অদূর ভবিষ্যতে ভারতের মাটিতে রাশিয়া ষোলটি পারমানবিক রিয়্যাক্টর তৈরী করতে চলেছে. গত সপ্তাহে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের কার্য উপলক্ষে ভারত সফরের সময়ে পারমানবিক ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতা নিয়ে যে চুক্তি সই হয়েছে, সেখানে এই বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে. এই চুক্তি সই হওয়ার ফলে ভারত তার খুব কম কার্বন যৌগ সম্পদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতে নিজের শক্তি সমস্যার সমাধানের জন্য একটি নতুন চাবি কাঠি পেয়েছে. এ ছাড়া তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, পরপর কয়েকটি পারমানবিক চুল্লী বসালে তার দাম প্রায় একের তৃতীয়াংশ কমে যাবে. ২০২০ সালের মধ্যে দেশের পারমানবিক উত্স থেকে দেশের বিদ্যুত উত্পাদনের পরিমান প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করে ২০ হাজার মেগাওয়াট করার কথা ভাবলে এই চুক্তি খুবই লাভজনক হয়েছে.

    বর্তমানে ভারতের তামিলনাডু রাজ্যে কুদানকুলাম নামের জায়গায়, রাশিয়ার সহযোগিতাতে প্রতিটি এক হাজার মেগাওয়াট করে দুটি রিয়্যাক্টর তৈরী করার কাজ শেষ হতে চলেছে. দিল্লীতে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী এই ধরনের রিয়্যাক্টরের সংখ্যা বর্তমানের দুটি সমেত মোট বারোটি হবে. ছটি ব্লক হতে চলেছে কুদানকুলামে, আরও ছটি পশ্চিমবঙ্গের হরিপুরে, যেখানে ভারতের পক্ষ থেকে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরীর জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে. এ ছাড়া রসঅ্যাটম সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো বলেছেন যে, ২০১৭ সালের পরে ভারতের পক্ষ থেকে আরও একটি জায়গাতে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের জন্য রাশিয়ার সহযোগিতা চাওয়া হবে. সে ক্ষেত্রে ভারতে রাশিয়ার সহযোগিতাতে তৈরী পারমানবিক রিয়্যাক্টরের সংখ্যা হবে ষোলটি. প্রসঙ্গতঃ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বরাদ্দ অর্থের শতকরা ২৫ ভাগ পাবে ভারতের যন্ত্রাংশ তৈরীর কোম্পানী গুলি, আর তার ফলে দেশের কর্ম ক্ষেত্রে নতুন কাজের জায়গাও তৈরী হবে. আরও শতকরা ২৫ ভাগ পাবে বিশ্বের নেতৃত্বকারী কোম্পানী গুলি, আর ৫০ ভাগ থাকবে রাশিয়ার. এই প্রকল্প গুলির পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে খুবই গভীর অনুসন্ধান করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী কুদানকুলাম ও অন্যান্য ভারতীয় প্রকল্প গুলিতে যে ধরনের রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খুবই আধুনিক এবং সব চেয়ে নিরাপদ. এই ধরনের রিয়্যাক্টরের উপর মাঝারি মাপের যাত্রী বাহী বিমান সরাসরি ভেঙে পড়লে তার কিছু হবে না.

    দিল্লীতে স্বাক্ষরিত পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে পি টি আই সংস্থার মস্কোর সংবাদ দাতা ভারতীয় সাংবাদিক বিনয় শুক্লা বলেছেনঃ

    "রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে জরুরী বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আমাদের দেশের জন্য তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল. ভারতের জন্য বিশেষ বিষয় ছিল পারমানবিক শক্তির প্রশ্ন, আগামী দশ বছরে রাশিয়া আমাদের দেশে প্রায় ১৬ টি রিয়্যাক্টর তৈরী করতে চলেছে, তাই এই লগ্ন টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য নতুন একটি জোড়া লাগানোর জায়গা তৈরী হতে চলেছে. যদি আগে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক মূলতঃ ভিত্তি করা হয়েছিল সামরিক ক্ষেত্রে, তা হলে আজকের দিনে আরও স্পষ্ট করে অন্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে".

    বর্তমানে রাশিয়া একমাত্র দেশ, যারা ভারতকে পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রে প্রসারের বাস্তব সুযোগ দিয়েছে, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত দুই বছর আগে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ভারতের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, কিন্তু এখনও বাস্তবে কোন কাজ শুরু করে নি. এই সবই গত শতকের পঞ্চাশের দশকের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন ভারত দেশকে শিল্পোন্নত করার কথা ভাবতে শুরু করেছিল. তখন শুধু সোভিয়েত দেশই তাদের সহযোগিতার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল, যাতে ভারতে প্রথম ভারী শিল্প প্রকল্প তৈরী হয়েছিল.