মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বা স্ট্র্যাটেজিক প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরী করার মধ্যে পারমানবিক অস্ত্রসজ্জা হ্রাস করতে চেয়েছেন বারাক ওবামা. আর এই কমানো হবে নাটকীয় ভাবে – এই ঘোষণা করেছেন রাষ্ট্রপতির সহকারীরা. কিন্তু এই দলিল তৈরী করতে গিয়ে ওয়াশিংটনের প্রশাসনের মধ্যেই কিছু কম নাটকীয় কাণ্ড চলছে না.

    যারা এই দলিল তৈরী করছিল, তারা দুটি দলের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে. প্রথম দল যারা বারাক ওবামার লক্ষ্যকে অর্থাত্ পারমানবিক অস্ত্র হ্রাস করার ইচ্ছাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির কেন্দ্রে দেখতে চান তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপ রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন. তাদের বিরুদ্ধে বর্তমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রবার্ট গেইটস এর দল রয়েছে, যারা চাইছে পারমানবিক অস্ত্রসজ্জা কমানোর বিষয়ে রাষ্ট্রপতির চলা কে বাধা দিতে. এতদূর বিষয়টি গড়িয়েছে যে, বারাক ওবামাকে নতুন পারমানবিক পরিকল্পনার লক্ষ্য বিষয়ক দলিলকে যথেষ্ট রকমের সাহসী এবং নতুন রাষ্ট্রপতির পরমাণু বোমা বিহীণ বিশ্বের লক্ষ্যের অনুকূল নয় বলে আবার করে তৈরী করতে ফেরত পাঠাতে হয়েছে. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে এই রকমের লক্ষ্য বারাক ওবামা ২০০৯ সালের প্রাগ শহরের বক্তৃতায় সামনে রেখে ছিলেন. তখন মার্কিন রাষ্ট্রপতি নতুন ব্যবস্থা তৈরী করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধ করা সম্ভব হয়. প্রসঙ্গতঃ এই বিষয়েই আগামী এপ্রিলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ব সম্মেলন হতে চলেছে. আর অবশ্যই বারাক ওবামার প্রশাসন চায় এই সম্মেলনে প্রমাণ নিয়ে উপস্থিত হতে যে, তারা পরমাণু অস্ত্র বিহীণ বিশ্বের জন্য শুধু কথায় নয় কাজেও কি করেছে, তা নিয়ে. সুতরাং বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞরা যা বলতে চেয়েছেন, তা হল বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে আগামী সম্মেলনের সাফল্য নির্ভর করছে সেই সময়ের মধ্যে রুশ মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা নিয়ে নতুন চুক্তি সই হওয়ার উপর. যদিও, অবশ্যই এই দুই দলিলের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ রয়েছে. আর তাই বারাক ওবামার প্রশাসনের মধ্যে যে বিভেদ রয়েছে তা দূর করা এত প্রয়োজন, যারা কিছুতেই নতুন পারমানবিক পরিকল্পনার দলিল ও নতুন অস্ত্রসজ্জা চুক্তিকে রূপায়িত হতে দেরী করাচ্ছে. কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইনস্টিটিউটের প প্রধান পাভেল জোলোতারিয়েভ এই প্রসঙ্গে বলেছেনঃ

    "বোধহয় এর অনেকটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিতরের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে, সেই বিরোধী পক্ষ, যারা কিছুতেই রাষ্ট্রপতি ওবামার পারমানবিক রাজনীতিকে অন্যন্য অনেক কিছুর মতই মেনে নিতে পারছে না, তারা বাধা দিয়েছে. তবে মনে হচ্ছে এবারে বাকী সমস্ত বিবাদের বিষয় গুলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং দলিল তৈরী হবে. আর তা একবার স্বাক্ষর হলেই নতুন স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা চুক্তিও সই হবে".

    প্রসঙ্গতঃ সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, মস্কো এবং ওয়াশিংটন নতুন চুক্তির সহমতে না আসা প্রশ্ন গুলির বিষয়ে অনেক খানি এগিয়েছে এবং এই বিষয়ে আলোচনা ৯ই মার্চ পর্যন্ত চলবে. এরকম হতেও পারে যে, এপ্রিল মাসের আগেই দুটি পারমানবিক দলিলই তৈরী হয়ে যাবে.