ভারতে জাহাজ ধ্বংসকারী রকেট "ব্রামোস" পরীক্ষা করা হয়েছে, এই রকেট তৈরী করেছে রুশ ভারত যৌথ প্রকল্পে. প্রথম বার রকেট জাহাজের উপর সোজা খাড়া করে ছোঁড়া হয়েছে. শব্দের প্রায় তিন গুণ গতিতে রকেট টি কয়েকবার নানা রকমের দিক পরিবর্তন করে ২৯০ কিলোমিটার দূরে একটি জাহাজের মডেলকে ধ্বংস করে দিয়েছে.

ভারতের পদাতিক বাহিনীর কাছে এর মধ্যেই এই ধরনের কয়েকটি রকেট রয়েছে, যা বর্তমানে কোন পশ্চিমের সেনা বাহিনীর কাছে নেই. আশা করা হচ্ছে পরীক্ষার শেষে ভারতের নৌ বাহিনীর কাছেও এই ধরনের কিছু রকেট থাকবে এবং এই রকেট নিক্ষেপের কারণে জাহাজে বিশেষ রকমের কূপের ব্যবস্থা করা হবে. রাশিয়ার সেনা বাহিনীকেও হয়ত এই ধরনের রকেট দেওয়া হতে পারে, কয়েকটি রাখা হবে সমুদ্র তীরবর্তী জাহাজ বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এবং একটি রাখা হবে আধুনিক একটি ফ্রিগেট জাহাজে. বর্তমানে "ব্রামোস" রকেট বহুমুখী ফাইটার প্লেনে বসানোর জন্য গবেষণা চলছে এবং প্রচেষ্টা হচ্ছে শব্দাতীত গতি সম্পন্ন রকেট নির্মাণের, নতুন রকেটের গতি শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশী হবে এবং তা গতি পথে ধাওয়া করে ধরা অসম্ভব হবে.

"ব্রামোস" – ভারত রুশ সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার ফল, ১৯৯০ দশকের শেষে এই প্রকল্প শুরু করা হয়েছিল "ব্রামোস এরো স্পেস" নাম দিয়ে – ব্রহ্মপুত্র ও মস্কো নদীর নাম সংযোগে এই নামের সৃষ্টি. প্রথম পরীক্ষা হয় ২০০১ সালে. বর্তমানে এই কারখানা বরাত পেয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের. এই রকেট তৈরী হয় ভারতের হায়দ্রাবাদে ও রাশিয়ার ওরেনবুর্গের কারখানায়. ২০১৬ সালের শেষের আগেই ১০০০ রকেট তৈরী করা হবে এবং এর অর্ধেক কিনবে তৃতীয় দেশেরা. "ভেস্তনিক - আকাশ পথে আক্রমণ প্রতিরক্ষা" নামের পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সাইদ আমিনভ রুশ ভারত সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার অন্যান্য কয়েকটি বিষয় মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেনঃ

"রকেট প্রযুক্তির উন্নয়ন ছাড়াও অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার একটি মূল বিষয় হতে চলেছে পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার বিমান. এ ছাড়া জাহাজ চালনা ব্যবস্থা ও সাধারন অস্ত্র নির্মাণ বিষয়েও সহযোগিতা করা হচ্ছে, যেমন ভারতে লাইসেন্স সমেত "টি – ৯০" ধরনের ট্যাঙ্ক তৈরী করার ব্যবস্থা হচ্ছে".

বিগত কিছুদিন আগে রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের ভারতের রাজধানী দিল্লী সফরের সময় সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা বিষয়ে খুব কম মনোযোগ দেওয়া হয় নি. রাশিয়ার সিয়েভেরোদ্ভিনস্কে ভারতের জন্য "অ্যাডমিরাল গর্শকভ" নামের বিমান বাহী জাহাজটিকে পুনর্নির্মাণ করে "বিক্রমাদিত্য" নাম দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে. সেখানে জাহাজ সারানোর কারখানা "জ্ভিওজ্দোচকা" তে ভারতের জন্য পঞ্চম রাশিয়ার প্রকল্পে নির্মিত ডুবোজাহাজের আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হবে. এই জাহাজ গুলিতে রুশ ডানা সমেত রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা "ক্লাব – এস" জোড়া হচ্ছে, এ ছাড়া আধুনিক হাইড্রো- অ্যাকাউস্টিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সংযোজন করা হচ্ছে.

দিল্লীতে ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছিলেন যে, দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রকল্প গুলিকে বাস্তবায়িত করার কাজে বেশী জোর দেওয়া হবে, যদিও এই ক্ষেত্রে বাণিজ্যের ও প্রসার করা হবে. এর ফলে নতুন ক্ষমতা যুক্ত হবে বর্তমানের ব্যবস্থার সঙ্গে, দুই দেশেই বহু সহস্র কাজের জায়গা তৈরী হবে, ভারতেও একই রকমের ফল দেখতে পাওয়া যাবে. তাই ভারতের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা হল একটি নতুন আসা যাওয়ার রাস্তা.

<sound>