শনিবারের চিলির রিখটার স্কেলে ৮, ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আন্তর্জাতিক ভাবে প্রসারিত হয়েছে, সাগরের বলয় অগ্নিকুণ্ডের কাছে ভূমিকম্প উদ্ভূত প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঢেউ সুনামি বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০ টি ঘন জন বসতি পূর্ণ অঞ্চলে আঘাত করেছে. প্রশান্ত মহাসাগরের তীরের ৫০টি দেশে তিন মিটার উঁচু ঢেউ আসছে বা এসেছে. নিউজিল্যান্ড থেকে রাশিয়ার কুরিল দ্বীপ পূঞ্জ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়েছে. রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে এই বিষয়ে পরিস্থিতির দিকে খেয়াল রাখা হয়েছে.

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কালের ভূমিকম্পে চিলিতে প্রায় ৩০০ জনেরও বেশী লোকের মৃত্যু হয়েছে, প্রতি ঘন্টাতেই নতুন করে নিহত দের খবর পাওয়া যাচ্ছে. প্রায় ১৫ লক্ষ ঘর বাড়ী ধ্বংস হয়েছে, রাস্তা ও ব্রিজ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে. টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুত সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উড়ান বিপর্যস্ত. বিপর্যয় হওয়া অঞ্চলে জরুরী অবস্থা জারী করা হয়েছে. আর দেশের বিপর্যয় নিরসন দপ্তর বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্থ দের তালিকা তৈরী করতে ব্যস্ত. রাশিয়ার দূতাবাস চিলিতে এই দপ্তরের সঙ্গে সমানে যোগাযোগ করছে, একটি খবর ভাল যে, কোন রাশিয়ার লোকের ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার খবর এখনও পাওয়া যায় নি, কারণ স্বাভাবিক যে, এই দেশে রুশ লোকের সংখ্যা কম এবং তা ২০০ জনের বেশী নয়.

    চিলির রাষ্ট্রপতিকে পাঠানো এক তার বার্তাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ এই বিপর্যয়ের কারণে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোক প্রকাশ করেছেন এবং রাশিয়ার পক্ষ থেকে সমস্ত রকমের সাহায্য করার কথা বলেছেন. রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব বান গী মুন এবং ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি হুগো চাভেস শোক বার্তা পাঠিয়েছেন. মস্কোর পক্ষ থেকে বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয় খোঁজ খবর করছে, এই রকম কারণে এর আগেও বহু দেশে তাঁদের ত্রাণ কার্য করার অভিজ্ঞতা আছে.

    দেখে মনে হয়েছে যে, শুধু চিলির লোকেদেরই সাহায্যের প্রয়োজন হবে না. পৃথিবীর ভূতলের কম্প গত কালই পাক আফগান সীমান্তের কাছে হিন্দুকুশ পর্ব্বতের কাছের বলয়ে হয়েছে, যার মাত্রা ছিল ৬, ১ এবং তার অনুরণন ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে ৫, ৭ মাত্রায় অনুভূত হয়েছে.

    চিলির ভূমিকম্পের ফলে উদ্ভূত সুনামি বিধ্বংসী হতে পারে বলে আশংকা করা হয়েছে, শনিবারে এই বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াতে সাবধান করা হয়েছে. জাপানে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল থেকে লোক সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, চীন, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়াতে সুনামির অপেক্ষা করা হয়েছে.

    উত্তর কুরিল অঞ্চলে টেকটনিক স্তরে ভূমি সরে যাওয়ায় ঢেউ এসেছে. এর উপর বিশেষজ্ঞরা নজর রাখছেন. এখন অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী কামচাত্কা অঞ্চলে আট নম্বর ঢেউ পৌঁছেছে. যদিও তার উচ্চতা এখানে ৮০ সেন্টিমিটারের বেশী নয়, তাও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন খেয়াল রাখতে. ১৯৬০ সালের বিশ্বের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিধ্বংসী ৯, ৫ মাত্রার ভূমিকম্প যা চিলিতে হয়েছিল, তার ফলে কামচাত্কা উপদ্বীপ অঞ্চল যথেষ্ট গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল. আজ স্থানীয় জনসাধারনের জীবনের আশংকা নেই বলে সাখালিন অঞ্চলের বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের প্রধান তেইমুরাজ কাসায়েভ জানিয়েছেন, তিনি বলেছেনঃ

    "এখানে সুনামি হতে পারে বলে বিপর্যয় নিরসনের জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে. বিভিন্ন নীচু জায়গা থেকে লোক সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে ঢেউ আসতে পারে. যে সমস্ত কারখানার কাজে দুর্ঘটনার ফলে পরিবেশ বিপন্ন হতে পারে বলে মনে করা হয়েছে, তাদের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে. জাহাজ গুলিকে মাঝ সমুদ্রে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ও সে গুলি থেকে নাবিক দের নামিয়ে নেওয়া হয়েছে".

    শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী কামচাত্কা অঞ্চলে সুনামির বিপদ সঙ্কেত আজ বন্ধ করা হয়েছে, রবিবারে কুরিল দ্বীপ পূঞ্জ থেকে বিপদের সঙ্কেত বন্ধ করা হবে বলে বিপর্যয় নিরসন দপ্তর থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে.

<sound>