আফগানিস্তান থেকে আসা নার্কোটিক বিপদের পরিসর আরও চূড়ান্ত ক্রিয়াকলাপের এবং আন্তর্জাতিক পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপের দাবি করে. এ সম্বন্ধে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বৈঠকে বক্তৃতা দিয়ে বলেন রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধির সহকারী কনস্তানতিন দলগোভ.

   রাশিয়ার কূটনীতিজ্ঞ সেই সঙ্গে বিশেষ করে উল্লেখ করেন আফগানিস্তান থেকে নার্কোটিকের চোরাচালানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার, কারণ এ চোরাচালান চরমপন্থীদের অর্থ যোগানোর একটি বিশিষ্ট উপায়. রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে উত্পাদিত হয় সারা পৃথিবীর ৯০ শতাংশ হেরোইন, আর রাশিয়া তার ব্যবহারের দিক থেকে অগ্রস্থানে রয়েছে.
   আফগানিস্তানে রাজনৈতিক মীমাংসা ও আপোষের যে প্রক্রিয়া চলছে, রাশিয়া তা সমর্থন করে. সেই সঙ্গে এ সব প্রক্রিয়া যেন এ দেশে দীর্ঘকালীন স্থিতিশীলতা অর্জনে ক্ষতি না করে এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের তত্সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী না হয়, সেই সঙ্গে তালিব এবং আল-কাইদার বিরুদ্ধে ফলপ্রসূ বাধানিষেধ ব্যবস্থা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও. এ বিবৃতি সম্বন্ধে মন্তব্য করে প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ইউরি ক্রুপনোভ বলেনঃ
   রাসিয়ার কূটনীতিজ্ঞদের একনিষ্ঠতা আনন্দের বিষয়, যাঁরা এ বছরে এই তৃতীয় বার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আফগান নার্কোটিক উত্পাদনের বিপদ উচ্ছেদ সংক্রান্ত মূলনীতিগত নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উথ্থাপন করেছেন. আর এই অর্থে, এ সমস্যাকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিপদের স্থিতি দান সম্পর্কে তাদের দাবি এ বিপদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য অতি চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্রিয়াকলাপ চালানোর সুযোগ দেবে.রাশসিয়ার কূটনীতি একনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছে নার্কোটিক বিপদের স্থিতির আমূল বৃদ্ধির ধারণা, এবং তা অবশ্যই অতি উচ্চ মূল্যায়নের যোগ্য.
   কনস্তানতিন দলগোভ আরও এ মত প্রকাশ করেন য়ে, সন্ত্রাসবাদ, সুসংগঠিত অপরাধপ্রবণতাএবং নার্কোটিকের কারবারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সংগঠনের সম্ভাবনা আরও পূর্ণভাবে ব্যবহার করা উচিত, যে সংগঠন ইতিমধ্যে এ ধারায় কাজে নিজের ফলপ্রসূতা প্রমাণ করেছে, বিশেষ করে যৌথ নিরাপত্তার চুক্তি সংস্থা এবং শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা. রাশিয়ার কূটনীতিজ্ঞ মস্কোয় এ সংগঠনগুলির মাঝে সহযোগিতার ঘোষণাপত্রের স্বাক্ষর সমর্থন করেন, এ কথা উল্লেখ করে যে, রাশিয়ার মতে, আফগান ধারায় তাদের পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ সবচেয়ে জরুরী.
   এদিকে ঐ দিনই ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি দমিত্রি রগোজিন এ আশা প্রকাশ করেন যে, মস্কো ও উত্তর অ্যাটলান্টিক জোট আফগানিস্তান থেকে নার্কোটিক প্রচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে একক দৃষ্টিভঙ্গী প্রণয়ন করতে পারে. তিনি জানান যে, এ উদ্দেশ্যে ২৪শে মার্চ ব্রাসেলসে রাশিয়ার পক্ষের উদ্যোগে রাষ্ট্রদূতদের পর্যায়ে রাশিয়া-ন্যাটো পরিষদের পরিবর্ধিত বৈঠক হবে. যাতে অংশগ্রহণ করবেন নার্কোটিক কারবারের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত রাশিয়ার ফেডেরাল বিভাগের ডিরেক্টর ভিক্তর ইভানোভ. এ প্রসঙ্গে দমিত্রি রগোজিন এ দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করেন যে, আফগানিস্তানে হেরোইন মাফিয়ার বিরুদ্ধে সংগ্রামের বিষয়টি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটের অন্তর্বুক্ত, যা অনুযায়ী এ দেশে ন্যাটো জোটের বাহিনী রয়েছে. তার অর্থ, এটি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মতোই গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য, আর  এ দায়িত্ব আফগানিস্তানে  ন্যাটো জোটের অধিনায়কত্বে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনীর উপর থেকে কেউ সরিয়ে নয় নি.