রাশিয়ার সমস্ত ঐতিহাসিক দলিল ও বাস্তব ঘটনাকে ইলেকট্রনিক রূপ দেওয়া হচ্ছে. রাশিয়ার রু নেটে খোলা হচ্ছে নতুন সাইট "রুশ দেশের জানালা. জনতার ফোটো ইতিহাস তহবিল". এই সাইটে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্ত গুলির ফোটো রাশিয়ার লোকেদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিয়ে রাখা হয়েছে.

    রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমী যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই ইন্টারনেট সাইট তৈরী করেছে. এই প্রকল্পের স্রষ্টারা বলেছেন যে, "বিংশ শতাব্দীর ফোটো ইতিহাস তৈরী করতে গিয়ে, আমরা একসাথে ভবিষ্যতের ইতিহাসের লেখক ও অনুসন্ধান কারী দের জন্য দেশের ও তার মানুষের সম্বন্ধে সত্যি কথা বলে যেতে চাই".

    এই সাইটের কাজের প্রথম ধাপ উত্সর্গ করা হয়েছে মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধের ৬৫ বছরের বিজয় জয়ন্তী বর্ষকে. সেই কারণে সাইটের অ্যাডমিনিস্ট্রেটরেরা ফোটো প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন, নাম দিয়েছেন "রাশিয়ার জানালা. মহান বিজয়". এই প্রতিযোগিতায় যে সব ফোটো অংশ নিয়েছে, যা যুদ্ধ ক্ষেত্রে ফটোগ্রাফাররা তুলেছেন এবং নানা পরিবারের পুরনো জমা ফোটো থেকে, যারা এই সাইট দেখছেন তাদের কাছ থেকে.

    রাশিয়ার ঐতিহাসিকরা ফোটো গুলিকে ইলেকট্রনিক দলিলে পরিণত করার এই নতুন প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং প্রতিটি নতুন ফোটো যে একেকটি নতুন দলিল তা স্বীকার করেছেন. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর ইতিহাস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ এলেনা সেনিয়াভস্কায়া বলেছেনঃ

    "এই প্রকল্প অবশ্যই তর্কাতীত ভাবে দারুণ, কারণ প্রতিটি নতুন ফোটো, প্রতিটি সেই সময়ের দলিল এক নতুন আবিষ্কার, কারণ বিগত কিছু বছরে অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে. তার মধ্যে বিভিন্ন সংসারের জমানো ভান্ডার থেকেও. কেউ হয়ত থাকার জায়গা পাল্টাবার সময় হারিয়েছেন, কারও বাড়ীর লোকেরা এ গুলো নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখায় নি বলে নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু তাও কিছু লোক রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের সংসারের ইতিহাসকে সমাদর করেছেন. তাঁরাই ইন্টারনেটে এখন সেই সব ফোটো পাঠিয়ে তা জনতার সম্পদে পরিণত করছেন. আর এটা অবশ্যই রাশিয়ার ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে এবং অংশতঃ মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে জানার জন্য খুবই দরকারি এবং ভাল".

    এই ইন্টারনেট প্রকল্পের আরও একটি ভাল দিক এলেনা সেনিয়াভস্কায়া দেখতে পেয়েছেন. আগে সরকারি মহাফেজ খানাতে খুব একটা সাধারন মানুষের যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে লেখা চিঠি বা ফোটো রাখতে চাওয়া হত না. বিখ্যাত সামরিক অধিনায়ক, নাম করা লোক, লেখক, কবিদের দলিলের জায়গায় সাধারন সেনার যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে লেখা চিঠি বা পাঠানো ফোটোর কোন জায়গা ছিল না. খুব বেশী হলে কোন যাদুঘরের ভান্ডারে সে গুলো রেখে দেওয়া হত, তাই আজ লোকের ব্যক্তিগত ইতিহাসই জাতির ইতিহাস হওয়ার সুযোগ পেয়েছে.

    এই প্রকল্পে বহু বিশেষজ্ঞকে ডাকা হয়েছে, যাঁরা দেখছেন এই সব কাজের মূল্য ও মান. এঁরা সকলেই দেশের বিখ্যাত লোক, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নামী শিল্প সমালোচক, বিজ্ঞানী, ঐতিহাসিক, সামাজিক কাজের নেতারা. তাঁদের মধ্যে আছেন মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ভিক্তর সাদোভনিচি, নোবেল বিজয়ী পদার্থ বিদ ঝোরেস আলফিওরোভ, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সংস্কৃতি ও শিল্প উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সের্গেই কাপিত্সা ও আরও অনেকে. বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী সবচেয়ে ভাল ফোটো ও দলিলের কাজ গুলি মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধের সুবর্ণ অধ্যায়ের তহবিলে জায়গা পাবে, আর তা রাশিয়ার ইতিহাসের সোনার তহবিলে থাকবে.