ভারত ও পাকিস্থান কি শান্তি আলোচনাতে আবার বসবে? অনেকেই আশা করেছেন যে, দিল্লীতে ২৫ শে ফেব্রুয়ারী দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পরেই সালমান বশির ও নিরুপমা রাও এই বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা করবেন.

মুম্বাই হামলার পরে দুই দেশের সম্পর্কের সম্পূর্ণ অবনতির পরে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য এটি সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক না হলেও এটিই প্রথম সংযোগ তাই এই বৈঠক নিয়ে দুই দেশ ছাড়াও অন্যান্য দেশেরও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে.

ভারত এই রকম একটি বৈঠকের প্রস্তাব করেছে তার পরই, যখন দিল্লী ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের কথা মতো ইসলামাবাদ থেকে সংকেত পেয়েছে যে তারা গত ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাই হামলার সঙ্গে জড়িত দের বিষয়ে "ব্যবস্থা" নিতে তৈরী. ভারতের বিশেষ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এই সন্ত্রাসবাদী হামলার পিছনে ছিল তেহরিক এ তালিবান, যারা পাকিস্থানে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে. অনেক দিন ধরেই ইসলামাবাদ ভারতের গুপ্তচর সংস্থার এই মতকে মানতে তৈরী ছিল না.

কয়েক দিন আগে ভারতের লোকসভাতে বক্তৃতা করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী প্রতিভা পাতিল আবারও ঘোষণা করেছেন যে, ভারত পাকিস্থানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনায় বসার বিষয়ে কথা বলতে তৈরী, যদি ইসলামাবাদ সন্ত্রাসবাদের বিপদ সম্বন্ধে অতন্দ্র মনোযোগ দেয় এবং ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস করার কাজ বন্ধ করার জন্য সফল ব্যবস্থা নেয়. ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে সম্পর্ক ঠিক করার কথা আজ ইসলামাবাদ থেকেও শোনা যাচ্ছে. আগামী বৈঠকে দিল্লী ও ইসলামাবাদ কি কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারবে?

এই বিষয়ে মন্তব্য করে দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ গেন্নাদি চুরফিন বলেছেনঃ

"আমার মতে আগামী বৈঠকে পরিস্কার কূটনৈতিক ভাবে একে অপরের অবস্থান নির্ণয় করা হবে. কিন্তু এমনও হতে পারে যে, বর্তমানে আফগানিস্থানে ও উত্তর পাকিস্থানে পরিস্থিতির যে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, তার ফলে আগামী দিল্লী বৈঠকে প্রভাব পড়তেও পারে. যে কোন অবস্থাতেই চুপ করে থাকার বদলে আলোচনা ভাল. যদি দিল্লী ও ইসলামাবাদ কোন একটি বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারে, তাহলে পাকিস্থান আল কায়দা ও তালিবান দলের সঙ্গে যুদ্ধ চালাবে, আর এটা ভারতের স্বার্থের অনুকূলে".

ভারত ও পাকিস্থানের শান্তি আলোচনাতে ফিরে আসার বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলিও উত্সাহ প্রকাশ করেছে, কারণ একমাত্র তার ফলেই দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি শান্ত হতে পারে. বহু পর্যবেক্ষকই মনে করেছেন যে, এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ছাড়া কাজ হয় নি. তারা ভারত পাকিস্থানের বিরোধের ফলে ভারত পাকিস্থান নিয়ন্ত্রণ রেখাতে বেশী পরিমানে পাকিস্থানী সৈন্য সমাবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন. ওয়াশিংটন চায় পাকিস্থানের বাহিনীকে ভারতের সীমান্তের চেয়ে আফগানিস্থানের সীমান্তে বেশী দেখতে, যেখানে জোট সৈন্যরা তালিব বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় রত. যাই হোক, মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিশেষ উপদেষ্টা রিচার্ড হোলব্রুকের গত ভারত ও পাকিস্থান সফরের সময় এই বিষয় টি আমেরিকার তরফ থেকে সক্রিয় ভাবে উত্থাপন করা হয়েছিল.

(audio)