স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত নতুন চুক্তি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অস্ত্রসজ্জার সঙ্গে যুক্ত করা হবে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ. তিনি রেডিও রাশিয়ার চেয়ারম্যানের প্রশ্নের উত্তরে এই কথা বলেছেন. একই সঙ্গে প্রশ্নকর্তাদের মধ্যে ছিলেন রিয়া নোভস্তি ও রাশিয়া টুডে সংস্থার প্রধানেরা. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানের সঙ্গে আগের ঐতিহ্য অনুযায়ী একটি লাইভ সাক্ষাত্কার প্রোগ্রামে আন্দ্রেই বিস্ত্রিতস্কি অংশ নিয়েছেন.

    বর্তমানে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা চুক্তি নিয়ে আলোচনা খুবই জোর কদমে চলছে, যদিও প্রায়ই বুরোক্র্যাসীর বাধা সামনে আসছে. এমনও হয় যে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যে সমস্ত সিদ্ধান্ত এর মধ্যেই নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবে যাঁরা এই বিষয় নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের ভাল লাগে না, তাই সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করে বলেছেনঃ

    "২৪শে ফেব্রুয়ারী বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির মধ্যে টেলিফোনে কথাবার্তা হয়েছে. লাভরভ বলেছেন, দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং বারাক ওবামা তাঁদের আগের বক্তব্য কে সমর্থন করে বলেছেন যে, আগে দুজনের মধ্যে যে সমস্ত বিষয়ে সহমত হওয়া সম্ভব হয়েছে, তার সমস্ত অংশই নতুন চুক্তিতে প্রতিফলিত হবে এবং জেনেভাতে বর্তমানের আলোচনায় দুই দেশের প্রতিনিধি দল এই সহমতে আসা বিষয় গুলিকে মেনেই কাজ করবেন. তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, এক্ষেত্রে কথা হচ্ছে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা চুক্তি এই দুটি বিষয়ের যোগ. মস্কোতে আশা করা হয়েছে যে, নতুন স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার চুক্তিতে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ করা হবে. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রপতিরা কথা দিয়েছেন যে, নতুন চুক্তি হবে সম্পূর্ণ ভাবে দুই পক্ষের স্বার্থের অনুকূলে. আমরা একে অপরকে সহযোগী বলে মনে করতে চাই, বন্ধুত্ব করতে চাই, তাই সন্দেহ করার স্তর অনেক কমে যাওয়া উচিত্. অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কোন প্রয়োজন নেই, তা ছাড়া দুই পক্ষের জন্যই তা সমান হওয়া দরকার. এটাই মূখ্য নীতি. আর সমস্ত রকমের সামরিক প্রযুক্তির প্রশ্ন এই দুটি নীতির মধ্যে সহজেই তৈরী করা যায়. মস্কোতে আশা করা হয়েছে যে, বিগত কিছু কাল ধরে দুই দেশের রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে যে সমস্ত আলোচনা হয়েছে তার ফলাফল রুশ ও আমেরিকার প্রতিনিধি দল যাঁরা জেনেভাতে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছেন, তাঁদের জন্য পরিস্কার রাজনৈতিক সঙ্কেত হবে যে দুই রাষ্ট্রপতির সহমতে আসা বিষয় গুলি নিঃখূত ভাবে চুক্তিতে লিখতে হবে".

    বর্তমানের বিশ্বে নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাংবাদিকেরা রুশ রাষ্ট্রপতির এই বিষয়ে উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন করতে ভোলেন নি. ২০০৮ সালের গরম কালে বার্লিন সফরের সময় দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রস্তাব করেছিলেন যে, বিশ্বে ও ইউরোপে শান্তি বজায় রাখার জন্য এমন একটি ব্যবস্থা করা দরকার, যাতে কোন একটি দেশ বা সামরিক জোট নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একক অধিকার না পায়. কিন্তু পশ্চিমের নেতারা এখনও তাড়া করছেন না এই বিষয়ে কোন চুক্তি স্বাক্ষর করতে অথবা রাজনৈতিক ঘোষণাকে আইনের সঙ্গে সঙ্গত করার স্তরে আনার. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ রাশিয়ার তরফে ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই প্রস্তাবকে সততার পরীক্ষা বলে অভিহিত করে বলেছেনঃ

    "রাশিয়া ইউরোপের লোকেদের আজ নতুন কিছুই বলছে না, যা গত শতকের নব্বই এর দশকে সমস্ত ইউরোপ ও অতলান্তিক অঞ্চলের দেশ গুলির নেতারা শীর্ষ বৈঠকের পর এক সঙ্গে সবাই মিলে রাজনৈতিক ঘোষণা হিসাবে করেছিলেন. তখন ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংস্থার দলিল গ্রহণ করা হয়েছিল, রাশিয়া – ন্যাটো পরিষদ তৈরী হয়েছিল, তার মধ্যে ১৯৯৯ সালে ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সনদ যা গৃহীত হয়েছিল, তাও ছিল. সেখানে অংশতঃ বলা হয়েছিল যে, কোন দেশই নিজের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অন্য দেশের ক্ষতি করতে পারবে না এবং সমস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা নিজেদের মধ্যে সমান. এটি সোজা দেখিয়ে দেয় ন্যাটো জোট, যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা এই মহাদেশে আছে, তাদের ভূমিকা কি রকমের হওয়া উচিত্. কিন্তু রাজনৈতিক ঘোষণা হিসাবে শুধু এই বিষয় কাজ করতে পারে না. আমাদের সহযোগী দেশ গুলি এটা বুঝতে পারে এবং রাশিয়ার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে. যারা রাশিয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনা করার সত্যতা সম্বন্ধে সহমত প্রকাশ করে, কিন্তু আপাততঃ চুক্তির খসড়া তৈরী করতে রাজী নয়, তাদের বুঝতে পারার চাবি কাঠি লুকিয়ে আছে যার মধ্যে তা হল আইন সঙ্গত চুক্তি হলে তা অক্ষর মেনে পালন করতে হবে, কিন্তু রাজনৈতিক ঘোষণায় কোন বাধ্য বাধকতা নেই. তাই পশ্চিমের সহযোগী দেশ গুলি আলোচনার টেবিলে বসতে তৈরী নয় এবং পেন্সিল হাতে নিয়ে খসড়া তৈরী করাতে উত্সাহী নয়".

    সাংবাদিকেরা রাশিয়াও জর্জ্জিয়ার সম্পর্কের বিষয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন. ২০০৮ সালের আগষ্ট মাসে যখন তবিলিসি দক্ষিণ অসেতিয়ার উপর আক্রমণ করে ছিল, তার পর থেকেই সরকারি ভাবে থেমে রয়েছে. দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কি শুরু হতে পারে? আর দক্ষিঅসেতিয়া ও আবখাজিয়ার মসদ্য স্বাধীন দেশ যাদের রাশিয়া ছাড়া বর্তমানে মাত্র তিনটি দেশ স্বীকার করেছে, তাদের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক কি তেমনই সহজ?

    "জর্জ্জিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রাশিয়া ভঙ্গ করে নি, করেছে বর্তমানের তিবিলিসির প্রশাসন. এবং তারা শুধুমাত্র সম্পর্কই নষ্ট করে নি, বরং এক গোঁয়ার পাগলের মত সব কিছু করেছে, যাতে রুশ ও জর্জ্জিয়ার মানুষের মধ্যে শত্রুতা তৈরী হয়. আমরা ব্যক্তি সাকাশভিলির সঙ্গে কোন রকমের কাজ করতে চাই না, কারণ সে অপরাধী, যে মানুষ মারার হুকুম দিয়েছিল সমস্ত আন্তর্জাতিক বাধা নিষেধ অগ্রাহ্য করেই. কিন্তু আমরা জর্জ্জিয়ার মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করা থেকে আমরা বিরত হই নি. আমরা নিয়মিত বিমান পরিবহন আবার শুরু করতে তৈরী. আশা করব ১লা মার্চ থেকে ভূমিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য সীমান্ত খোলা হবে. আর যদি জর্জ্জিয়ার লোকেদের এই বিষয়ে মতের পরিবর্তন না হয়, তবে যা আগে থেকে ঠিক করা আছে, তা আমরা পালন করব. শিল্প ও সংস্কৃতির লোক ও সব মিলিয়ে বুদ্ধিজীবি জর্জ্জিয়ার লোকেদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আগেও ছিল এবং এখনও সমান ভাবেই আছে, গির্জার পর্যায়েও আছে, সেই সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও রয়েছে, যাঁরা মস্কোর সঙ্গে আলোচনা করতে তৈরী. দক্ষিণ অসেতিয়া ও আবখাজিয়া সম্বন্ধে শুধু বলতে পারি যে, সবচেয়ে বড় দুঃখের কথা হল, ২০০৮ সালের ট্র্যাজেডির জন্য পুরো এক সার জর্জ্জিয়ার নেতৃত্ব যাঁরা নিজেদের মূল নাগরিকদের স্বার্থের কথা না ভেবে কাজ করেছেন, তাঁরাই দায়ী. রাশিয়া সবসময়েই ভেবে এসেছে যে, এই সব রাশিয়ার উত্তরের ককেশাসের লোকেরা, যারা আমাদের সঙ্গে বহু শতাব্দী ধরে আছে, তারা আমাদের ভাই. মস্কো সর্বদা তৈরী থাকবে, তাদের যে কোন রকমের বিপদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য যা করা দরকার তা করতে, যাতে নিরাপত্তার কোন অভাব না হয়.এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত আইন সঙ্গত দলিল দিয়ে গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে, যা এর মধ্যেই গৃহীত হয়েছে এবং আরও তৈরী হচ্ছে".

    ইরান সংক্রান্ত প্রশ্নটিও মনোযোগ এড়ায় নি. সের্গেই লাভরভ কে প্রশ্ন করা হয়েছিল — রাশিয়া ও পশ্চিমের দেশ গুলির মধ্যে সম্পর্কে বর্তমানে ইরান কি খুচরো বিনিময়ের পয়সা হয়ে দাঁড়ায় নি? তেহরানের প্রতি নেওয়া নিষেধাজ্ঞা কে কি ভাবে নেওয়া উচিত্, যদি এখনও কোন সঠিক প্রমাণ নেই যে, ইরান পারমানবিক বোমা বানাচ্ছে?

    "ইরানের উপর এর মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার দাবীতে তা নিয়েছে. কিন্তু এই সব নিষেধাজ্ঞা ইরানের পারমানবিক বোমা আছে কি নেই, তার সঙ্গে জড়িত নয়. ইরান যে পারমানবিক বোমা তৈরী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন কোন প্রমাণ নেই. আর আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা তার পরিচালনা পরিষদকে নিয়মিত ভাবে রিপোর্ট করে যাচ্ছে যে, ইরানের সমস্ত পারমানবিক পদার্থ, যা সেখানে আছে, তা সংস্থার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে. অন্য কথা হল, সংস্থা একই রকম ভাবে বারবার বলে যাচ্ছে যে, তারা শতকরা একশ ভাগ বিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারে না যে, ইরানের কোন অঘোষিত পারমানবিক কারবার নেই. এই রকম মূল্যায়নের কারণ আছে, যদি আগে প্রায় কুড়ি বছর ধরে ইরান যে কোন রকমের শান্তিপূর্ণ পারমানবিক পরিকল্পনা করছে তা পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার জানার বাইরে থাকতে পারে এবং যে কোন রকমের পারমানবিক শক্তির প্রযুক্তির প্রসার রোধের চুক্তিতে ইরানের স্বাক্ষরিত দায়িত্বের ব্যতিরেকে তা হতে পারে, তাহলে এই সন্দেহ থাকতেই পারে.

    গত কুড়ি বছর ধরে ইরানে কি হয়েছে, তা সম্বন্ধে জানার পর, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কিছু প্রশ্ন ইরানের জন্য তৈরী হয়েছে এবং ইরানকে তার উত্তর দিতে বলা হয়েছে. কয়েক বছর আলোচনার পর ইরান বেশীর ভাগ প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছে, কিন্তু এখনও কিছু রয়ে গেছে, যার সম্বন্ধে আলোকপাত করার প্রয়োজন আছে. আপাততঃ কোন উত্তর নেই. তা স্বত্ত্বেও আমাদের এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে নিঃসন্দেহে স্বীকার করা হয়েছে যে ইরানের অন্য সমস্ত পারমানবিক অস্ত্র বিহীণ ও নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির আওতা ভুক্ত দেশের মতই সমস্ত রকমের অধিকার রয়েছে পারমানবিক ক্ষেত্রে এবং চাইলে তারাও পারমানবিক পদার্থ সমৃদ্ধ করতে পারে. কিন্তু যাতে এই অধিকার কোন ভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, ইরানের উচিত্ হবে তাদের এর সঙ্গে পাওয়া দায়িত্ব পালন করা. এই ক্ষেত্রে কোন রকমের কাজ না হলে, আমি বাদ দিতে পারি না যে, নিরাপত্তা পরিষদ আবার বাধ্য হবে নিষেধাজ্ঞার বিষয় নিয়ে আবার পরিস্থিতির উপযুক্ত বিচার ব্যবস্থা করতে. অন্য কথা হল, এই সব নিষেধাজ্ঞা নিজে নিজেই কোন উপযুক্ত ফল দেবে কি না. তাই আমরা খুবই মন দিয়ে পরিস্থিতির বিচার করব এবং দেখব নিরাপত্তা পরিষদে কি ধরনের প্রস্তাব আসছে. আমরা চাই না যে, নিরস্ত্রীকরণ ও প্রসার রোধের নামে ইরানকে দম বন্ধ করে মারার মত কোন পরিস্থিতির দিকে যাতে ঠেলে দেওয়া না হয়. এই ব্যাপারটা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ভিত্তিমূলক কার্য ধারার পরিপন্থী হবে".