“বিশেষ প্রতিবেদন”এই নামে গতকাল শনিবার জর্জিয়ার ইমেদি টেলিভিশনে রাশিয়াকে নিয়ে উস্কানিমূলক একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়.প্রতিবেদনে দেখানো হয় যে তিসখিনবাল নামের একটি স্থানে দক্ষিন ওসেটিয়ার নেতা এদোয়ার্দ কাকোইতোর উপর হামলা করা হয় এবং রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সাজোঁয়া যান জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে.এক পর্যাছে জর্জিয়ার রাষ্ট্রপতি মিখায়িল সাকাসবিলিকে হত্যা করে নিনো বুর্জানাদজির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করা হয়.
প্রতিবেদনটি টেলিভিশনের পিক আওয়ার’য়ে টানা ৩০ মিনিট প্রচার করা হয়.শুধুমাত্র প্রতিবেদনের শুরুতে এবং শেষ বলা হয় যে “এটি সম্পূর্ণ একটি ধারণা থেকে তৈরি করা হয়েছে. ‘’যদিও অধিকাংশ দর্শকরা শুরুর ঐ ঘোষনাটি মনোযোগ সহকারে দেখে নি তাই অনেকের কাছেই মনে হয়েছিল এটি সত্তিই কোন ঘটনা.
আর সবচেয়ে মজার ঘটনা হল যে এই প্রতিবেদনের পরই জর্জিয়ার রাষ্ট্রপতির প্রেস সেক্রেটারী মানানা মানঙিগালাজে ইমেদি টেলিভিশনের স্টুডিওতে সরাসরি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঘোষনা দেন যে,এটি সম্পর্ণ সাংবাদিকদের তৈরী প্রতিবেদন ছিল,বাস্তবের সাথে কোন মিল নেই.
রাশিয়া এবং দক্ষিন ওসেটিয়া এই প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা করেছে.রাশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলে হয় যে,তিবলিসির এই ধরনের কর্মকান্ড নতুন নয় আর এ থেকে বোঝাই যাচ্ছে যে,আমাদের সাথে ভ্রাতৃত্বসুলভ সম্পর্কে উপেক্ষা করে জর্জিয়া ২০০৮ সনের ছবি আবারও ফরিয়ে আনতে চাচ্ছে.সাংবাদিকদের এই প্রতিবেদনের পেক্ষিতে রাশিয়া “চমত্কার সাংবাদিকতা”বলে তিরষ্কার জানায়.
ঐ প্রতিবেদনের পরই তিবলিসির সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের হয় এবং ঐ টেলিভিশনের লাইসেন্স বাতিল করে বন্ধ ঘোষণার দাবি জানানো হয়.অনেক জর্জিয়ান নাগরিক আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে সাংবাদ পাওয়া যায়.
এদিকে জর্জিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল “ইমেদি” রাশিয়াকে নিয়ে যে উস্কানিমূলক প্রতিবেদন প্রচার করে সে বিষয়ে মন্তব্য জানতে আমরা কথা বলি রাশিয়ার পার্লামেন্ট দুমার আন্তর্জাতিক কমিটির প্রধান কন্সতানতিন কাসাচেবের সাথে.তিনি জানান,এই সব কিছু হতে পারে বাইরের কোন তৃত্বীয় পক্ষের উষ্কানিমূলক কাজ আর তা না হলে রাশিয়াকে এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে.তবে অবশ্যই রাশিয়া কখনওই জর্জিয়ার অভ্যন্তরীণ কর্মকান্ডে মাথা ঘামাবে না.  (sound)
শনিবারের ঐ প্রতিবেদনের পেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়য়ের কাছ থেকে এখনও কোন মন্তব্য আসে নি.