পাকিস্থান ও ইরান অনেক দীর্ঘ আলোচনার পর ইরান থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর যৌথ প্রকল্পের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে. এই বিশাল ৭৫০ কোটি ডলারের ২৭০০ কিলোমিটারের পাইপ লাইন বসানোর চুক্তির তৃতীয় দেশ ভারত আপাততঃ এই চুক্তিতে সই করে নি, কিন্তু কেন?

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস এম কৃষ্ণের বক্তব্য অনুযায়ী তাঁদের দেশ ইরানের সঙ্গে আলোচনা জারী রেখেছে, কিন্তু কোন চুক্তি স্বাক্ষর করার আগে এই প্রকল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হতে চেয়েছে. এই একই কথা বলেছেন রেডিও রাশিয়ার প্রশ্নের উত্তরে রাশিয়াতে পি টি আই সংবাদ সংস্থার সাংবাদিক বিনয় শুক্লা, তিনি বলেছেনঃ

"পাকিস্থানের মধ্য দিয়ে ইরান থেকে পাঠানো গ্যাসের পাইপ লাইন ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অবশ্যই বিশেষ এক বড় মাপের ভূমিকা নিতে পারে, কিন্তু কয়েকটি সমস্যা থেকেই যাচ্ছে, যে কারণে এখনই এই চুক্তিতে বহাল হওয়া যাচ্ছে না. আর এটা প্রথমতঃ হল গ্যাসের দাম বা পাকিস্থানের মধ্য দিয়ে আসবে বলে নয়, বরং নিরাপত্তার প্রশ্নই হল আসল. পাকিস্থানের বর্তমান অবস্থা খুবই জটিল এবং অস্থিতিশীল. পাকিস্থানের সরকার দেশের উত্তর পশ্চিমে কোন রকম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না. এই জায়গা দিয়েই পাইপ লাইন বসানোর কথা হয়েছে. এ ছাডা মুম্বাই হামলার পর থেকে ভারত পাকিস্থানের সম্পর্ক খুবই খারাপ হয়েছে. আর যতক্ষণ না এই সব ঘটনার কারণের সমাধান করা হচ্ছে, খুবই কম সম্ভাবনা রয়েছে যে, ভারত এই চুক্তিতে যোগ দেবে".

কিন্তু এই বিষয়ে অন্য একটি মতও রয়েছে. অংশতঃ কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেছেন যে, ওয়াশিংটনের চাপও এখানে রয়েছে, যারা ইরানকে বিশ্ব সমাজ থেকে একঘরে করতে চায় আর সমস্ত আন্তর্জাতিক গ্যাস পাইপ লাইনের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমনকি তাদের বহু দিনের পারমানবিক ক্ষেত্রে ভারতের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এই শর্তে তুলেছে, যে হয় তাদের সঙ্গে পারমানবিক ক্ষেত্রে ভারত সহযোগিতা করুক, না হলে ইরানের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়াতে গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর জন্য অংশ নিক. এই বছরে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার ভারত সফরের কথা আছে, এই সফরের পর দিল্লী মনে করেছে যে, অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমানবিক শক্তির ক্ষেত্রে আমেরিকা – বারত চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হবে. তাই বোধহয় সেখানে ওয়াশিংটনকে রাগ করাতে চাওয়া হচ্ছে না. ইরানের সঙ্গে গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর চুক্তি করলে ওয়াশিংটন নিশ্চিত ভাবেই তাদের বিরোধী রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য ভারতের উপর রাগ করবে.

এর মধ্যেই বোঝা যাচ্ছে যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারত সস্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কম ক্ষতিকারক জ্বালানী পেতে পারত এবং এই পাইপ লাইন তৈরী হলে, সামগ্রিক ভাবে আন্তর্জাতিক মাপ কাঠিতে এশিয়ার এই সংঘর্ষ প্রবণ অঞ্চলের সমস্যা কম হতে পারত.

শুধু শুধুই তো আর রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানী গাজপ্রম এই প্রকল্পকে সমর্থন করে নি. ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবের উত্তরে গাজপ্রমের একটি অংশ "স্পেত্সগাজআভতোত্রানস্পোর্ট" ইরান – পাকিস্থান – ভারত গ্যাস পাইপ লাইন প্রকল্পে অংশ নিতে চেয়ে পাল্টা প্রস্তাব করেছিল.