রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ১১-১২ই মার্চ ভারত সফর করছেন. দিল্লিতে তিনি সাক্ষাতে মিলিত হবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী প্রতিভা পাতিলের সাথে এবং আলাপ-আলোচনা করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমনমোহন সিংয়ের সাথে. দু দেশের মাঝে স্ট্র্যাটেজিক শরিকানা বিকাশের বিভিন্ন প্রশ্ন আলোচনা করার এবং নতুন নতুন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা আছে.

   ভারতীয়রা ভ্লাদিমির পুতিনকে ভালভাবেই জানে এবং মনে রেখেছে. প্রায় দশ বছর আগে তিনি প্রথম এ দেশে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়েছিলেন. এ সফর হয়েছিল ২০০০ সালের অক্টোবরে. তাঁর আগে ১৯৯৩ সাল থেকে রাশিয়ার কোনো নেতা ভারত সফর করেন নি. সে সময়ে দিল্লিতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল রাশিয়া ও ভারতের মাঝে স্ট্র্যাটেজিক শরিকানার ঘোষণাপত্র. এর পরে ভ্লাদিমির পুতিন কয়েক বার ভারত সফর করেন দু দেশের স্ট্র্যাটেজিক শরিকানা বিকাশের উদ্দেশ্যে.
   আর এখন ভারতে তাঁর নতুন সফর হচ্ছে. দিল্লি আলাপ-আলোচনার অংশগ্রহণকারীদের সামনেরয়েছে বিশাল কর্মসূচি. কারবারী ভিসা দানের প্রক্রিয়া সরল করা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে.বিদ্যমান প্রথা বাণিজ্যিক যোগাযোগ বিকাশে, পণ্য-আবর্তন বৃদ্ধিতে বাধা দিচ্ছে, যা ২০১৫ সাল নাগাদ ২০০০ কোটি ডলারে পৌঁছোনোর কথা. গত বছরে এই সূচকটি ছিল প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের মতো. সফরের আলোচ্য সূচিতে রয়েছে গ্লোনাস-জি.পি.এস নেভিগেশন সরঞ্জাম উত্পাদনের জন্য মিলিত রুশ-ভারত প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রশ্ন, এবং একসারি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন. সেই সঙ্গে প্রাধান্যমূলক মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে শিল্প ক্ষেত্র, যন্ত্র নির্মাণ, পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তি, টেলি-কমিউনিকেশন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি. বিশেষ করে, আশা করা হচ্ছে যে, কুদানকুলামে পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তি কেন্দ্রে রাশিয়ার অংশগ্রহণে আরও দুটি এনার্জি-ব্লক নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে.
   দু দেশের সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে. আশা করা হচ্ছে যে, পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার বিমান নিয়ে কাজ সম্পর্কে রাশিয়া ও ভারতের মাঝে চুক্তির প্রথম প্যাকেট স্বাক্ষরিত হবে. তাছাড়া, ভারতে মিগ-২৯কা মার্কা ২৯টি বিমানের আরও এক ক্ষেপ সরবরাহ সম্বন্ধে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে. আগে ১৬টি এমন বিমান সরবরাহের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল. তার একাংশ ইতিমধ্যেই ভারতে পৌঁছেছে.
   ভারতে ভ্লাদিমির পুতিনের বর্তমান সফরের চরিত্র বর্ণনা করে রাশিয়ার ভারততত্ত্ববিদ, অর্থনীতিবিদ্যার ডি.এস-সি, প্রফেসার গেন্নাদি চুফরিন বলেনঃ
   এ সফরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ. উভয় পক্ষই এ সফরের সাথে যুক্ত করছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও আশা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাস্তব সুদৃঢকরণ ও প্রসারে, সেই সঙ্গে বাণিজ্যিক-অর্থনৈতিক ও সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতায়.এ কথা গোপন নয় যে, অতি সম্প্রতিকালেও,  আমাদের সহযোগিতার এই গুরুত্বপূর্ণ, প্রধান প্রধান ক্ষেত্রগুলি অতি কঠিন সময় অতিক্রম করেছে. বাণিজ্যিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিকশিত হয় অতি ধীরে, আর সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও কাঠিন্যের মধ্যে ছিল.
   সমস্ত কালেই রুশ-ভারত সম্পর্ক সর্বদা ছিল এশিয়া তথা সারা পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থিতিশীলকারী উপাদান. আমাদের উভয় দেশই রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্য, ব্রিক”,জি-২০, শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও রাশিয়া-ভারত-চীনের নেতাদের ত্রিপাক্ষিক সাক্ষাতের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী. এ সব কিছু মস্কো, দিল্লি ও বিজিংয়ের অভিপ্রায় দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করে যে তারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষমতা ব্যবহার করতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা ক্রমাগত জোর দেওয়া এক-মেরু সম্বলিত বিশ্ব-প্রথার বিকল্প এক আন্তর্জাতিক বিন্যাস গঠনের জন্য. তাছাড়া, এ ধরনের সমস্ত বিন্যাসে তাদের অংশগ্রহণ অর্থনৈতিক মন্দা, আবহাওয়ার পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম-ভিত্তিক চরমপন্থা, সীমান্ত-পারের অপরাধ, নার্কোটিক কারবারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মতো বিশ্বব্যাপী সমস্যায় ভারসাম্যপূর্ণ সাড়া সুনিশ্চিত করায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান উপস্থিত করছে.