চীন প্রজাতন্ত্রের ডেপুটি চেয়ারম্যান সি ত্সিজিনপিন এর রাশিয়া সফর মনে থেকে গেল শুধুমাত্র কাজের ফলে বা রাশিয়াতে চীনা ভাষার বর্ষ উত্সবের উদ্বোধন দিয়েই নয়, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে. এখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ব্যক্তিগত মূহুর্ত গুলি, রাজনীতিতে যার প্রভাব বিশাল, যা একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের মত দুই বিশাল প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের নির্ধারকের কাজ করে. বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন রেডিও রাশিয়ার পর্যবেক্ষক ইগর দেনিসভ.

সি ত্সিজিনপিন এর সাক্ষাত্কার ও আলোচনার সময় রাশিয়ার নেতৃত্ব আরও ঘনিষ্ঠ ভাবে চিনতে পেরেছেন নতুন প্রজন্মের এই রাজনীতি বিদকে, যিনি চীনের নতুন নেতাদের একজন. সন্দেহ নেই যে এই ধরনের ব্যক্তিগত যোগাযোগ রাশিয়া চীনের শীর্ষ বৈঠকের সময় পরম্পরা বজায় রাখতে সাহায্য করবে.

চীনের রাজনৈতিক ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী ২০১২ – ২০১৩ সালে দেশের দল ও প্রশাসনের মূল পদ গুলিতে বদল হওয়ার কথা. মূলতঃ চীনের প্রশাসনের শীর্ষে প্রজন্মের পরিবর্তনের কথা হচ্ছে. ২০১২ সালের পর চীনের নেতা হিসাবে তাঁরাই আসছেন যাঁরা ১৯৪৯ সালের পর অর্থাত্ চীনের নতুন রাজনৈতিক গঠনের পর জন্মেছেন এবং যাঁরা বড় হয়েছেন সেই সব সংস্কারের বছর গুলিতে. বিশেষজ্ঞদের মতে নতুন প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে সি ত্সিজিনপিন এর সম্ভাবনা বেশী বর্তমানের চেয়ারম্যান ও পার্টির সাধারন সম্পাদক হু জিন টাও এর জায়গা নেওয়ার.

বিগত বেশ কিছু বছর ধরে রুশ চীন সহযোগিতার বহুমুখী ক্ষেত্রে শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগ বড় ভূমিকা নিয়েছে. এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবলে ক্ষমতার হাত বদলের সময় সি ত্সিজিনপিন এর রাশিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনায় যোগদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের উপ প্রধান সের্গেই লুজিয়ানিন তা মনে করে বলেছেনঃ

"জন সংযোগের ক্ষেত্রে বাকি সমস্ত চীনের নেতাদের মতই সি ত্সিজিনপিন এর কথা বার্তা পুরো প্রোটোকল রক্ষা করেই, কিন্তু আমরা দেখতে পেয়েছি, যে তাঁর কথা বলার কায়দা খুবই খোলা ধরনের, অন্ততঃ হু জিন টাও এর থেকে আলাদা. সি ত্সিজিনপিন এর কায়দা অনেকটা বেশী আলাপ করার মতো মনোভাব দেখানো, খোলা মেলা, ভরসা যোগ্য, ভাল মনের ও প্রকাশ্য. সি ত্সিজিনপিন এর নিজেকে দেখানো পরিচয় হল একজন শক্ত চীনের দেশ প্রেমিক লোকের মত, কিন্তু একই সঙ্গে বিদেশী সহকর্মীদের জন্য একজন খোলা মেলা লোকের মত".

মস্কো সফরের সময় চীন প্রজাতন্ত্রের ডেপুটি চেয়ারম্যান নিজের কায়দার সমস্ত দিকই দেখিয়েছেন. তিনি রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চীনা ভাষার রাশিয়া বর্ষ উদ্বোধনের সময় অংশতঃ শুধুমাত্র কূটনৈতিক মৃদু হাস্য দেখিয়ে ক্ষান্ত হন নি, বরং খোলা ভাবে চীন ও রাশিয়ার বর্তমানের পারস্পরিক সমস্যা গুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন, এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যের বিষয়ে একটা নিয়ম বহাল করার চেষ্টা, অবাধে সীমানা পার করে অবৈধ চীনা জিনিস রাশিয়াতে বিক্রী বন্ধ করার ব্যাপারে কাজ করার আগ্রহ, বেআইনি ভাবে চীনা লোকেদের রাশিয়াতে অনুপ্রবেশ ও এলাকা দখলের প্রচেষ্টার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া. রাশিয়ার পরিবেশ সংরক্ষণ বিশারদদের খুবই চিন্তার বিষয়, দুই দেশের সীমানা বরাবর নদী গুলির চীন দেশের ভিতরে জলে অবৈধ ক্ষতিকারক বর্জ্য পদার্থ বর্জন করা বন্ধ বা কমানো, সি ত্সিজিনপিন এর মতে ভবিষ্যতে যদি এই সব নদীতে কোন রকমের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে দ্বিপাক্ষিক ভাবে একে অপরকে জানানো দরকার এবং জলের গুণ মানের পরীক্ষা করা দরকার. এই উদাহরণে বুঝতে পারা যায় যে, চীনের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদিও পঞ্চাশের দশকের বন্ধুত্বের কথা মনে করে আবেশ গ্রস্থ নন, তবে রাশিয়ার সঙ্গে গঠন মূলক ভাবে সম্পর্কের বৃদ্ধি করতে তৈরী.