ভারত ও চীন আবহাওয়া সংক্রান্ত কোপেনহেগেন চুক্তিতে যোগ দিয়েছে. এখন পৃথিবীর সমস্ত বড় বড় হট-হাউজ গ্যাস উত্পাদনকারী দেশের মাঝে সম্মতি রয়েছে আবহাওয়া গরম হওয়ার বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশগ্রহণের.

  চীন ও ভারত সেই সব দেশের অন্তর্ভুক্ত, যারা অতি সক্রিয়ভাবে প্রতিবেশ মলিন করছে. এ সত্ত্বেও তারা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে কাঠামোসম্বলিত দলিলে যোগ দিতে অস্বীকার করে, যা গত বছরের ডিসেম্বরে কোপেনহেগেনে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া গরম হওয়ার সমস্যা সংক্রান্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা গ্রহণ করেছিল. আর এ সত্ত্বেও যে উক্ত চুক্তির বিধানিক দিক থেকে বাধ্যবাধকতামূলক ক্ষমতা নেই. বাস্তবিকপক্ষে, এ হল সমস্যাটি নিয়ে বহুপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ের ঘোষণাপত্র ছাড়া আর কিছু নয়. আর তাও ছিল নিছক আনুষ্ঠানিকতা, যতক্ষণ না তা সমর্থন করছে প্রধান প্রধান হট-হাউজ গ্যাস উত্পাদনকারীরা.
   এখন তারা এতে যোগ দিয়েছে. উপরন্তু আবহাওয়া গরম হওয়ার বিরুদ্ধে সংগ্রামে এখন পৃথিবীর সমস্ত দেশ মত প্রকাশ করেছে, শুধু কিউবা, নাউরা, কুয়েত ও একুয়াডোর ছাড়া. থা এ আশা জাগায় যে, আবহাওয়া সংক্রান্ত নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রণয়ন নিয়ে কাজ সদর্থক দিকে এগিয়ে যাবে. অবশ্য, এখন তা চলেছে আশার চেয়ে ধীরগতিতে, উল্লেখ করেছেন আবহাওয়া পরিবর্তন ও কিওটো প্রটোকল সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ, রাশিয়ার আঞ্চলিক একোলজিক্যাল কেন্দ্রের ইউলিয়া দব্রোলিউবোভাঃ
   ২০০৭ সালে বালি দ্বীপে গৃহীত হয়েছিল তথাকথিত বালির কার্যকলাপের পরিকল্পনা, যা অনুযায়ী, কোপেনহেগেনে গ্রহণ করার কথা ছিল আবহাওয়া সংক্রান্ত বিধানিক দিক থেকে বাধ্যতামূলক চুক্তি. তবে, বিশ্ব জনসমাজের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, কোপেনহেগেনের সম্মেলন খুব ফলপ্রদ হয় নি. এখন অনেক কিছুই নির্ভর করবে এ বছরের আলাপ-আলোচনার প্রক্রিয়ার উপরঃ প্রধান প্রধান বিতর্কমূলক ধারা সম্বন্ধে দেশগুলি নিজেদের স্থিতি কত মাত্রায় সর্বসম্মত করতে পারবে তার উপর. কারণ ঘৌণ সব ধারা সম্বন্ধে দেশগুলি ইতিমধ্যে সমঝোতায় এসেছে. প্রধান বিষয়টির অভাব আছে- নির্ধারণ করতে হবে, কিভাবে সুউন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলি নতুন দলিলে অংশগ্রহণ করবে.
   সত্যিই, কোপেনহেগেন সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা সম্মত হয়যে, ২০২০ সাল নাগাদ বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রার সর্বাধিক বৃদ্ধি হতে পারে ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড. কিন্তু এ লক্ষ্য সাধনের জন্য সঙ্গতি নিরূপণকরা হয় নি. তাছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য বৈষয়িক ক্ষতিপুরণের অবস্থাও স্পষ্ট নয়, যারা বায়ুমন্ডলের মলিনতা হ্রাসের জন্য নিজেদের শিল্প উত্পাদন কমাতে বাধ্য হবে.
   সবাইকে সন্তুষ্টকারী বিধানিকদিক থেকে বাধ্যতামূলক দলিল প্রণয়নের পরবর্তী চেষ্টা আন্তর্জাতিক জনসমাজ করবে এ বছরের শেষে মেক্সিকোতে.তবে, কোপেনহেগেনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বহু বিশেষজ্ঞ এ মত পোষণ করছেন যে, এত তাড়াতাড়ি সদর্থক ফলাফলের আশা করা যায় বলে মনে হয় না- এক বছরের মধ্যে সমাধানের জন্য মতভেদ খুব বেশি. তবে ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের বেশি সুযোগ থাকবে সর্বসম্মতিতে আসার. উপরন্তু গড়িমষি করার সময় তাদের হাতে থাকবে না- ২০১২ সালে কিওটো প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে.