আজ ১৫ই মার্চ পদার্থবিদ্যার অর্ধ পরিবাহী পদার্থ ও অর্ধ পরিবাহী ইলেকট্রনিক বিষয়ে নতুন দিগন্ত আবিষ্কারক ঝোরেস আলফিওরোভ তাঁর আশি বছরের জন্ম জয়ন্তী পালন করছেন. বিশ্ব বিখ্যাত এই রুশী পদার্থ বিদ খুবই অল্প কয়েক জনের মধ্যে একজন, যিনি পদার্থ বিদ্যার কঠিনতম বিষয় গুলিকে সহজ ভাষায় বোধগম্য করে বলতে পারেন. তাঁর বই পদার্থবিদ্যা ও জীবন বিশেষজ্ঞ ও সাধারন লোকের কাছে একই রকম ভাবে আকর্ষণীয়.

ঝোরেস আলফিওরোভ  - ২০০০ সালে অন্যতম সম্মানিত বিষয় পদার্থ বিদ্যায় নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন. একজন পদার্থবিদ্ বিজ্ঞানী কে নিয়ে বলতে হলে এ টুকুই যথেষ্ট. কিন্তু তিনি শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নিয়েই ব্যস্ত থাকেন না, আলফিওরোভ রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর সহ প্রেসিডেন্ট, সেন্ট পিটার্সবার্গের বিজ্ঞান কেন্দ্রের বোর্ডের প্রেসিডেন্ট, রাশিয়ার পার্লামেন্টের সদস্য. এই রকম লোক খুব কমই পাওয়া যাবে, যারা একই সঙ্গে বিজ্ঞানী এবং বড় দেশ নেতা. এই কথা যারা তাঁকে জানেন সকলেই বলেন.

তাঁর সহকর্মীরা তাঁর সম্বন্ধে সবসময়েই শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রচুর বলতে ভাল বাসেন. বর্তমানে তিনি ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ে খুব সক্রিয়ভাবে চর্চা করছেন – প্রফেসর ও পদার্থ বিদ্যার ডক্টরেট ওলেগ বিয়েলী – যিনি গত তিরিশ বছর ধরে ঝোরেস আলফিওরোভ কে চেনেন, তিনি বলেছেনঃ

"রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীতে এই বিষয়ে ঝোরেস আলফিওরোভ একজন অন্যতম পথিকৃত. তিনি গুরুত্বপূর্ণ এবং দামী অনুসন্ধান গুলিকে একটি ব্যবস্থার মধ্যে তালিকাভুক্ত করতে চান. ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ের চিকিত্সা বিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা ও অন্যান্য বিজ্ঞানের শাখা গুলিকে একই গোষ্ঠী হিসাবে দেখতে চান. বাস্তবে তিনি পদার্থবিদ্যার নতুন দিক তৈরী  করছেন".

ঝোরেস আলফিওরোভ সক্রিয় ভাবে বিজ্ঞানের সাধনায় নতুন প্রজন্মকে আবিষ্ট করতে চান. আর এই কাজের জন্য নিজের নোবেল পুরস্কারের সমস্ত অর্থ দিয়ে বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে নতুন ট্যালেন্ট দের সাহায্যের জন্য তহবিল বানিয়ে দিয়েছেন. রাশিয়ার ভবিষ্যত আলফিওরোভ এর জন্য সামান্য বিষয় নয়, তিনি চেয়েছেন যাতে গুণী ছেলে মেয়েরা দেশে থেকেই কাজ করে, প্রফেসর বিয়েলী যোগ করে বলেছেনঃ

"তিনি চাইছেন আমেরিকার মত দেশে সিলিকন ভ্যালি বানাতে, তিনি নিজেও বহুকাল আমেরিকাতে ছিলেন এবং এই সম্বন্ধে কোন শোনা কথা হিসাবে জানেন না. এ ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা প্রচুর কাজে লাগবে, তাঁর নিজের অবস্থান এবং সুস্পষ্ট বোধ রয়েছে যে, কি করে এটা করা সম্ভব".

আলফিওরোভ ব্যক্তিগত জীবনেও একজন বহুমুখী প্রতিভা, তিনি সংস্কৃতি খেলাধূলা ও নানা ধরনের সাহিত্য নিয়ে উত্সুক, খুবই ভাল তাঁর সঙ্গীত বোঝার ক্ষমতা. তিনি প্রায়ই সমস্ত নতুন নাটক দেখতে যান, যার থেকে নিজের ধারণা আরও প্রসারিত হয়. অনেক সংস্কৃতি জগতের দিকপালই তাঁকে চেনে. তাঁর খুবই কাছের বন্ধু ছিলেন সঙ্গীত স্রস্টা আন্দ্রেই পেত্রভ. তাঁর সঙ্গে মারিনস্কি থিয়েটারের প্রধান পরিচালক ভ্যালেরি গিয়ের্গিয়েভ মিত্রতা বন্ধনে আবদ্ধ. বড় কথা হল এই আশি বছরেও তিনি খুবই সক্রিয় এবং চলমান.

আলফিওরোভ এর জনপ্রিয়তা অবিশ্বাস্য রকমের বিরাট, সেন্ট পিটার্সবার্গে, যেখানে তিনি শহরের সম্মানিত নাগরিক, সেখানেও রাস্তায় লোকে তাঁকে দেখলে এগিয়ে এসে বলে থাকেন, আমাকে আপনার সাথে করমর্দন করার সৌভাগ্য অনুভব করতে দিন. "এটা তাঁর বৈজ্ঞানিক অবদানের জন্যই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত মানুষের গুণ গুলির জন্য. তাঁর সততার জন্য. আমি এর আগে কখনও দেখিনি – যে মানুষের কাছে মানুষ এই ভাবে এগিয়ে আসে" – বলেছেন প্রফেসর বিয়েলী.