প্রিমোরস্ক অঞ্চলের রুস্কি দ্বীপ, যেখানে ২০১২ সালে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, তা দেশের নতুন বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকার মর্যাদা পাবে. দেশে বর্তমানে সম মর্যাদা সম্পন্ন আরও সাতটি অঞ্চলের তালিকাতে এই দ্বীপকে যোগ করেছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন. তাঁর স্বাক্ষর করার পর আগামী তিন মাসের মধ্যে এই দ্বীপের নতুন স্বীকৃতির জন্য যাবতীয় দলিল তৈরী হয়ে যাবে, এখানে বিনিয়োগ করলে, প্রশাসনিক, শুল্ক, কর ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় পাওয়া যাবে.    ঐতিহাসিক ভাবে এই রুস্কি দ্বীপ সব সময়ই বাস্তবে সামরিক বাহিনীর আওতায় ছিল. উনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে, যখন থেকে এখানে দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে সব সময়ই কাজ করেছেন ও থেকেছেন এক মাত্র তারাই যারা রাশিয়ার সীমান্ত রক্ষার কাজে ছিলেন.    প্রিমোরস্ক অঞ্চলের রাজধানী ভ্লাদিভস্তক আসতে পরিস্কার আবহাওয়ার দিনে এই দ্বীপ থেকে ফেরি বোটে করে আসতে সময় লাগে ২৫ মিনিট, আর ঝড় জলের দিনে প্রায় এক দিন. কিন্তু এত জটিল ভৌগলিক জায়গা হওয়া স্বত্ত্বেও বর্তমানে রুস্কি দ্বীপ – আজ ভ্লাদিভস্তকের একটি অংশে পরিণত হয়েছে. প্রিমোরস্ক অঞ্চলের বাসিন্দারা ঠাট্টা করে বলেছেন, ব্রিজ বানানো শেষ হলেই আমরা আরও কাছের প্রতিবেশী হয়ে যাবো.    যখন সামরিক বাহিনীর লোকেরা এই দ্বীপ ছেড়ে চলে গেলেন আর দ্বীপ আগের মুক্তাঞ্চল বলে ঘোষিত হল, তখন একমাত্র এলাকার বাসিন্দারা এই দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের আভাস পেলেন. এখানে হাওয়া খুবই পরিস্কার, বন, সমুদ্র, খাঁড়ি, পুরনো দুর্গের সারি. রুশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রী এলভিরা নাবিউল্লিনা বলেছেনঃ   "পর্যটন কেন্দ্র বানানোর জন্য রুস্কি দ্বীপ খুব উপযুক্ত জায়গা, এখানে বহু লোক আসতে পারেন, তার প্রধান কারণ হল জায়গাটা খুব ভাল ভাবেই পৌঁছনোর যোগ্য হচ্ছে. এ ছাড়া সে সব সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে যা এখানে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কারণে তৈরী হবে, সেই সব পরিকাঠামোর সুযোগ পাওয়া যাবে, যার জন্য এখন প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে. সুতরাং এই এলাকা প্রিমোরস্ক অঞ্চলে অনেক গুলি সুবিধা পাচ্ছে, কারণ সেখানে এখন রাস্তা ব্রিজ, বিদ্যুত ও জ্বালানী সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে. আর এই সব মিলিয়ে দ্বীপে পর্যটনের কেন্দ্র খোলা যেতেই পারে. বিশেষজ্ঞরা মূল্যায়ণ করে দেখেছেন যে, এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের স্বাদ নিতে বছরে পাঁচ লক্ষ লোক বেড়াতে আসতেই পারেন. প্রিমোরস্ক অঞ্চলের জন্য এটা খারাপ সংখ্যা নয়".    যেহেতু প্রায় সমস্ত ইতিহাস জুড়েই এই দ্বীপ রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ছিল, তাই এখানে একটাও বড় মাপের শিল্প তৈরী হয় নি এবং এখানে আনন্দ ফুর্তির জন্য কোন ব্যবস্থাও নেই. এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির শীর্ষ বৈঠকের জন্য এখানে অনেক কিছু করা হলেও সমস্ত সমস্যার সমাধান করা যাবে না. এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ করার দরকার, যাতে এটাকে পর্যটন ক্ষেত্র বানানো যায়. এলভিরা নাবিউল্লিনা তাই বলেছেনঃ    "আমরা আশা করছি এখানে ব্যক্তিগত বিনিয়োগে হোটেল ও বিশ্রাম নেওয়ার পরিকাঠামো তৈরী হবে. এখানে বিনিয়োগকারীদের জন্য খুবই ভাল ব্যবস্থা করা হচ্ছে, ২০ বছরের মধ্যে প্রধান অর্থনৈতিক নীতির কোন পরিবর্তন করা হবে না".

    রুস্কি দ্বীপ পর্যটন ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য একটি আগ্রহের উদ্রেক করার মত প্রিমোরস্ক অঞ্চলের জায়গা. আর বিশেষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা করার পর এখানে বিনিয়োগ করার জন্য সক্রিয়তা আশা করা যেতেই পারে.