মিখাইল সেরগিয়েভিচ গরবাচভ ১৯৩১ সালের ২রা মার্চ দক্ষিণ রাশিয়ার স্তাভরোপোল অঞ্চলের প্রিভোলনোয়ো গ্রামের এক রুশ ইউক্রেন সম্মিলিত পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন. ১৯৫০ সালে রূপোর মেডেল সহ স্কুল শেষ করেন এবং মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে বিনা পরীক্ষায় ও বিনা প্রাথমিক সাক্ষাত্কারে ছাত্র হিসাবে যোগদান করেন. এই রকম সিদ্ধান্তের জন্য প্রভাব পড়েছিল তাঁর শ্রমিক – কৃষক পরিবার থেকে বুদ্ধিজীবি সমাজে প্রবেশ এবং তাঁর কাজের জীবনের অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্রীয় শ্রমের স্বীকৃতী মূলক রক্ত পতাকা অঙ্কিত পদক পুরস্কার. তা ছাড়া দশম শ্রেণীর ছাত্র থাকা কালীণ তাঁর নাম সোভিয়েত দেশের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য তালিকার আবেদন পত্রে যোগ করা হয়েছিল বলে. "মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের দিন গুলিতেই তিনি দেশের ইতিহাসের পুনর্বিচার করেছিলেন এবং দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে ভেবেছিলেন".    ১৯৮৫ সালের মার্চ মাসে মিখাইল সেরগিয়েভিচ গরবাচভ সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক পদে আসীন হন. তাঁর আগমনের পর হতেই দেশে গণতন্ত্রের প্রসার শুরু হতে থাকে, এই প্রক্রিয়াকে পরে নাম দেওয়া হয়েছিল পেরেস্ত্রোইকা এবং এর চালিকা শক্তি ছিল গ্লাসনোস্ত এবং খোলা হাওয়ায় আলোচনা. একটি জাতীয় পরিকল্পনা চালু হয়েছিল, যার ফলে ১৯৯০ সালে দেশের ক্ষমতা প্রথম বার সোভিয়েত ইতিহাসে দেশের লোকসভার হাতে আসে. ১৯৯০ সালের ১৫ইমার্চ মিখাইল সেরগিয়েভিচ প্রথম সোভিয়েত দেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন, গণ ভোটের মাধ্যমে. ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে পশ্চিম ও সোভিয়েত দেশের মধ্যে সম্পর্কের মূল গত পরিবর্তন হয় এবং শত্রুর বদলে সহকর্মীর মত সম্পর্ক তৈরী হতে শুরু করে. তাঁর কাজের ফলে ঠাণ্ডা যুদ্ধ ও পারমানবিক অস্ত্রসজ্জা বৃদ্ধির দৌড় থেমে যায় ও জার্মানী এক দেশে পরিণত হয়. ১৯৯০ সালের ১৫ই অক্টোবর মিখাইল সেরগিয়েভিচ গরবাচভ তাঁর অসামান্য রাজনৈতিক সংস্কারকের কাজের জন্য নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন.১৯৯১ সালের ২৫শে ডিসেম্বর গরবাচভ নিজে থেকে দেশের নেতৃত্ব ত্যাগ করেন. কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক জীবন এখানেই থেমে যায় নি, তিনি ১৯৯২ সালেই আন্তর্জাতিক সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পর্যালোচনার জন্য তহবিল তৈরী করেন (গরবাচভ ফাণ্ড). মিখাইল সেরগিয়েভিচ রাশিয়ার রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়ে থাকেন, ১৯৯৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় তিনি প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন. তিনি সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রে একজন দৃঢ় বিশ্বাসী লোক, তিনি রাশিয়াতে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (২০০১ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত) স্থাপন করেছিলেন.    ১৯৯২ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত মিখাইল সেরগিয়েভিচ গরবাচভ ২৬৬ টি আন্তর্জাতিক সফর করেছেন প্রায় ৫০ টি দেশে. তাঁকে তিনশরও বেশী বিভিন্ন বিশিষ্ট সাম্মানিক পদবী, পদক ও পুরস্কার দেওয়া হয়েছে. ১৯৯২ সাল থেকে তিনি অর্ধ শতকের কাছাকাছি বই লিখে প্রকাশ করেছেন, যা বিশ্বের দশটি ভাষাতে অনুদিত হয়েছে.