৪০ বছর আগে নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে একটি বুনিয়াদী আন্তর্জাতিক চুক্তি বলবত হয় – পারমাণবিক অস্ত্র প্রসার নিরোধের চুক্তি. এদিকে এই চার দশকে পৃথিবী পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত স্থিতির কাছাকাছি তো হয়ই নি, বরং এ মারণাস্ত্রের ভান্ডার আরও বাড়িয়েছে.

   পারমাণবিক অস্ত্র প্রসার নিরোধের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৭০ সালে, ক্যারিবিয়ান সঙ্কটের কয়েক বছর পরে, যখন গোটা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বিপদ দেখা দিয়েছিল. ঐ কয়েক বছরে পৃথিবীর প্রধান প্রধান দেশের রাজনীতিজ্ঞ ও রাষ্ট্রীয় কর্মীরা সচেতন হন যে, পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে অবশ্যম্ভাবীভাবে বিশ্ব বিপর্যয় ঘটাবে. প্রথমে এ চুক্তিতে যোগ দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, গ্রেট-বৃটেন ও ফ্রান্স, যাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র তখন ছিল. এভাবে তারা পারমাণবিক অস্ত্রাধিকারী দেশ হিসেবে নিজেদের স্থিতি সরকারীভাবে সূত্রবদ্ধ করে. তাদের সামনে ছিল কর্তব্য- পারমাণবিক প্রকৌশল বিকাশে বাধা দেওয়া এবং তা তৃতীয় দেশকে হস্তান্তর না করা. পরিপ্রেক্ষিতে এ দলিলের উদ্দেশ্য ছিল একটিই- সারা পৃথিবীতে পারমাঁবিক অস্ত্রের সমস্ত ভান্ডার ধ্বংস করা. তবে, এ পরিকল্পনা এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয় নি.
   ক্রমাগত জটিল হয়ে ওঠা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশ্ব পরিসরের বিরোধ, আঞ্চলিক সঙ্ঘর্ষ বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা ও প্রকৌশল বিকাশের পটভূমিতে কিছু কিছু দেশের সরকার নিজস্ব পারমাণবিক কর্মসূচি বিকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে. সবকিছুই কালোপযোগী ছিলঃ চুক্তি বলবত থাকার সময়ে তাতে যোগ দিয়েছে প্রায় ১৯০টি দেশ. শুধু তিনটি দেশ তাতে যোগ দেয় নিঃ ইস্রাইল, পাকিস্তান ও ভারত. আর কয়েক বছর আগে তা থেকে বেরিয়ে আসে উত্তর কোরিয়া. এদিকে, মূল্যায়ন অনুযায়ী চুক্তিবদ্ধ আরও ৩০টিরও বেশি দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে কাজকর্ম চালাচ্ছে. যেমন দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজস্ব পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয় এবং কিছু কিছু মূল্যায়ন অনুযায়ী এমনকি সে বোমার পরীক্ষাও চালিয়েছে. তবে, পৃথিবীতে সবচেয়ে তীব্রভাবে গৃহীত হচ্ছে উত্তর কোরিয়া ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যারা চৌকাঠে থাকা অন্যান্য দেশের মতো নিজেদের কাজের শান্তিপূর্ণ চরিত্রের কথা ঘোষণা করছে. তবুও এ চুক্তি নিজের কর্তব্য পালন করছে, মনে করেন রাশিয়ার বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের নিরস্ত্রীকরণের সমস্যা সংক্রান্ত বিভাগের নেতা আলেক্সান্দর পিকায়েভঃ
   প্রধান প্রধান সমস্যা হল অ-পারমাণবিক দেশগুলির দ্বারা পারমাণবিক অস্ত্র লাভের আকাঙ্ক্ষা. এমন একটি শেষ দৃষ্টান্ত হল উত্তর কোরিয়া. খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল এ রাষ্ট্র যেন পারমাণবিক অস্ত্র পেতে অস্বীকার করে. এ ব্যাপারে সংলাপ চলছে রাশিয়ার সক্রিয় অংশগ্রহণে. ভয় আছে যে, অন্যান্য দেশ এ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে পারে. এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভয় জাগাচ্ছে ইরান. এখানেও অন্যান্য দেশের সাথে মিলে রাশিয়া বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে, যাতে ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র দেখা না দেয়.
   চুক্তির প্রধান সমস্যা হল, একই প্রক্রিয়া- ইউরেনিয়ামের পরিশোধন যেমন শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে তেমনিই সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে. তার ধারা নির্ভর করে কোনো দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আকাঙ্ক্ষার উপর. পৃথিবী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে. একদিকে এ চুক্তি পারমাণবিক প্রকৌশল প্রচার সীমিত করে. অন্য দিকে বহু দেশের সরকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিধানিক বনিয়াদের উপর নির্ভর না করে নিজস্ব পারমাণবিক ক্ষমতার উপর নির্ভর করতে চায়. মনে হয়, নিকট ভবিষ্যতে এ প্রবণতা বদলানো সম্ভব হবে না. যদিও এর জন্য বিপুল প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, সেই সঙ্গে বড় বড় পারমাণবিক অস্ত্রাধিকারী দেশের তরফ থেকেও.