বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফটকাবাজেরা তাদের সমস্ত বিনিয়োগ তহবিল এক করে পেশী প্রদর্শন শুরু করেছে, যাতে ইউরোপীয় সংঘের ইউরোর দাম কমে ডলারের দামের সমান হয়ে যায়. এই বিষয়ে আমেরিকার ইউরোপীয় সংঘে প্রকাশিত সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ইউরোপ খবর দিয়েছে.

সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বড় তহবিল গুলের মাথারা জর্জ সোরস সহ নিউইয়র্কে নিয়মিত সাক্ষাত্কারে ব্যস্ত. তাদের সভাতে আলোচনা চলছে বিশ্বের মুদ্রা বাজারের পরবর্তী কালের ঘটনার মোড় কোন দিকে যাবে তা নিয়ে. এই প্রসঙ্গে বেশীর ভাগ তহবিল তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনায় ইউরোর দাম কমবে ধরে এগোচ্ছেন.

বর্তমানের সংখ্যাটি উল্লেখ করেছে যে, এই সব সংস্থার রাজনীতি খুবই আগ্রাসন মূলক. তাদের প্রতিটি ডলারের বিনিময়ে যে ইউরো তারা রেখেছেন, তার বদলে ২০ ডলার করে স্বল্প মেয়াদী ঋণ নিচ্ছেন. তার ফলে প্রতি দিনে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশ্বের মুদ্রা বিনিময় বাজারের অনেকটাই ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরোর বিরুদ্ধে খেলছে.

সংবাদপত্র বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞের কথার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে যে, পরবর্তী সময়ে বিশ্বের মুদ্রা বাজারের ঘটনা ২০০৮ সালের মতই হতে চলেছে. তখন যেমন কয়েকটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক বিয়ার স্টের্নস এবং লেহমান ব্রাদার্স ডুবে গিয়েছিল আর তার ফলেই বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট শুরু হয়েছিল, তেমনই এখন যে সব দেশের ব্যাঙ্ক ডুবতে চলেছে, তারা হল পর্তুগাল ও গ্রীস. এমনিতেই বর্তমানে এরা ইউরোপের অর্থনীতির সবচেয়ে দুর্বল জায়গা.

রাশিয়ার ব্যবসায় উপদেষ্টা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ দপ্তরের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার ইয়াকভলেভ আমেরিকার খবরের কাগজের খবর সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেনঃ

"কেউই জানে না সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ তহবিল গুলি বাস্তব পরিকল্পনায় কি করতে চলেছে. এই বিষয়ে একটা খবর বেরিয়েছে, আর তার দায়িত্ব ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিকের বিবেকের উপরই থাকুক. জর্জ সোরস কি আসলে করছেন, যা এমনিতে কেউ জানেই না, কেউ খবরও দেয় না, তার স্ট্র্যাটেজি কি, কি বিষয়ে তিনি অর্থ ঢালছেন এবং কিসের বিরুদ্ধে খেলছেন – এই সম্বন্ধে কোন মন্তব্য করা সম্ভব নয়. বলা যেতে পারে শুধু সেই ধারণাকে নিয়ে, যা আজ বিশ্বের বিনিয়োগের বাজারে হাওয়ায় উড়ছে. আর এই ধারণা সত্যিই হল যে, ইউরো চাপের মধ্যে রয়েছে এবং তার জন্য অনেক বাস্তব কারণও রয়েছে. আর যখন গ্রীস দেশের চারপাশের অবস্থা এমন যে, তা ঠাণ্ডা হচ্ছে না এবং যতক্ষণ না বিনিয়োগকারীরা দেখতে পাচ্ছেন যে, ইউরোপীয় সংঘের হাতে গ্রীস দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার মত বাস্তব ক্ষমতা রয়েছে এবং অন্যান্য দেশেও এই ধরনের কিছু হলে তা থামাবার মত ক্ষমতা আছে, ততক্ষণ ইউরোর অবস্থা ভাল হতে পারে না. বোঝাই যাচ্ছে যে, গ্রীস দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানো হবে এবং ডলারের ইউরোর সমান হতে এখনও অনেক বাকী. কিন্তু পরিস্থিতি ভাল নয়. ফটকাবাজেরা সেই কারণেই আছে, যারা এই সব সময়ে পয়সা কামায়. শুধু মনে হয় তাদের মতলব নিয়ে সোজা গল্প করার মানে হয় না. তাছাড়া প্রমাণ করার চেষ্টা করা যে, তারা ইউরো আর ডলারের দাম সমান করে দিতে পারবে, এটা হাস্যকর".

ইউরো পড়ে যাবে বলে ভয় দেখানো  - ফটকাবাজেরা স্বর্গে যাওয়ার মত ঘটনা. কিন্তু এই সব অশনি সঙ্কেতের মধ্যে বিশেষ ভিত্তি নেই. রাশিয়ার লোকসভার বিনিয়োগ বাজার পরিষদের সদস্য আনাতোলি আসকাকোভ তাই মনে করেন. ইউরোপের অর্থনীতির ক্ষমতা এবে ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা এই অর্থনীতিবিদের মতে ইউরো সংরক্ষণ করতে সাহায্য করবে. এই বিষয় নিয়ে শুধু ইউরোপীয় সংঘের অঞ্চলের দেশ গুলিই আগ্রহী নয়, বরং সারা বিশ্বই আগ্রহী, কারণ ইউরোপের মুদ্রার স্থিতিশীলতার উপর তাদের দেশের মুদ্রার স্থিতিশীলতাও নির্ভর করে এবং সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে. তাই সোজা বা অন্য যে কোন ভাবে ইউরো বাঁচাতে সারা বিশ্বই সাহায্য করবে.