২০১০ সালের রাশিয়ার জাতীয় সামগ্রিক উত্পাদনের উন্নতির বিষয়ে আগের মূল্যায়ণ কে বিশ্ব ব্যাঙ্ক আবার বিচার করে দেখেছে. দেশের প্রশাসনের বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে উদ্ধার পাওয়ার কাজকে বিচার করে দেখে খুবই সফল মনে হওয়ায়, বিশ্ব ব্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞরা রুশ অর্থনীতির পুরনো অবস্থানে অর্থাত্ দ্রুত উন্নয়নের বিষয়ে একমত হয়েছেন. প্রসঙ্গতঃ তাঁদের মতে, এই বছরের দেশের উন্নতির সবচেয়ে বড় সূচক পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি হবে.

    কয়েক মাস আগেও বিশ্ব ব্যাঙ্ক রাশিয়ার কাছ থেকে ভাল সূচকের আশা করে নি. তাঁদের মত ছিল রুশ লোকেরা খুব বেশী হলে এই বছরে জাতীয় সামগ্রিক উত্পাদন সূচক শতকরা তিন ভাগ উন্নতি আশা করতে পারে. দেশের সরকারের সঙ্কট বিরোধী কাজের তালিকা, যা আগে গ্রহণ করা হয়েছিল, তা দেশে কোন বড় ধরনের সামাজিক সঙ্কট হওয়া থেকে রেহাই পেতে দিয়েছে. দেশের লোকের মাইনে ও বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধি করা, ব্যাঙ্ক ব্যবস্থায় সংশোধন করা, প্রথমতঃ ঋণ প্রদানের নীতির পরিবর্তন করা ইত্যাদি দিয়ে প্রশাসনের পক্ষে প্রায় অসম্ভব মনে হওয়া কাজ করা সম্ভব হয়েছে. দেশের অর্থনীতি শুধুমাত্র স্থিতিশীল ই হয় নি, বরং উন্নতি শুরু করেছে. আর তা যথেষ্ট আত্ম বিশ্বাস ও সমর্থন যোগ্য ভাবে. এই কারণেই বিশ্ব ব্যাঙ্কের পক্ষে আশা ব্যঞ্জক ভবিষ্যত বাণী করা সহজ হয়েছে.

    বেশী করে বলা যেতে পারে যে, বিশ্ব ব্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞরা অন্যান্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ইনস্টিটিউট বা এমন কি রুশ সরকার, যারা বরং কম করে বলেছেন, তাঁদের চেয়েও বেশী আশার কথা বলেছেন. কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে, মনে রাখতে হবে গত বছরের মূল্যায়নে দেখা গিয়েছে যে, বিশেষজ্ঞরা যা আশা করেছিলেন, ফল তার থেকে খারাপ হয়েছিল. তাই বর্তমানের তুলনা মূলক ভাবে ভাল উন্নতি আমাদের এক ধাক্কায় সঙ্কট পূর্ব্বের অবস্থায় নিয়ে যেতে পারবে বলে মনে হয় না. বৈজ্ঞানিক স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞান নির্দেশক প্রফেসর নিকিতা ক্রিচেভস্কি তাই বলেছেনঃ

    "২০০৯ সালের দেশের সামগ্রিক উত্পাদনের হার এখন অবধি জড় করা তথ্য অনুযায়ী ৭, ৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল. আর আমরা বুঝতে বাধ্য যে, ৭, ৯ শতাংশ থেকে ৫, ৫ শতাংশ বাদ দিলেও এখনো ২, ৪ শতাংশ নেতিবাচক ফলই থেকে যাচ্ছে. এর অর্থ হল, যদি বিশ্ব ব্যাঙ্কের ভবিষ্যত বাণী অনুযায়ী ২০১০ সালে রাশিয়ার জাতীয় সামগ্রিক উত্পাদনের হার ৫, ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় ও, তাহলেও ২০০৯ সালের পতন পুরোপুরি পার হওয়া যাবে না".

    সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, ২০১১ সালে দেশের বাজেটের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে. রাশিয়া খনিজ তেল ও গ্যাসের রপ্তানীর এক বৃহত্তম দেশ বলে এই সবের যথেষ্ট বেশী দাম ঘাটতি পূরণে সাহায্য করবে. আরেকটি ইতিবাচক বিষয় হল – দেশের লোকের ভোগ বৃদ্ধি. আয় বৃদ্ধির সঙ্গে যা সরাসরি ভাবে যুক্ত. এটা সত্য যে, এর ফলে মূল্য বৃদ্ধি হতেই পারে, কিন্তু আপাততঃ বিশ্লেষকেরা এই বিষয়ে বিশেষ কোন সাবধান বাণী উচ্চারণ করছেন না.

    সবচেয়ে বড় কথা হল দেশের কর্তারা সঙ্কটের থেকে সঠিক শিক্ষা নিয়েছেন এবং দেশের অর্থনীতিকে আধুনিকীকরণের কথা বলেছেন. আর এখন আমরা বলতে পারি যে, আমাদের প্রথম ইতিবাচক ফল দেখা যেতে শুরু করেছে, এই মত পোষণ করে অর্থনীতি বিদ নিকিতা ক্রিচেভস্কি বলেছেনঃ

    "রাশিয়ার বিনিয়োগ ও ব্যবসার বাজারে হঠাত্ তপ্ত হাওয়া দেখতে পেয়ে, আমি তা বুঝতে পেরেছি. এই তপ্ত হাওয়ার উত্স বর্তমানে পুরোপুরি ও সব দিক থেকেই দেশের প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে. বলা উচিত্ হবে যে, রাষ্ট্রপতি ও প্রশাসন এই বিষয়ে খুব কম কাজ করেন নি. আর কোন রকম সন্দেহ না করেই বলা যেতে পারে যে, এই বছরেই আমরা ব্যবসার ক্ষেত্রে সক্রিয়তা দেখতে পাবো, আর তার সঙ্গেই দেশের সামগ্রিক উত্পাদনের হার বাড়বে. সবচেয়ে বড় কথা হল দেশের জাতীয় বাজেটে আয়ের পরিমান বাড়বে".

    সুতরাং এই বছরে সমস্ত অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও পথ যে সঠিক বাছা হয়েছে, তা বোঝা গিয়েছে. আর বিশ্ব ব্যাঙ্কের ভবিষ্যত বাণী সেই বিষয় কেই সমর্থন করেছে.