মস্কো শহরের কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার উত্তর ককেশাস থেকে পড়তে আসা ছাত্র ছাত্রীরা সন্ত্রাসবাদী হানাতে আহত লোকেদের জন্য এক স্বেচ্ছা রক্ত দান শিবিরের আয়োজন করেছে. তারা রাশিয়ার যুব সমাজের বিভিন্ন শহরে আয়োজিত মস্কো মেট্রো রেলে বিস্ফোরণে নিহত মানুষদের স্মৃতি তর্পণে আয়োজিত অনুষ্ঠান গুলির উদ্যোগকে এই ভাবে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে.

    সেন্ট পিটার্সবার্গ, ক্রাসনাদার ও মস্কো শহরে স্মৃতির উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানের শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শোক প্রকাশ করা হয়েছে. লোকেরা মোমবাতি জ্বালিয়েছেন, নীরব হয়ে নিহত দের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন. তারপর যাদের ইচ্ছা হয়েছে, তারা সকলেই মঞ্চে উঠেছেন, যাতে আসল কথাটা বলা যায় – সন্ত্রাসবাদীরা রুশ লোকেদের শান্তি হরণ করতে চায়, সমাজকে স্থিতিশীল ভাবে উন্নতি করতে দিতে চায় না. কিন্তু তাদের পরিকল্পনা সার্থক হবে না, রাশিয়ার যুব আন্দোলনের সদস্যরা তা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করেন. রুশ নাগরিক সমাজ তৈরী আছে নিজেদের পদ্ধতিতে সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে, তাদের "আমাদের" নামের দলের নেতা নিকিতা বরোভিকভ এই প্রসঙ্গে বলেছেনঃ

     "আমরা যে কোন রকমের সন্ত্রাসের উদ্দেশ্য কি তা জানি – লোককে ভয় দেখানো, যাতে প্রত্যেকেই যে যার নিজের ঘরের মধ্যে নিজস্ব পৃথিবী টুকুর মধ্যে নিজেকে বন্ধ করে রাখে. আর আমরা চাই যে কোন লোককে বলতেঃ তুমি একা নও, তোমাকে কষ্টের সময়ে সমর্থন করতে অন্য লোকেরা তৈরী এবং স্বাভাবিক ভাবেই আমরা সন্ত্রাসবাদীদের দেখাতে চাই যে, আমরা তাদের ভয় পাই না, আমরা ফ্ল্যাটের পরিধিতে বন্ধ থাকব না আর আমাদের দেশ – একটা শক্তিশালী দেশ. আমাদের সমাজ – শক্তিশালী ও জোট বদ্ধ সমাজ".

    যতক্ষণ সাধারন লোকেরা. যারা এবারে কোন রাজনৈতিক লক্ষ্য ছাড়াই, শুধুমাত্র সামগ্রিক বেদনায় একত্র হয়ে তাদের পক্ষে অধিগম্য উপায়ে সকলের সঙ্গে একতা ও সন্ত্রাস বাদের মোকাবিলা করার মত ঋজুতা প্রদর্শন করেছেন, ততক্ষণ রুশ প্রশাসন সমাধান করেছেন কি করে দেশে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা যেতে পারে এবং অংশতঃ দেশের যানবাহন ব্যবস্থায়. রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের নির্দেশে ২০১৪ সালের মধ্যে দেশের সমস্ত পরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক ও ফলপ্রসূ নিরাপত্তা সংক্রান্ত জানান দেওয়ার ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হবে.

    আর কয়েক মাস বাদেই এই বিষয়ে মস্কোর একটি মেট্রো স্টেশনে প্রথম প্রকল্পটি চালু করা হবে. সেখানে বাস্তব সময়ের মধ্যে কার্যকরী হতে পারে এমন সমস্ত জানানি দেওয়ার ও নিয়ন্ত্রণের দেশী ও বিদেশী সমস্ত রকমের আধুনিক ব্যবস্থা পরীক্ষা করে তারপর তার থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে যান বাহনে সামগ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে.

    বোঝাই যাচ্ছে যে, এই প্রশ্নের সমাধান শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত ভাবেই কঠিন নয়, তা খুবই ব্যয় সাপেক্ষ. কিন্তু যেখানে মানুষের জীবন মৃত্যুর প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে কোন কার্পণ্য করা যায় না. তাই রাশিয়ার মন্ত্রী সভার প্রধান ভ্লাদিমির পুতিন নিশ্চিত করে বলেছেন যে, অর্থের কারণে কাজ আটকাবে না. এখানে মুখ্য বিষয় হল যে, যে সমস্ত সমাধান প্রস্তাব করা হবে, তা যেন কার্যকরী হয়.  (sound)