২৯ শে মার্চ সকালে মস্কো মেট্রো স্টেশনে দুটি বিস্ফোরণ হয়েছে. প্রথম বোমাটি সকাল সাতটা বেজে ৫৬ মিনিটে শহরের কেন্দ্রে লুবিয়ানকা স্টেশনে একটি ট্রেন এসে দাঁড়ালে তার দ্বিতীয় ওয়াগনে লোক ওঠা নামার সময় বিস্ফোরিত হয়, পরের বিস্ফোরণ টি সকাল ৮টা বেজে ৪০ মিনিটে আরও একটি কেন্দ্রীয় স্টেশন পার্ক কুলতুরি তে হয়েছে. প্রাথমিক খবরে জানা গেছে যে, তিরিশ জনেরও বেশী লোক মারা গিয়েছেন ও বহু লোক আহত. রাশিয়ার অভিশংসক দপ্তর এই বিষয় দুটির জন্য সন্ত্রাসবাদী আঘাত আইনের আওতায় ফৌজদারী মামলা চালু করেছে.

    রাশিয়ার বিশেষ দপ্তর মনে করেছে যে, এ ঘটনা গুলি খুবই পরিকল্পনা করে তবে কার্যকরী করা হয়েছে. সোমবার ভোর বেলা, লোকে কাজে যাওয়ার জন্য তাড়া হুড়ো করছে, মেট্রো লোকারণ্য. এই সময়ে একটা ছোট বোমা, যা জামা কাপড়ের মধ্যে বা ব্যাগের মধ্যে গোপন করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় তা ফাটলে, বহু লোকের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী. ঠিক তাই হয়েছে.

    প্রথম বোমাটি ফেটেছে এমন সময়ে যখন লোকে নামা ওঠা করছিল, ফলে ওয়াগনে ও প্ল্যাটফর্মে দশের বেশী লোক সঙ্গে সঙ্গেই মারা গিয়েছেন. দ্বিতীয় কাণ্ড ঘটেছে একই ভাবে, পার্ক কুলতুরি স্টেশনে লুবিয়ানকা স্টেশনের মত একই সকোলনিকি লাইনে.

    বিপর্যয় নিরসন দপ্তরের খবরে প্রকাশ তিরিশ জনেরও বেশী নিহত, বহু লোককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সকালের গাড়ীর ভীড়ে দমকল ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছতে দেরী হয়েছে. তাই মন্ত্রণালয়ের হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আহতদের নিয়ে যেতে হয়েছে.

আপাততঃ প্রাথমিক তথ্যে প্রকাশ যে, বোমা গুলি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ফাটানো হয়ে থাকতে পারে, অথবা সন্ত্রাসবাদী আত্মঘাতী ফাটিয়েছে. এটা যে, সন্ত্রাস বাদের আঘাত সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই. রেডিও রাশিয়াকে এক সাক্ষাত্কারে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার ও নিরাপত্তার বিপদ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ইগর খখলোভ বলেছেনঃ

এখনই শেষ পর্যন্ত কি জানা হবে, তার সম্বন্ধে বলা কঠিন, অনুসন্ধান সবে শুরু হয়েছে, কিন্তু এখনই বলা যেতে পারে যে, এটা সন্ত্রাস বাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সক্রিয়তা বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া, রুশ বিশেষ বাহিনীর কাজের ফল বেড়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়া, এই সব কিছুরই আমরা সাক্ষী হয়েছি. সন্ত্রাসবাদের প্রতিরোধে যে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার প্রতিবাদে নিরুপায় প্রতিক্রিয়া মাত্র. কারণ তারা বুঝতে পেরেছে যে, সমাজে তাদের প্রতি আর কেউ সহানুভূতিশীল নয়. বিশেষ করে উত্তর ককেশাসের রাজ্য গুলিতে, যেখানে এই ধরনের কাণ্ড ঘটিয়ে নিজেদের ধারণা জোর করে চাপানোর বিরুদ্ধে সমস্ত জাতি ধর্ম নীতি বোধ নির্বিশেষে সাধারন লোকের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে.

মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে মস্কোর মেট্রো যাত্রী সাধারন লোকেদের উপর এই হামলাই প্রথম নয়, ১৯৯৬ সালের ১১ই জুন মস্কো মেট্রোর সেরপুখোভস্কায়া লাইনে প্রথম সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছিল. মেট্রোর ওয়াগনে বোমা ফেটে চার জনের মৃত্যু হয়েছিল.

১লা জানুয়ারী ১৯৯৮ ত্রেতিয়াকোভস্কায়া মেট্রো স্টেশনে বোমা ফেটেছিল, একটি মেয়েদের ব্যাগে রাখা ১৫০ গ্রাম টি.এন.টি সমতূল্য আবরণ বিহীণ বোমা ফেটে তিনজন মেট্রো কর্মী বিভিন্ন রকম আগাত প্রাপ্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন.

৫ই ফেব্রুয়ারী ২০০১ সালে বেলোরুসস্কায়া রিং লাইনে ২০০ গ্রাম টি.এন.টি সমতূল্য বোমা ফেটায় ২০ জন লোক আহত হয়েছিলেন. ৬ই ফেব্রুয়ারী ২০০৪ মস্কোর জামস্কভোরেত্স্কায়া লাইনে আভতোজাভোদস্কায়া ও পাভলেত্স্কায়া স্টেশনের মধ্যে টানেলে একটি গাড়ীর দ্বিতীয় ওয়াগনে বিস্ফোরণ হওয়ার ফলে আগুন ধরে যায়, আগুনের শ্রেণী বিভাগে তা ছিল সর্ব্বোচ্চ পঞ্চম শ্রেণীর জটিলতা পূর্ণ. এই বোমা ৪ থেকে ৫ কিলো ওজন টি.এন.টি সমতূল্য ছিল. ৪১ জন মারা গিয়েছিলেন ও প্রায় ২৫০ লোক আহত হয়েছিলেন.

আপাততঃ পাওয়া খবরে জানা গেছে যে, আজকের দুটি বিস্ফোরণের প্রতিটি ২ কিলো গ্রাম টি.এন.টি সমতূল্য.

<sound>