আমেরিকা পাকিস্থানের সম্পর্ক ভাল হতে চলেছে, যার ফলে বলা যেতে পারে যে, দুই দেশের সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলল বলে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন তাঁর পাকিস্থানি সহকর্মী শাহ মেহমুদ কুরেশীর সঙ্গে সাক্ষাত্কারের পর.

    শ্রীমতী ক্লিন্টনের কথা সত্যের কতটা কাছাকাছি? নূতনত্ব অবশ্যই আছে, অন্ততঃ আমাদের পর্যবেক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ তা মনে করেন. আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করে, বর্তমানের ওয়াশিংটনের প্রশাসন পাকিস্থানকে আফগান সীমান্তে তালিব বিদ্রোহী যোদ্ধাদের মূল বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে সামনে এগিয়ে দিয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ে পাকিস্থানকে গত বছরের গরম কালে দেশের উত্তর পশ্চিমের সোয়াত উপত্যকা, দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানে সুদূর প্রসারিত যুদ্ধ করতে হয়েছিল. ওয়াশিংটন চাইছে আফগান পাক সীমান্তের অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং এই তো গত বছরেরই অক্টোবর মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন ঘোষণা করেছিলেন যে, পাকিস্থানের উত্তর ওয়াজিরস্থানেও যুদ্ধ প্রসারিত করার দরকার আছে.

    উত্তরে ওয়াশিংটন পাকিস্থানকে প্রচুর অর্থ সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে. পাকিস্থানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য তৈরী আইন অনুযায়ী মার্কিন সেনেটে পাকিস্থানকে এই বছর ধরে আগামী পাঁচ বছর একটানা বছরে ১৫০ কোটি ডলার করে অসামরিক সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে.

    কিন্তু পাকিস্থানের আরও বেশী চাই, কারণ তারা ভাল করেই বুঝতে পেরেছে এই অঞ্চলের নতুন স্ট্র্যাটেজির রাজনীতিতে ওয়াশিংটন তাদের কোন জায়গায় স্থান দিয়েছে.

    "সত্যিকারের একটা দর কষাকষি চলছে, আর এখানে পাকিস্থানের লোকেরা আগের মতই ভীষণ ভাবে দর দাম করার দেশের মত আচরণ করছে. পাকিস্থানের লোকেরা খুব ভালই বুঝতে পেরেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিয়মিত অর্থ সাহায্য না পেলে রাষ্ট্রপতি জারদারীর দুর্বল প্রশাসন, যাদের এমন কি দেশের সেনা বাহিনীর সঙ্গেও ভাল সম্পর্ক নেই, তা বেশী দিন টিকতে পারবে না".

    পাকিস্থানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশীর নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছনো বিশাল দল তো আর হঠাত্ করেই ইসলামাবাদের তরফ থেকে আমেরিকার দলের কাছে এক লম্বা প্রস্তাব ও ভিক্ষার তালিকা নিয়ে আসে নি, সেখানে তালিব দের সঙ্গে যুদ্ধের অস্ত্র সরবরাহের প্রসার ছাড়াও, যার মধ্যে কি না পাইলট বিহীণ বোমারু বিমানও রয়েছে, ইসলামাবাদ ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ভারতের মতই তাদের উপর থেকে পারমানবিক জ্বালানী প্রযুক্তি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলেছে ও কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য সাহায্য চেয়েছে. অন্যান্য চাওয়া বিষয় গুলির মধ্যে রয়েছে আফগানিস্থানের সীমান্ত অঞ্চলে পাকিস্থানের জমিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেন রকেট ও বোমা ছোঁড়া বন্ধ করে.

    এখন দেখার বস্তু হল, পাকিস্থানের এই সমস্ত চাহিদার কতটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পূরণ করতে পারবে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অবস্থান ও অন্যান্য বিষয় গুলিও চিন্তা করে দেখতে হবে. যেমন, কাশ্মীরের বিষয়ে ভারত পাকিস্থানের সম্পর্ক নিয়ে তৃতীয় কোন দেশের উপস্থিতিতে দিল্লী চিরকালই অখুশী এবং নিজেদের অসন্তোষ প্রদর্শন করে আসছে. আবার অন্য দিকে ওয়াশিংটন নিজেই এখনও পাকিস্থানের সঙ্গে পারমানবিক ক্ষেত্রে সহযোগিতায় তৈরী নয়. সেখানে এখনও সবার মনে আছে পাকিস্থানের পারমানবিক বোমার জনক আবদুল কাদির খান কে নিয়ে বিশ্ব জোড়া স্ক্যাণ্ডালের কথা, যিনি অন্য দেশকে পারমানবিক বোমার প্রযুক্তি বিক্রী করেছিলেন, অংশতঃ ইরানকে, লিবিয়াকে, উত্তর কোরিয়াকে এবং অন্য কয়েকটি আরব দেশকেও. তাই জ্বালানী ও শক্তি সমস্যা সমাধানের প্রশ্নের ক্ষেত্রে সমস্ত বড় ও জোরালো সহযোগিতার ঘোষণার মধ্যে, ইসলামাবাদের দিক থেকে চাতকের মত অপেক্ষা স্বত্ত্বেও হিলারি ক্লিন্টন কিন্তু এক বারের জন্যও মার্কিন পাক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তির অংশ হিসাবে, ভারতের সঙ্গে যেমন আছে তেমন কোন পারমানবিক শক্তি প্রসঙ্গে চুক্তি করার কোন কথা তোলেন নি.

    আমেরিকার পক্ষ থেকেও তালিব পলাতক নেতাদের পাকিস্থানে ধাওয়া করে মারার জন্য পাইলট বিহীণ ড্রোন ব্যবহার করার বিষয় সব রকম ভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং তা ব্যবহার করা তখনও চলেছে, যখন ওয়াশিংটনে শাহ মেহমুদ কুরেশী ও হিলারি ক্লিন্টনের সাক্ষাত্কার চলছিল.