রাশিয়া ভারতীয় জনগণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল, আছে এবং থাকবে. ভারতীয় জনসমাজের প্রতিনিধিদের সাথে ইন্টারনেট সম্মেলনে এ সম্বন্ধে বলেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন.

   এ সম্মেলন ভারতের রাজধানী নয়া-দিল্লিকে দেশের তিনটি বড় শহর- ব্যাঙ্গালোর, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের সাথে যুক্ত করে. সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন ভারতীয় কারবারী মহল, সংস্কৃতি কর্মী, রেডিও রাশিয়ারশ্রোতা ক্লাবের সদস্যরা. একজন শ্রোতা ভারতের প্রধান প্রধান ভাষায় রাশিয়ার খবর পাওয়ার, সেই সঙ্গে ২০১৪ সালে আগামী শীতকালীন অলিম্পিক সম্বন্ধে খবর পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন. ভ্লাদিমির পুতিন এর উত্তরে বলেনঃ
   আমি সত্যিই আনন্দিত যে, ভারতে আমাদের দেশের ঘটনাবলি সম্বন্ধে জানতে ইচ্ছুক শ্রোতা আছে, যেখানে রেডিও রাশিয়ার অনুষ্ঠানের চাহিদা আছে. সত্যিই, সোভিয়েত আমলে রেডিও রাশিয়া ভারতের জন্য প্রকৃতপক্ষে সমস্ত প্রধান প্রধান ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচার করত. আর আজ এ অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে মাত্র দুটি ভাষায়. এটি সত্যি খুব দুঃখের কথা. তবে, কিছু কিছু সদর্থক প্রবণতাও আছে, যেমন আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করে এ অনুষ্ঠান প্রচার প্রসার করার, সেই সঙ্গে অন্যান্য ভাষায় উত্তীর্ণ হওয়ার, যে সব ভাষা আপনাদের দেশের বহু নাগরিকের জন্য মাতৃভাষা. অবশ্যই এটা যথেষ্ট নয়, এবং সরকারী পর্যায়ে প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন. আমরা অবশ্যই এ সম্পর্কে চিন্তা করব.
   প্রসঙ্গত বলি, আমাদের বেতার কোম্পানি মোবাইল রেডিও রাশিয়া প্রকল্প চালু করেছে. এখন মোবাইল টেলিফোনে সেল-যোগাযোগ থাকা পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় ১৭টি ভাষায় আমাদের অনুষ্ঠান শোনা যাবে. শিগগিরই আমরা মোবাইল সম্প্রচারের বাষার সংথ্যা ৩৯ পর্যন্ত বাড়াব. আমাদের অনুষ্ঠান সোনার জন্য নিজের টেলিফোনে বিশেষ প্রোগ্রাম স্থাপন করতে হবে, যা দেওয়া আছে আমাদের সাইটে.শ্রোতারা এ প্রোগ্রাম স্থাপন করতে পারেন বিনা খরচে.
   এ সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিন শ্রোতাদের বহু প্রশ্নের উত্তর দেন যা অতি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রের, যেমন, অর্থনীতি, পারমাণবিক শক্তি,মহাকাশ গবেষণা, পুঁজিনিয়োগমূলক সহযোগিতা, মানবতাবাদী সম্পর্ক, বৈজ্ঞানিক ও ছাত্রদের বিনিময়. বর্তমান সফরের কর্তব্যের কথায় এসে তিনি বলেনঃ
   যে পদাধিকারী হিসেবেই আমি আসি না কেন, সর্বদা আমি মনে রাখি যে, ভারত বহু দশক ধরে আমাদের স্ট্র্যাটেজিক শরিক, এটা অতশয়োক্তি নয়. আর এটা রাশিয়া ও ভারতের জনগণের পরস্পরের প্রতি সাধারণ সহানুভূতিরই প্রতিফলন নয়, যদিও তাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ. তবে এটা, সর্বপ্রথমে, আমাদের জিওপলিটিক্যাল স্বার্থের প্রায় সম্পূর্ণ মিলের প্রমাণ. আর, প্রথমত, আমি সর্বদা অনুভব করি য়ে রাশিয়ার বন্ধু দেশে এসেছি. দ্বিতীয়ত, যে পদাধিকারী হিসেবেই আমি এখানে আসি না কেন, আমার কর্তব্য একটাই- আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক বিকাশে এবং আমাদের নাগরিকদের মাঝে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করা. এবারেও প্রধান কর্তব্য হল, আগেকার সব দশকে এবং রাশিয়ার ইতিহাসের সোভিয়েত পর্বে যা নিরূপিত হয়েছিল তার বাস্তবায়ন চালিয়ে যাওয়া. বাস্তবিকপক্ষে, সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনেই ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশের বনিয়াদ গঠিত হয়েছিল.
   দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিকাশে প্রাধান্য হিসেবে ভ্লাদিমির পুতিন উচ্চ প্রকৌশলের ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ভারতের মাঝে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন. সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী মহাজাগতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সৃষ্টিতে. তিনি আরও জানান যে, এখন ভারতীয় মহাকাশচারী প্রস্তুতির প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে. প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, রাশিয়ায় বৈজ্ঞানিক-প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে মিলিত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পুঁজিনিয়োগের সুন্দর পরিবেশ গঠিত হয়েছে. আলাপের শেষে ভ্লাদিমির পুতিন ভারতীয় জনসমাজের সাথে এই নতুন রূপে আলাপ করার সুযোগের জন্য ধন্যবাদ জানান, আর এর কল্যাণেই তিনি জানার সুযোগ পেয়েছেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও বিকাশের জন্য কি করা দরকার.