যানবাহন ব্যবস্থায় সন্ত্রাসবাদী হানা বন্ধ করাস খুবই কঠিন ব্যাপার. তাই নিরাপত্তার কাজে পয়সা বাঁচাতে গেলে চলবে না, আর জনতাকেও খেয়াল রেখে চলতে হবে, রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান ভ্লাদিমির ভাসিলিয়েভ এই বিষয়ে একেবারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন.

    ২৯ শে মার্চ সোমবার ভোরে মস্কোর মেট্রো রেলের মাটির নীচের দুটি স্টেশনে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে দুটো বোমা ফেটেছে. গত ছয় বছরে রাজধানীর মাটির নীচে মেট্রো রেল ব্যবস্থায় এমন বড় মাপের কোন ভয়ানক ঘটনা হয় নি. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, ২০০৪ সালে হওয়া আভতোজাভোদস্কায়া আর পাভলেত্স্কায়া মেট্রো স্টেশনের মধ্যে টানেলে ট্রেনের ওয়াগনে বিস্ফোরণে ৪০ জন নিহত ও ২০০ জনের বেশী লোক আহত হয়েছিলেন.

    আজ এই সব সন্ত্রাসবাদী গোপন দল গুলির আর আগের মত সুবিধা নেই যে তারা যখন খুশী হাসপাতাল, স্কুল, থিয়েটার দখল করে ফেলবে. তা স্বত্ত্বেও দেখা গেল যে, আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদী ব্যবহার করে সন্ত্রাস বাদী হানা করা গেল, তাই ভ্লাদিমির ভাসিলিয়েভ ঘোষণা করেছেনঃ

    "বাধা দেওয়ার ব্যবস্থা কাজ করে নি, কিন্তু ন্যায্য বিচার করে কথা বলতে গেলে বলা উচিত্ হবে যে, সারা বিশ্বেই দেখা গেছে যে, এই জাতের আতঙ্ক বাদী হানা আটকানো বা আগে থেকে অনুমান করা খুবই কঠিন. কারণ এই কাজে ধর্মোন্মাদ ধরনের লোককে লাগানো হয়. মনে করতে চেষ্টা করে দেখুন, কোন অল্প বয়সী মহিলা, যে নিজের গায়ে চার কিলো বিস্ফোরক বেঁধে, তার উপর বড় বোল্টু, লোহার রডের টুকরো এই সব চাপিয়ে, লোকের ভীড়ে যায় এবং নিজেকে ধ্বংস করে… আজ এই ধরনের ঘটনা আমাদের বহু বার ভাবতে বাধ্য করে, কি হচ্ছে তার সম্বন্ধে ভাবতে, ঠিক করতে এই ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা কি ব্যবস্থা নিতে পারি, সেই সব কাজের মূল্যায়ণ করতে পারি, যা এখনকার অবস্থার জন্য দায়ী. একই সময়ে আমাদের ঠিক করতে হবে যে, কি কম পড়ছে, কি করতে হবে যাতে আমাদের দেশের নাগরিক, আমাদের নিকট লোকেদের, আমাদের ছেলে মেয়েদের জন্য সত্যই পুরো দমের হতে পারে".

    যদিও এই ব্যাপারে কিছু সঠিক উন্নতি সত্যি হয়েছে, যেমন, ২০০৪ সালের পর মস্কোর মাটির নীচের নিরাপত্তার কাজে ২ বিলিয়ন রুবল খরচ করা হয়েছে, সমস্ত মেট্রো স্টেশন, চলন্ত সিঁড়ি, প্ল্যাটফর্ম, ওয়াগন সর্বত্র ভিডিও ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল, মেট্রোর সমস্ত পরিকাঠামো সন্ত্রাস বাদী হানার মোকাবিলার জন্য বিস্ফোরণে বা আগুনে যাতে ধ্বংস না হয় তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তাই বর্তমানের বিস্ফোরণে অন্ততঃ অগ্নিকাণ্ড থেকে রেহাই পাওয়া গিয়েছে. অবশ্যই এর ফলে বহু জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে, সমস্ত রকমের বিশেষ বাহিনী একসাথে কাজ করেছে সুষ্ঠভাবে, তাই ভ্লাদিমির ভাসিলিয়েভ বলেছেনঃ

    "সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার সময়ে এবারে সম্ভব হয়েছে কোন রকমের গুরুতর ঘাটতি ছাড়া কাজ করার, সমস্ত আহতদের সাহায্য করা হয়েছে, সমস্ত রকমের সাহায্যের ব্যবস্থা কাজ করেছে, অভিজ্ঞতায় শেখা হয়েছে যে, মস্কোর রাস্তায় চলা ফেরা করা খুবই কঠিন, তাই আকাশ পথের ব্যবহার করা হয়েছে".

    ৩৯ টি জীবন ছিনিয়ে নেওয়া এই সন্ত্রাস বাদী হানার লক্ষ্য সম্বন্ধে কথা বলতে গিয়ে, ভাসিলিয়েভ উল্লেখ করেছেন যে, শুধুমাত্র সম্পূর্ণ অনুসন্ধান শেষ হলে তবেই সমস্ত উত্তর পাওয়া যাবে, তবে ককেশাসের ছায়া যে এর পেছনে থাকতে পারে তা নিয়ে লোকসভার নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের কোন সন্দেহ নেই. উত্তর ককেশাসে রুশ সরকার যে রাজনীতি পরিচালনা করছেন, তার জন্যই যে সেখানকার সন্ত্রাসবাদী গুপ্ত দল গুলি এই সব প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তা বোঝাই যাচ্ছে. সেখানে বর্তমানে বিরাট পরিবর্তন ঘটছে, আঞ্চলিক বিভাজন বদল করে নতুন লোকেদের ক্ষমতায় আনা হচ্ছে. প্রাথমিক ভাবে এই অঞ্চলের শান্তি পূর্ণ ভাবে উন্নতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে, সামাজিক সমস্যা দূর করা হচ্ছে, একই সঙ্গে সমস্ত রকমের সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করা হচ্ছে, তাই বোঝাই যাচ্ছে যে কিছু লোকের  এটা পছন্দ হচ্ছে না.

    যারা আত্মঘাতী হয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে সেই মহিলা দুজন ঘটনা স্থলেই মারা গেছে, যারা এই ঘটনার তোড়জোড় করেছিল, তাদের ধরা ঠিকই হবে. যারা এই ঘটনা বাধা দিতে পারে নি, তাদের শাস্তিও অবধারিত. আর সাধারন লোকেদের তিনি বলেছেন খেয়াল রাখতে, যখন একটা ফোন করে খবর দেওয়া দরকার তখন যেন কুঁড়েমি কেউ না করে, সন্দেহ জনক কিছু দেখলে খবর যেন দেয়. তাহলে বহু লোকের জীবন রক্ষা পেতে পারে.