রাশিয়ার সোচী শহর কানাডার ভ্যান্কুভার শহরের থেকে পরবর্তী শীত অলিম্পিকের জন্য পতাকা পেয়েছে. ২০১০ সালের অলিম্পিকের শেষের অনুষ্ঠানে ২২তম শীত অলিম্পিকের শহর সোচীর মেয়র আনাতোলি পাখোমভ কে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট জাক রোগ্গে অলিম্পিকের পতাকা হাতে তুলে দিয়েছেন. তারপর ভ্যান্কুভারের কেন্দ্রীয় স্টেডিয়াম কিছু সময়ের জন্য বিশাল রুশ ভবনে পরিণত হয়েছিল – রাশিয়া সোচী -২০১৪ আনুষ্ঠানিক ভাবে উপস্থাপনা করেছিল.

    প্রথমে "বি সি প্লেস" স্টেডিয়ামে বেজে উঠেছিল রাশিয়ার জাতীয় সঙ্গীত, তারপর বাচ্চাদের সঙ্গে আবির্ভাব হয়েছিল পরীর. এই ভূমিকায় ছিলেন বিশ্ব বিখ্যাত সুপার মডেল, "সোচী -২০১৪"র দূত এবং স্বাস্থ্য বজায় রেখে আধুনিক জীবনের নিদর্শন নাতালিয়া ভদিয়ানোভা, তিনি তাঁর যাদু কাঠি নাড়া দিতেই শুরু হয়েছিল কৃত্রিম তুষার পাত. নানা রকমের জ্বলা নেভা আলোর মাঝে মঞ্চে উপস্থিত হলেন মায়েস্ত্রো ভালেরি গিয়ের্গিয়েভ, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্ময় জাগানো কৌশলে তিনি ভ্যান্কুভার থেকেই মস্কোর রেড স্কোয়ারের অর্কেস্ট্রা নিয়ন্ত্রণ করলেন. আর বিরাট প্লাজমা টেলিভিশনের পর্দায় গিওর্গি স্ভিরিদভের "সময় এগোনোর" নামের বাজনার সঙ্গে স্টেডিয়ামে বিখ্যাত রুশ তিন ঘোড়ার টানা রথ "ত্রৈকা" দৌড়ে যেতে শুরু করেছিল. মহাকাশে ইউরি গাগারীন উড়ে গিয়েছিল, আকাশে উঠেছিল ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকের প্রতীক ভল্লুক মিশা. রাশিয়ার আবহাওয়াতে প্রবেশ করানোর জন্য ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিচ্ছবি দিয়ে সেই সব কিছুকেই মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা বিদেশীরা রুশ দেশ সম্বন্ধে জানেন.

    তারপর এই অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা সবাইকে ভবিষ্যতে নিয়ে সোচী – ২০১৪ তে পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেখানে সমুদ্রের পটভূমিতে পাহাড়, তমাল সারির সামনে বরফের উপর নিজস্ব নৃত্য পরিবেশন করলেন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন তাতিয়ানা নাভকা এবং রমান কস্তমারভ.

    রাশিয়ার ব্যালের বিশ্ব বিখ্যাত নিকোলাই শিসকারিদজে ও উলিয়ানা লপাতকিনা নাচলেন পরের অংশে. তাঁদের নাচ ছিল একেবারেই অন্যরকম, তাঁরা দেখালেন খেলোয়াড়দের নৃত্য, যা দিয়ে বোঝালেন শিল্প ও ক্রীড়ার নৈকট্য.

    সময়ের প্রবাহ বোঝালেন রুশ দেশের বিখ্যাত খেলোয়াড়েরা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে. মহান অতীতের রূপ দর্শন করালেন ফিগার স্কেটিং খেলোয়াড় ইরিনা রদনিনা ও আইস হকি খেলোয়াড় ভ্লাদিস্লাভ ত্রেতিয়াক. বর্তমানের খেলোয়াড় ও ২০০৬ সালের অলিম্পিক সোনা ও ২০০২ এবং ২০১০ এর রূপো জয়ী ফিগার স্কেটিং চ্যাম্পিয়ন ইভগেনি প্লুশ্যেঙ্কো এবং হকি খেলোয়াড় আলেকজান্ডার অভেচকিন এলেন সম সাময়িক ইতিহাসের প্রমাণ হয়ে. আর অলিম্পিকের প্রতীক ও রাশিয়ার সুন্দর খেলাধূলার ভবিষ্যতের প্রতীক হয়ে মাঠে এল বাচ্চারা, যাদের বাবা মায়েরা অলিম্পিকের পদক নিতে মঞ্চে উঠেছেন এবং সেই সব বাচ্চারা যাদের কাছ থেকে রাশিয়ার আশা অনেক.

    খেলাধূলার ক্ষেত্রে পরম্পরা ভবিষ্যতের জয়ের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বিষয়. রাশিয়া বিশ্বাস করে যে, চার বছর বাদে সোচী শহরে রুশ দেশের খেলাধূলার নতুন বীরদের নাম জ্বলে উঠবে. শুধুমাত্র দর্শক না হয়ে তাতে অংশ গ্রহণ করবার জন্য আমরা এই চতুর্বাষিক খেলার উত্সবের জন্য সোচীতে অপেক্ষা করব. আপনিও চলে আসুন, দারুণ হবে!