এর আগে যা কখনো দেখানো হয় নি, সেই সব তথ্য জড় করে রাশিয়ার মহাফেজ খানাগুলি মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধে বিজয়ের ৬৫ তম বার্ষিকী উত্সবে প্রদর্শনী করতে চলেছে. সেই সব বছরের উপর বই এবং প্রদর্শনীতে দেখা যাবে এমন সমস্ত ঘটনার উল্লেখ, যা থেকে কখনো হঠাত্ করেই সেই সব দিন গুলিকে আরও অন্য কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা সম্ভব হয়.

ফোটো অ্যালবাম – যেটি এই উপলক্ষে রুশ সিনেমা ও ফোটো দলিলের মহাফেজ খানার কর্মীদের প্রয়াসে প্রকাশ করা হয়েছে, তার নামটি হল "ক্যামেরার লেন্সে যুদ্ধ". যুদ্ধ ক্ষেত্রের সামনের সারিকে নানা দিক থেকে দেখে, তাকিয়ে এই ছবির মিছিল এক ভীষণ আবেগ ঘন দৃষ্টি ফেলেছে অতীত থেকে. রাষ্ট্রীয় মহাফেজ খানা সমষ্টি সংস্থার প্রধান আন্দ্রেই আর্তিজোভ বলেছেনঃ

"এই প্রথম এক ফোটো অ্যালবামে জড় করা হয়েছে আমাদের দেশের ফোটো গ্রাফারদের তোলা ফোটো, যাঁরা যুদ্ধ ক্ষেত্রের সামনে ও পিছন থেকে ছবি তুলেছেন এবং তাঁর সঙ্গে জার্মান ফোটো গ্রাফারদের তোলা বিরল সব ফোটো. বিষয় সবই বিভিন্ন  - অধিকৃত অঞ্চলের জীবন, যুদ্ধ ক্ষেত্রের থেকে দূরে দেশের গভীরের জীবন, মানুষ কি করেছিল, কি করে বিশ্রাম নিত. অনেক ছবি যুদ্ধের পর দখল করে নিয়ে আসা, এই রকম এক ফোটো অ্যালবাম হয়েছে বলে তা আজ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে".

যুদ্ধের সময় বহু রুশ লোককেই ধরে নিয়ে গিয়ে কাজ করানো হয়েছিল জার্মান সাম্রাজ্যে কাজ করানো হয়েছিল. যুদ্ধ শেষের কয়েক দশক পরে জার্মানী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এই সব লোকেদের একটা ভর্তুকি অর্থ প্রদান করতে. মহাফেজ খানার কর্মীরা যাতে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া সম্বন্ধে তথ্য দিতে পারে, তাই লোকেরা তখন বর্ণনা করতে শুরু করেছিলেন, তাঁদের কি সহ্য করতে হয়েছিল. ফরাসী দেশের নর্মান্ডি তে কিছু দিন বাদে এক সোভিয়েত দেশ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে নামে প্রদর্শনী শুরু হতে চলেছে, সেখানে এই বর্ণনা শুদ্ধু কিছু চিঠি রাখা থাকবে. রুশ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় মহাফেজ খানার ডিরেক্টর সের্গেই মিরোনেঙ্কো বলেছেনঃ

"এই সব দলিলের কয়েকটি পড়তে গিয়ে শিউরে উঠতে হয়, এটা সত্যিকারের ব্যাথার ইতিহাস, কষ্টের কথা, আমাদের দেশের বহু লক্ষ পরিবারের জীবনে যুদ্ধ যা ঘটিয়েছিল. বর্তমানে এই সংগ্রহশালার পুনর্সংকলনের কথা হয়েছে, এখানে প্রায় ৫ লক্ষ কেস রয়েছে. এগুলো একটা নিয়মে সাজিয়ে নিয়ে ব্যবহার করা শুরু হবে. এই সব দলিলই আপনার আমার জন্য যত্ন করে রাখা হবে, যা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মও দেখতে পাবে".

দলিল সংগ্রহ শালা গুলিতে আরও অনেক তথ্য জমা রয়েছে. মহাফেজ খানার কর্মীরা বলেছেন যে, দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর নানা নির্দেশ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তৈরী দলিল রয়েছে. এগুলি সম্বন্ধে খুব কম লোকই জানে, কিন্তু এগুলির ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম. যেমন, ১৯৪১ সালে যখন জার্মান সৈন্যরা প্রায় মস্কো অবধি এসে গিয়েছিল, তখন সরকার পক্ষ দেশের কারখানা গুলিকে পূর্ব্ব দিকে সরিয়ে নিয়ে চলে যাওয়ার পর লোকেদের জীবন ও তাদের সামাজিক বিষয় গুলি নিয়ে এক পরিকল্পনা করেছিল. এই বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাফেজ খানার সামাজিক রাজনৈতিক ইতিহাস বিভাগের ডিরেক্টর ওলেগ নাউমভ বলেছেনঃ

"এই পরিশিষ্ট গুলিতে ট্রেনের সময় সূচী রয়েছে, কোথায় কি তৈরী করা হবে তার কথা রয়েছে, এমন কি একটা পেরেকও কোথায় বানানো হবে তার কথা দেখতে পাওয়া যায়. এটা তো খুব কম করেই বলা হল, কারখানার দেওয়াল ছাত তৈরীর সঙ্গে কারখানার কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা করে বাড়ী তৈরীর কথা হচ্ছে. অর্থাত্ ভাবা হয়েছে আগামী কারখানার জন্য কর্মী প্রশিক্ষণের কথাও. আর এই সবই হয়েছে ১৯৪১ সালেই"!

এমন কি দেশের কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীদের গণনার জন্য তৈরী করা কার্ড মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধের ইতিহাসের জন্য এক অমূল্য দলিল হতে পারে. সে গুলিতে সব সময়ই ফোটো লাগানো হত. মহাফেজ খানাতে গিয়ে চাইলে, এখন কার লোকেরা তাদের দাদু বা প্রপিতামহের জীবন কালের হয়ত একমাত্র ছবির একটা কপি এখনই পেতে পারেন.