রাশিয়া ও ইউরোপীয় সংঘের দেশ গুলির মধ্যে বিনা ভিসায় যাতায়াতের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন. রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে প্যারিসে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সম্বন্ধে আলোচনা শেষ হওয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলনে ফরাসী রাষ্ট্রপতি নিকোলা সারকোজি এই ঘোষণা করেছেন. দুই দেশের নেতারাই সহমত হয়েছেন যে, রাশিয়া ও ফ্রান্স এবং রাশিয়া ইউরোপীয় সংঘ যদি সম্পূর্ণ ভাবে সহযোগী হতে চায় তাহলে বাণিজ্য, পর্যটন, পরিষেবা এবং মানুষের অবাধ বিনিময় ছাড়া তা সম্ভব হতে পারে না. রাষ্ট্রপতি সারকোজি নিজে থেকে এই ধারণা কে ইউরোপীয় সংঘের অন্যান্য সদস্য দেশের মধ্যে প্রসারিত করার দায়িত্ব নিয়েছেন. আমাদের বিশেষ সংবাদ দাতা মিখাইল কুরাকিন প্যারিস থেকে বলেছেনঃ

"রাষ্ট্রপতি সারকোজি শুধু সমর্থন করেছেন এই তথ্য কে যে, বর্তমানে রাশিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে বিশেষ ভাবে ক্ষমতা যুক্ত সহযোগিতা হচ্ছে. আর যদিও রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সফর ফরাসী দেশে রুশ দেশের বর্ষের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এবং সংস্কৃতি ও মানবিক সম্পর্ক বিনিময়ের একটি মোড় ঘোরানোর বছর, তাও স্বাভাবিক ভাবেই শুধু মাত্র এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না. এখানে কথা হয়েছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মাপ কাঠিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার, অংশতঃ দিমিত্রি মেদভেদেভের প্রস্তাবিত ইউরোপীয় নিরাপত্তার বিষয় টিকে নিয়ে".

দিমিত্রি মেদভেদেভের মতে আজকের দিনে ইউরোপের নিরাপত্তার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ. বিগত কয়েক বছরে এই অঞ্চলে পরিস্থিতির দ্রুত বদল হয়েছে, তাই উচিত্ হবে কাঠামোর বদল করার, যে সংস্থার ভিতরে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্ভূত প্রশ্ন গুলির আলোচনা করা হয়ে থাকে. দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, রাশিয়া নিজেদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় নিরাপত্তার নতুন কাঠামো তৈরীর এবং বর্তমানে সহযোগীদের পক্ষ থেকে উত্তরের প্রত্যাশা করে. তিনি আরও বলেছেনঃ

"রাশিয়া প্রজাতন্ত্র যে উদ্যোগ নিয়ে প্রস্তাব করেছে সেটা কোন রকমের কল্পিত বাস্তব নয়. আমরা তৈরী আছি তা আধুনিকীকরণ করতে, এখানে মূল কথা হল নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ পাওয়ার. আর এই ধরনের প্রশ্ন যে, ইউরোপে উদ্ভব হয়েছে, তা সকলেই জানেন. শুধুমাত্র যুগোস্লাভিয়ার পতনের পরে উদ্ভূত সমস্যা গুলিকে দেখলেই বা ককেশাসের ২০০৮ সালের সমস্যার পরের পরিস্থিতি দেখলেই তা স্পষ্ট বোঝা যায়. আমরা এই দিকে ফরাসী দেশ ও আমাদের অন্যান্য সহযোগী দেশ গুলির সঙ্গে আলোচনা করতে তৈরী আছি".

আরও একটি প্রশ্ন, যেটিকে বাদ দিয়ে বর্তমানে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির একটি সহকর্মী সাক্ষাত্কারও বাদ যায় না, তা হল ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা. দুঃখের বিষয় হল পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে, ইরানের নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে শান্তি পূর্ণ ভাবে পারমানবিক পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করার আহ্বান আপাততঃ কোন ফল দেয় নি. আর যদিও রাশিয়াতে এখনও আশা ছাড়া হয় নি যে, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করেই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে, তাও দিমিত্রি মেদভেদেভ তৈরী আছেন অন্য রকমের ঘটনার দিক বদলের জন্য. তিনি বলেছেনঃ

"রাশিয়া অন্যান্য সহযোগী দেশ দের সাথে একসঙ্গে নিষেধাজ্ঞা জারী করার বিষয়ে আলোচনা করতে তৈরী. কিন্তু এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই হতে হবে খুবই বিচার করে নেওয়া এবং বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন. দেশের সাধারন মানুষের বিরুদ্ধে তা কখনোই নেওয়া হবে না এবং তাতে এমন ধরনের প্রবল চাপ দেওয়া সম্ভব হবে, যাতে তার বাইরে গেলে আর কোন রকমের আলোচনাই সম্ভাব্য না হয়. তাই অবশ্যই আশা করব, যাতে এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে না হয়".

দুই রাষ্ট্রপতি রাশিয়ার সম্ভাব্য ফরাসী যুদ্ধ জাহাজ মিস্ত্রাল কেনা নিয়ে কথা বলেছেন, যদিও ফরাসী দেশে এবং ইউরোপীয় সংঘে এই ধরনের বিক্রয়কে সমর্থন করা হচ্ছে না, তবুও নিকোলা সারকোজি বিশ্বাস করেন যে, এই প্রশ্নটি ততটা শুধু বাণিজ্য সম্পর্কের মধ্যেই পড়ে না, যতটা বিশ্বাসের প্রশ্ন. এই রকম ঘোষণা করা সম্ভব নয়, যে কিছু প্রশ্নের ক্ষেত্রে আমাদের দেশ গুলি বন্ধু এবং সহকর্মী আর অন্য ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের রাস্তা আলাদা.

কিন্তু মেদভেদেভ এবং সারকোজি পছন্দ করেন সম্পর্ক বিশ্বাসের ভিত্তিতেই তৈরী করতে. এটা বিনা বাক্য ব্যয়েই বোঝা যায়. শুধু এই টুকু মনে করালেই যথেষ্ট হবে যে, কি রকম কঠিন ও জটিল সময়ে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছিল. ২০০৮ সালের আগষ্ট মাসে ইউরোপীয় সংঘের পক্ষ থেকে জর্জ্জিয়ার সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করেছিলেন ফরাসী রাষ্ট্রপতি নিজেই. তখন তীক্ষ্ণ আন্তর্জাতিক সঙ্কটের পরিস্থিতিতেও নেতারা তাঁদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার ভাষা খুঁজে নিতে পেরেছিলেন, আর সেই ভাষাতেই আজ তাঁদের কথা বলা সহজ হয়েছে. (sound)