কাবুলের বিশ্লেষকেরা এবং অন্যান্য রাজধানীতেও বলে যাওয়া হচ্ছে যে, আফগানিস্থানের গেলমেন্দ প্রদেশে পশ্চিমের সৈন্য বাহিনীর অপারেশন সাফল্য মণ্ডিত হয়েছে. সেখানে কয়েকদিন আগে আফগানি পদাতিক বাহিনীর সহায়তায়, মার্কিন নৌবাহিনীর সৈন্যরা একটি ছোট শহর মার্ঝা দখল করেছিল, যা মনে করা হয়েছিল যে, এই অঞ্চলে তালিবদের প্রধান ঘাঁটি. বলে দেওয়া হয়েছে যে, আগামী আক্রমণ করা হতে চলেছে কান্দাহার প্রদেশে আর যেহেতু গেলমেন্দ প্রদেশে সেনা বাহিনীর বিচারে বিজয় হয়েছে তাই আগে থেকেই এখানে বিজয় আশা করা হয়েছে. যদিও অনেক বিশ্লেষক মোটেও বিষয় টি অত সহজ হবে না বলে মনে করেছেন. অংশতঃ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, পশ্চিমের সেনা বাহিনীর বিশেষ স্ট্র্যাটেজির ফলে আফগানিস্থানের পূর্ব পরিকল্পনা মত মধ্যপন্থী তালিবদের শান্তি প্রক্রিয়াতে সংযুক্ত করণ বোধহয় আর হবে না.

    এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আমাদের পর্যবেক্ষক ওলেগ গ্রিবকভের মতে, এখানে তর্ক করা চলতে পারে. আমেরিকার প্রতিনিধি দের কথা থেকে পরিস্কার দেখা যাচ্ছে, যে ওয়াশিংটনের তালিবদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে কোন রকমের বিশেষ নীতিগত বাধা বা ট্যাবু নেই. তাই আমেরিকা তাদের কে নিজেদের জোটে নিয়ে নিতেই পারে. কিন্তু তাদের সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলতে আমেরিকা তখনই তৈরী হবে, যখন আমেরিকার জন্য সবচেয়ে ভাল ও লাভজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে. অন্য ভাবে বলতে হলে, আমেরিকা আলোচনা করতে অরাজি নয়, কিন্তু চায় শক্তি দেখিয়ে তবেই তাতে যোগ দিতে. ঠিক এই কৌশলের প্রয়োগ দেখে ব্যাখ্যা করে বলা যেতে পারে, ওয়াশিংটন ইরাকে বিগত কিছু বছরে নিজেদের কাজ করেছে. যখন বেশ কয়েক বছর আগ্রাসন ও অধিগ্রহণের পর পুরো দেশই একটা বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল, তখন আমেরিকা বুঝতে পেরে সন্দেহ করেছিল যে, এই দেশে তারা কিছু কাজ ঠিক করে করতে পারে নি. বর্তমানের পেন্টাগনের মাথা রবার্ট গেইটসের নেতৃত্বে নতুন পরিকল্পনা তৈরী করা হয়েছিল. এই পরিকল্পনার বিশেষত্ব ছিল যে, একই সাথে শাস্তি ও পুরস্কারের নীতি চালু করা হয়েছিল. আমেরিকার সেনারা বিরোধী গেরিলাদের উপর খুব জোর দিয়ে আক্রমণ শুরু করেছিল এবং একই সঙ্গে সেই সব প্রজাতিদের বেশী করে অর্থ দেওয়া শুরু করা হয়েছিল, যারা রাজী হয়েছিল আমেরিকার দিকে যোগ দিতে অথবা কম করে হলেও যুদ্ধ ক্ষেত্র ছেড়ে যেতে রাজী হয়েছিল. এই কৌশল ইরাকে খুব একটা প্রকৃষ্ট রকম কাজ করে নি, যারা কোন সময় আমেরিকার তরফে ঝুঁকেছিল, তারা আবার নানা করণে গেরিলাদের দলে ফিরে গিয়েছিল. অন্যরা যারা নতুন জোটের প্রতি তাদের বিশ্বাস বজায় রেখেছিল, তারা কিছু সময় পর দেখতে পেল যে, তাদের কাজ ফুরোলে কেউ আর তাদের মনে করে বসে নেই. যাই ঘটে থাক, রবার্ট গেইটসের নতুন কৌশল ইরাকে ওপর থেকে নিজের একটা প্রভাব ফেলতে পেরেছিল. আর সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে, গেইটস আবার একই কৌশল আফগানিস্থানে কাজে লাগাতে চান, কিন্তু সেখানে এই ইরাকের কৌশলে কাজ হবে কি না তা বলা যায় না, কারণ দুটো দেশের পরিস্থিতি অন্যরকম. এই প্রশ্ন আমরা করেছিলাম, মস্কোর বিখ্যাত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক, "রাশিয়া বিশ্বের রাজনীতিতে" জার্নালের প্রধান সম্পাদক ফিওদর লুকিয়ানভ কে. তিনি বলেছেনঃ

    "ইরাকে সব মিলিয়ে এই কৌশল কাজে লেগেছে, কিন্তু আফগানিস্থানে পরিস্থিতি অনেক বিষয়েই আলাদা করে এগিয়ে যাচ্ছে. দুই দেশের অবস্থার মধ্যে অনেক মিল দেখা গেলেও কিছু একেবারে মূল গত বিভেদ রয়েছে. ইরাকে নানা রকমের ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ থাকলেও দেশের লোক চায় কেন্দ্রে শক্তিশালী সরকার দ্রুত তৈরী করতে, সেখানের লোকেরা কোন প্রশাসক কে বিশেষ করে অপছন্দ করলেও, কেউই সন্দেহ করে না যে, প্রয়োজন আছে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় প্রশাসনের. আফগানিস্থানে এই বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা".

    তার সঙ্গে আলাদা ভৌগলিক অবস্থান. ইরাকে স্বাধীন পুস্তুন প্রজাতির অঞ্চল বা খোলা সীমান্ত বলে কিছু নেই. অন্য ভাবে বলা উচিত্ আমেরিকার লোকেরা যদি সত্যই চায় ইরাকের অভিজ্ঞতা আফগানিস্থানে কাজে লাগাতে, তবে তাদের নিজেদের পরিকল্পনার ছকে প্রয়োজনীয় অদল বদল করতে হবে. কিন্তু তাতে যে সাফল্য আসবেই তা বলা যায় না.

<sound>