আজ ভারতের বাঙ্গালোর থেকে অল্প দূরে হসুর শহরে রুশ ভারত মোটর গাড়ী জোড়া লাগানোর নতুন কারখানা ভারতের ভেক্ট্রা ও রাশিয়ার কামাজ কোম্পানীর সহযোগিতায় উদ্বোধন করা হয়েছে.

আমাদের সাংবাদিক ভারতে রাশিয়ার রাজদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন কে টেলিফোন করে তাঁর এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর কি মনে হয়েছে, সেই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করায়, তিনি বলেছেনঃ

"এখনই এখানে সাংবাদিক সম্মেলন শেষ হয়েছে, আনুষ্ঠানিক ভাবে ফিতে কেটে কারখানার উদ্বোধন করা হয়েছে, ভারী মালবাহী গাড়ী দেখানো হয়েছে. এই যৌথ প্রকল্পের উত্পাদন ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়বে এবং ২০১৩ সালে বছরে সাড়ে সাত হাজার গাড়ী হবে. এই কারখানাতে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা কাজ করবেন, তাঁদের এখানেই শিখিয়ে পড়িয়ে তৈরী করা হবে. রুশ ভারত মৈত্রী এবং দুই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেসামরিক উত্পাদনে সহযোগিতার একটি খুবই ভাল উদাহরণ হয়েছে এই যৌথ উদ্যোগে তৈরী কারখানা".

কামাজ ভেক্ট্রা মোটর্স ভারতে প্রথম রুশ দেশের সাথে তৈরী যৌথ প্রকল্প নয়. রাশিয়ার বিরাট কোম্পানী আ এফ কে সিস্টেমা সক্রিয় ভাবে ভারতীয় সহযোগী কোম্পানীর সঙ্গে মোবাইল ফোন ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করছে. খুবই বিখ্যাত রুশ ভারত যৌথ কোম্পানী ব্রামোস, যারা বিশ্বের দ্রুততম পাখা সমেত রকেট তৈরী করেছে. বোধহয় এই সব কোম্পানীর মধ্যে শীঘ্রই ভেক্ট্রা মোটর্স লিমিটেড উপযুক্ত জায়গা নেবে.

ভারতে রাশিয়ার রাজদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন বলেছেনঃ

"ভারী মালবাহী গাড়ী যা এখানে জোড়া লাগানো হবে, তা ভারতীয়রা যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে. এই সব গাড়ীর জন্য এখানে বিশাল বাজার রয়েছে, এই ধরনের গাড়ী কয়লা বহনের জন্য ব্যবহার করা হবে, ভাল যে, এই রকম খনি এখানে প্রচুর. রাস্তা বানানোর কাজেও লাগানো হবে, ভারতের সামরিক বাহিনীরও এই ধরনের গাড়ীর খুব প্রয়োজন. কিছুদিন পর্যন্ত এখানে নিজে থেকে মাল খালাস করতে পারে ও টেনে নিয়ে যেতে পারে এই রকম দুটি ধরনের গাড়ী তৈরী হবে. এই গাড়ী গুলি ভারতীয় রাস্তার নিয়ম মেনেই তৈরী হবে, অর্থাত্ চালকের আসন ভারতের অন্য গাড়ীর মত ডান দিকেই থাকবে".

কামাজের প্রতিনিধি এই প্রসঙ্গে যেমন বলেছেন যে, বিক্রীর অবস্থা দেখে কারখানা নতুন মডেল পাল্টাতে পারে, তিনি এও বাদ দেন নি যে, ভবিষ্যতে এখানে বাস তৈরী করাও হতে পারে. রাশিয়ার রাজদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন যেমন ভাবেন, তেমনই প্রতিনিধি মনে করেন যে, ভারতের মালবাহী গাড়ীর বাজার খুবই বড় ও সম্ভাবনা ময়.

এই প্রসঙ্গে মনে করা যেতে পারে, বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময়েও ভারতের বাজার বেড়েছে এবং গত বছরে এখানে তিন লক্ষ মালবাহী গাড়ী বিক্রী হয়েছে. আজ ভারত এ সঙ্কট থেকে আত্ম বিশ্বাসের সঙ্গে বেরিয়ে আসছে এবং প্রায় শতকরা আট শতাংশ উন্নতি করতে চলেছে. এ ক্ষেত্রে মালবাহী গাড়ীর খুবই দরকার পড়বে. শুধুশুধুই ভারতে রাশিয়ার বাণিজ্য প্রতিনিধি সংস্থার প্রধান মিখাইল রাপোতা মনে করেন না যে, কাজের এই যৌথ প্রকল্প বিগত কিছু বছরের মধ্যে একটি উল্লেখ যোগ্য প্রকল্প.