের সময়ের জোটের দেশের সেনারাও. রাশিয়ার প্রধান স্কোয়ারে প্যারেড করে মাপ মতন হাঁটবেন ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ৭৫ জন সেনা ও অফিসার.