রাষ্ট্রসংঘ এবং যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা সন্ত্রাসবাদ ও আন্তর্জাতিক অপরাধের বিষয়ে সমবেত ভাবে কাজ করার জন্য অঙ্গীকার বদ্ধ হয়েছে. এই বিষয়ে একটি যৌথ ঘোষণা বৃহস্পতিবারে মস্কোতে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব বান গী মুন এবং যৌথ নিরাপত্তা সংস্থার সাধারন সম্পাদক নিকোলাই বরদ্যুঝা স্বাক্ষর করেছেন.

    ১৯৯২ সালে যৌথ নিরাপত্তার সংস্থার সৃষ্টি হয়. এই সংস্থাতে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের সাতটি দেশ রয়েছে – রাশিয়া, বেলোরাশিয়া, আর্মেনিয়া, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান ও উজবেকিস্থান. রাষ্ট্রসংঘ যে এই সংস্থার সঙ্গে যৌথ দলিলে স্বাক্ষর করতে রাজী হয়েছে, তার অর্থ হয় যে, বর্তমানে এই সংস্থার কাজকে খুবই মূল্যবান বলে মনে করা হয়েছে এবং বিশ্বে নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য এর ভূমিকাকে স্বীকার করা হয়েছে, রাশিয়ার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক দিমিত্রি এভস্তাফিয়েভ এই ধারণা কে সমর্থন করে বলেছেনঃ

    বাস্তবে রাজনৈতিক ও ভৌগলিক ভাবে এই সংস্থার আইন সঙ্গত স্বীকৃতী দেওয়া হচ্ছে. আর তা কোন পিছনের দরজা দিয়ে নয়, বলা যেতে পারে প্রাসাদের সিংহ দুয়ার দিয়ে. এটি খুবই প্রয়োজনীয়, কারণ এই সংস্থার সমস্ত সমস্যা স্বত্ত্বেও রাষ্ট্রসংঘ আজও আন্তর্জাতিক আইন ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় সংস্থা. কিন্তু আত্ম প্রসাদ অনুভব করেই থামলে চলবে না, যৌথ নিরাপত্তা সংস্থা বর্তমানে সামরিক রাজনৈতিক সংস্থা হিসাবে তার পথ চলার শুরুর কাছেই রয়েছে. এর ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা খুব বেশী নয়.

    রাষ্ট্রসংঘ ও যৌথ নিরাপত্তা সংস্থার সম্মিলিত কাজের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মস্কোতে মনে করা হয় আফগানিস্থান এবং তার মধ্যে প্রথমতঃ এই দেশ থেকে মাদক পাচারের মোকাবিলা. তার চেয়েও বেশী হল আফগানিস্থানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারলে রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোর মধ্যে ন্যাটো জোট এবং যৌথ নিরাপত্তা সংস্থার ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি হতে পারে. রাশিয়ার ন্যাটো জোটের স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি রগোজিন তাই মনে করেন.

    রাষ্ট্রসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী রাজদূত ভিতালি চুরকিন বিশ্বাস করেন যে, এই দুই সংস্থার ঘোষণা একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাস্তবিক অর্থ বহন করে. কারণ এই দলিল সই হওয়ার সাথেই দুটি সংস্থার রাজনৈতিক ও আইন সঙ্গত কাজের ভিত্তি তৈরী হয়ে যাচ্ছে. এই নতুন চুক্তির ফলে যৌথ সংস্থার শান্তি রক্ষা বাহিনী রাষ্ট্রসংঘের বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি বজায় রাখার কাজে অংশ নিতে পারবে. এই দলিলে যৌথ নিরাপত্তা সংস্থার স্থায়ী বাহিনী তৈরী করার কথাও বলা হয়েছে. বাহিনী রাষ্ট্রসংঘের একক ব্যবস্থা অনুযায়ী ট্রেনিং করতে পারবে, একই ধরনের পারস্পরিক ভাবে বদল যোগ্য অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে এবং সম্মিলিত মহড়ায় অংশ নিতে পারবে. <sound>