আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের সৈন্যরা তৈরী হচ্ছে আফগানিস্থানের দ্বিতীয় বড় শহর কান্দাহার আক্রমণ করতে. প্রমাণ করা হয়ে থাকে যে, আফগানিস্থানের এটাই তালিবদের প্রধান ঘাঁটি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাঁদের ন্যাটো জোটের সামরিক নেতৃত্ব খুবই উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন তাঁদের মশতারাক অপারেশনে গেলমেন্দ প্রদেশের মার্ঝা শহর দখল করতে পেরে. সত্য যে, আমেরিকার সেনা কর্তারা সন্দেহ করছেন যে, মার্ঝা শহরের অন্য তালিবেরা হয় পাহাড়ে পালিয়ে গেছে, নয় তো অস্ত্র লুকিয়ে সাধারণের ভীড়ে হারিয়ে গেছে. বোধহয় কান্দাহারেও এই রকম কিছু একটা হতে চলেছে. কিন্তু এই সবই হচ্ছে আফগান মাটিতে. প্রতিবেশী পাকিস্থানে ঘটছে অন্য ঘটনা, যা তালিব মোকাবিলার সম্মিলিত ছবিতে ঠিক খাপ খাচ্ছে না. পাকিস্থান চাইছে আফগান তালিবদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে সেখানে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে. এই রকম কি হতে পারে? আমরা পাকিস্থান, আফগানিস্থান ও ভারত বিশারদ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ কে এই রকম একটা প্রশ্ন করে ছিলাম, তার উত্তরে তিনি বলেছেনঃ

    "পাকিস্থানের সরকার, তাদের মহা শক্তিশালী গুপ্তচর সংস্থা সবসময়ই আফগানিস্থানকে দেখেছে তাদের স্বাভাবিক স্ট্র্যাটেজিক প্রভাবের এলাকা বলে, এটা তাদের দরকার কারণ ভারতের সঙ্গে বিরোধের ক্ষেত্রে এই জমি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ. আজ পাকিস্থান আফগানিস্থানে ভারতের প্রভাবের উন্নতি দেখে উদ্বিগ্ন. আবার অন্যদিকে পাকিস্থানে অনুভব করেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্য পন্থী তালিবদের শান্তি প্রস্তাবে জোর করে ঢোকানোর চেষ্টা করে পাকিস্থানকে ছাড়াই সব করে ফেলতে পারে. এটা আবার পাকিস্থানের পছন্দ নয়. তাই তারা নানা রকমের দিক পরিবর্তন করা শুরু করেছে. যাতে আফগানিস্থানের তালিবদের ব্যবহার করে মার্কিন দের নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণ দেওয়া যায়. আফগানিস্থানের কেন্দ্রীয় সরকারকে ও সম্ভবতঃ ভারতকে একসাথে চাপ দেওয়া হয়".

    তালিবান আন্দোলনের শুরুতে ও সোভিয়েত উপস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময়ে আফগানিস্থানে তালিবদের নেতৃত্ব দিয়েছিল আই এস আই নামের পাকিস্থানের গুপ্তচর সংস্থা, যারা সাহায্য পেত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছ থেকে. এই সব লোকেদের এখনও তালিবদের সঙ্গে যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ রয়েছে, যেমন হাকানি মাফিয়া দলের সঙ্গে. তারা পূর্ব্ব আফগানিস্থানের প্রদেশ গুলিতে নানা কাজে জড়িত.সুতরাং তালিবদের মধ্যে পাকিস্থানের সাহায্যকারী রয়েছে. কিন্তু তাদের এই পাল্টি খাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে নেবে?

    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্থান জোট বদ্ধ. কিন্তু তাদের মধ্যে বিরোধের জায়গাও রয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্থানকে বলেছে তাদের দেশের ভিতরেই তালিবদের মোকাবিলা করতে. পাকিস্থানের অন্য উদ্দেশ্যও রয়েছে. গত কয়েক মাসে পাকিস্থানের গুপ্তচর সংস্থা কম করে হলেও তালিবান আন্দোলনের চারজন প্রখ্যাত নেতাকে ধরে মার্কিন সংস্থার কাছে তুলে দিয়েছে. বিশেষজ্ঞদের মতে এটা করা হয়েছে কারণ পাকিস্থান দেশের ভিতরে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কোন তালিব নেতাকে রাখতে চায় না এবং তাদের জায়গায় নিজেদের লোক রাখতে চায়. মনে হয় না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সব রং বদল ভাল চোখে দেখবে. তারা সব সময়েই চাইবে আফগানিস্থানে নিজেদের প্রভাবকে বেশী করতে আর পাকিস্থানকে তা কিছুতেই দেবে না".

    পাকিস্থান আফগানিস্থানে নিজেদের খেলা চালাচ্ছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের জোটেরা নিজেদের খেলায় মত্ত. আফগানিস্থানের এই খেলায় কি করার আছে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেন যে, বিষয়টা দুঃখের হলেও আফগানিস্থান বর্তমানে স্রেফ খেলার মাঠের ভূমিকাই পালন করছে, তার ওপরে তা থেকে তাদের ফল যা মিলছে তা খুবই খারাপ. তালিবান আন্দোলনের সঙ্গে খেলা খেলতে গিয়ে এই খেলার দলেরা না চাইলেও তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছে. সন্ত্রাসবাদী দল থেকে এখন তালিবান দল রাজনৈতিক দলে পরিণত হতে চলেছে, যাদের সঙ্গে হিসেব করে কাজ করতে হবে, শুধু যুদ্ধের মাঠেই নয়, আলোচনার টেবিলেও. এটা আফগানিস্থানে শান্তি বা স্থিতিশীলতা আনবে এমন তো মনে হয় না.