জানাই আছে যে, যত লোক তত মত. কিন্তু ভারত ও রাশিয়ার ছাপা সংবাদ মাধ্যম গুলির ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফর সম্বন্ধে মন্তব্য একেবারে একই রকমের. এমন কি একেবারে ওপর থেকে সংবাদ পত্র গুলির খবর গুলোকে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে যে, রাশিয়া ও ভারতের সাংবাদিকেরা ভারত রাশিয়া সম্পর্ক নিয়ে যা বলছেন তার থেকে একটা সহজ সম্পর্কের ফরমুলা তৈরী করা যায়. আর সেটা এই রকমঃ রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ধাক্কা দিয়েছে. রাশিয়ার মাধ্যম এই নিয়ে কি লিখেছে তা আমরা আগেই বলেছি, এবারে ভারতীয় মাধ্যম গুলিকে উল্টে পাল্টে দেখা যাক.

    একেকটি সংবাদ মাধ্যম সহযোগিতার একেকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে, তা হতেই পারে. যেমন, "হিন্দুস্থান টাইমস", "হিন্দু", "এশিয়ান এজ" বেশী করে মনোযোগ দিয়েছে এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মোকাবিলা ও নিরাপত্তা প্রশ্নে সহযোগিতাকে নিয়ে. এশিয়ান এজ উল্লেখ করেছে আফগানিস্থান সম্বন্ধে সক্রিয় ভাবে প্রচুর আলোচনা এবং রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী যে, ভারতের ভূমিকাকে এই অঞ্চলের শান্তি প্রয়াসের গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক বলে স্বীকার করেছেন, তার কথা. বিশেষ করে "পুরনো বন্ধুরা স্ট্র্যাটেজিক সহযোগী হয়ে থাকে" নামের প্রবন্ধে লেখক উল্লেখ করেছেন রাশিয়া ও পাকিস্থানের সম্পর্কের বিষয় টি. এই প্রবন্ধে লেখা হয়েছে যে, ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন "রাশিয়া অন্যান্য দেশের চেয়ে আলাদা রকম ভাবে পাকিস্থানের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তির বিষয়ে সহযোগিতা করে না, কারণ ভারতের পক্ষ থেকে তা দেখা হয়ে থাকে ভারত রাশিয়ার বন্ধুত্বের পরিপন্থী হিসাবে".

    ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফর নিয়ে "The Times of India" লিখেছে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার উন্নতি নিয়ে. ভারতে রুশ পারমানবিক রিয়্যাক্টর স্থাপনের চুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যাল উত্পাদনে সহযোগিতা ইত্যাদি বিষয়ের মূল্যায়ণ করে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমানে লক্ষ্যনীয় উন্নতি সম্বন্ধে বলা হয়েছে. এই কাগজে রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতা যে আরও উন্নতি করবে তা নিয়ে নিঃসন্দেহ আস্থা প্রকাশ করা হয়েছে.

    ভারতের "The Hindu" ভ্লাদিমির পুতিনের আগামী সহযোগিতার উন্নতি সম্বন্ধে উদ্যোগ নিয়ে লিখেছে যে, "রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সফর দুই দেশের মধ্যে সক্রিয় আলোচনার গতি বৃদ্ধি করেছে", অ্যাডমিরাল গর্শকভ সম্পর্কে সমস্ত বচসার শেষ ও সামরিক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও গভীর এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশা করে কাগজে লেখা হয়েছে যে, এই সমস্ত সামরিক ক্ষেত্র, মহাকাশ গবেষণা, মিগ -২৯এস বিমান ক্রয় সব কিছুই সুদূর প্রসারিত এবং ভবিষ্যতের প্রযোজনীয় দলিল.

    ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের নজর রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর রেডিও রাশিয়ার কলকাতার শ্রোতার প্রশ্নের উত্তর হিসাবে অদূর ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য প্রধান ভাষায় আরও অনেক বেশী রাশিয়া সংক্রান্ত তথ্য রেডিওর মাধ্যমে উপস্থিত করার আশ্বাস এড়িয়ে যায় নি. কলকাতার "প্রতিদিন" কাগজে সানন্দে লেখা হয়েছে যে, রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি বিষয়টির প্রতি খুব শীঘ্রই মনোযোগ দেবেন.

    সব মিলিয়ে বেশীর ভাগ কাগজই লিখেছে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের ইতিবাচক গতি বৃদ্ধি নিয়ে. "হিন্দুস্থান টাইমসের" মতে "যদি সত্যের দিকে তাকানো যায়, তবে বলা উচিত্ হবে যে, এই সম্পর্ক বিগত কিছু বছরে গতি হারিয়েছিল". এ ছাড়া ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, "আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের প্রসারতা ও গভীরতা বৃদ্ধি পাবে, কারণ ভারতে রাশিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য পুরনো বন্ধু হিসাবেই দেখা হয়ে থাকে". আর ভ্লাদিমির পুতিনকে ও বর্তমানের রাশিয়ার প্রশাসনকে "দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পরিকল্পনা করার মতো ক্ষমতা শালী ও গুণী" বলেই দেখা হয়ে থাকে. "ভারত ও রাশিয়ার বাণিজ্য একটি পুতিন উত্সাহ পেয়েছে" নামের সঠিক শিরোনামে যে প্রবন্ধ হিন্দুস্থান টাইমসে প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে, "ভ্লাদিমির পুতিনের মাত্র ২২ ঘন্টা লেগেছে ভারত ও রাশিয়ার সহযোগিতাকে নতুন অর্থনৈতিক দিক নির্দেশ দিতে এবং তার সাথেই আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভারসাম্যের অভাবকে কাটিয়ে উঠতে".

<sound>