দমকল ও অন্যান্য ত্রাণ কর্মীদের সাহায্য করবে রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের ন্যানো টেকনলজি ব্যবহার করে তৈরী করা নতুন বিশেষ ধরনের পোষাক. চৌম্বক ধর্ম সহ বিশেষ অতি ক্ষুদ্র পদার্থ দিয়ে কাপড়ের ভিতরের সুতো ভর্তি করা হবে, এই পদার্থ সারা শরীরের সমস্ত অঙ্গের উপর প্রভাব বিস্তার করে মানুষের শরীরের নিজের থেকেই ঠিক করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে.

    আগুনের সঙ্গে পেরে ওঠা দমকলের লোকেদের শুধু মাত্র পেশাদারী দক্ষতাই সাহায্য করে না, সে ক্ষেত্রে অনেক কিছুই নির্ভর করে সঠিক তাপ ও জল নিরোধক পোষাক. কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানীরা স্থির করেছেন আরও একটু এগিয়ে যেতে. ইভানভ শহরের রাষ্ট্রীয় তন্তুবায় একাডেমীর পদার্থ বিদ্যা এবং ন্যানো টেকনলজি বিভাগের প্রধান ডঃ আনাতোলি ইজগরোদিন মনে করেন যে, দমকল ও ত্রাণ কর্মীদের পোষাক শুধু প্রতিরক্ষার পোষাক হলেই চলতে পারে না, তিনি বলেছেনঃ

     "খুব গুরুত্বপূর্ণ হল নার্ভ শক্ত রাখতে পারা এবং যাতে ভয়ানক অবস্থায় কর্মীর মানসিক ভারসাম্য নষ্ট না হয়, আর সে যেন ঠাণ্ডা মাথায়, বুদ্ধি করে কাজ করে যেতে পারে".

    মানুষের সমস্ত শরীরের ব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে আনাতোলি ইজগরোদিন আস্থা রেখেছেন চৌম্বক শক্তির উপর, এই চৌম্বক শক্তি সৃষ্টি করবে চৌম্বক পদার্থ, যা ন্যানো কণিকা সাধারণ কাপড়ের তন্তুর ভিতরে থেকে করবে. বর্তমানে যে সমস্ত চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করা হয় তা খুবই বড় আর ভারী. বিজ্ঞানীর ধারণা অনুযায়ী ন্যানো প্রযুক্তি দিয়ে তন্তুর ভিতরে ঢুকে পড়া যাবে.

    "মনে করা যাক ১ গ্রাম সুতীর ভিতরে প্রায় একশ স্কোয়ার মিটার ভিতরের জায়গা রয়েছে. সেখানের ফুটো গুলো ন্যানো মিটারের দশমাংশ থেকে মাইক্রো মিটার পর্যন্ত বড়. আর যদি আমরা এই রকমের মাপের চৌম্বক ধর্ম সমেত কণিকা পাই তাহলেই আমরা আর দুটি তন্তুর আভ্যন্তরীন বা সুতোর ভিতরের জায়গা ভর্তি না করে একেবারে তন্তুর ভিতরে ক্ষুদ্র তম জায়গাতে সেগুলি রাখতে পারব".

    চৌম্বক ধর্ম সমেত কাপড় দিয়ে যে পোষাক বানানো হবে তা হবে নরম এবং হাল্কা, তা ছাড়া বর্তমানের পোষাক যদি মাত্র পাঁচ মিনিট সময় তিনশ ডিগ্রীর উপর তাপমান হলে কাজ করার যোগ্য থাকে, তবে নতুন কাপড়ের পোষাক অনির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত শুধু তাপমাত্রাই সহ্য করতে পারবে না, বরং দমকল ও ত্রাণ কর্মীদের আরো ঠাণ্ডা মাথার এবং দ্রুত শক্তি পুনরুদ্ধারের যোগ্য করে তুলবে. ইভানভ অঞ্চলের বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের দপ্তরের উপ প্রধান আন্দ্রেই পোলোজভ ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, শুধু দমকল কর্মীদের জন্যই নয় বরং সমস্ত রকমের ত্রাণ কর্মীদের জন্যই এই পোষাক দরকার, কারণ তাঁদের কাজের সময়ে বহু নেতিবাচক ঘটনা মানসিক ও শারীরিক ভাবে প্রভাব বিস্তার করে.

    "বহু লোকই অবসর পাওয়ার পরেই খুব দ্রুত কঠিন অসুখে ভোগেন, এটা কোন গোপন কথা নয়, আর যদি আমাদের এই রকম আধুনিক পোষাক থাকে তা হলে যে সমস্ত অবস্থায় আমরা প্রায়ই পড়ে থাকি, তার থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাওয়া যাবে. আমার মনে হয় অবসর পাওয়া লোকেদের মধ্যে স্বাস্থ্য ভাল লোকের সংখ্যা এর ফলে বাড়বে".

    এই বিজ্ঞান প্রযুক্তির কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, ইভানভের বিজ্ঞানীরা এখন চিকিত্সকদের সঙ্গে একসাথে চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতা ও মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের উপর তার প্রভাব নিয়ে কাজ করছেন. বোধহয় ভবিষ্যতে এই বিশেষ ধরনের পোষাকের ব্যবহার করার ক্ষেত্র অনেক বড় হবে.