বিশ্বায়নের বিপরীত স্রোত বইতে শুরু করেছে. কারণ বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট. বিভিন্ন দেশ চেষ্টা করছে নিজের দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে এবং অর্থনীতিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করতে. এই চালচিত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিভিন্ন দেশের মধ্যে মুক্ত বিনিয়োগ বিনিময়ের জন্য আগে ধরা ছোঁয়ার বাইরের নীতি থেকে সরে আসা আজ মোটেও প্রকট ভাবে বেমানান লাগছে না.

সমস্ত রকমের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার নীতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের জন্য মূল মন্ত্রই ছিল অর্থের চলা ফেরার বিষয়ে যে কোন রকমের বাধা নিষেধ দূর করা এবং তাদের পক্ষ থেকে এই দাবীও করা হত. এবারে তহবিল নতুন বাজার বিশিষ্ট ও উন্নতিশীল দেশ গুলিকে প্রস্তাব করে উপদেশ দিয়েছে যে, কর আদায় ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োগ করতে. এই কাজ করা হলে চট জলদি লাভের আশায় দেশের বিনিয়োগের বাজারে স্বল্প সময়ের জন্য তহবিল আসা বন্ধ হবে. এই ভাবে হঠাত্ তৈরী হওয়া সাময়িক বিনিয়োগের "ফোঁড়া" বন্ধ করা যাবে. এই ঘটনা একই ভাবে স্থাবর সম্পত্তি ও কমোডিটির বাজারের জন্য নিয়ম তৈরী করবে. স্বাধীন বিশ্লেষকেরা এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের এই নতুন অবাধ মুদ্রা বিনিময়ের পথে বাধা সৃষ্টি করার নীতিকে "সত্যিকারের বিপ্লব" বলে অভিহিত করেছেন. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি স্মীসলভ মনে করেন যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এটি সত্যই নতুন পথ নির্দেশ. তিনি বলেছেনঃ

"গত শতকের শেষের নব্বই এর দশকের এবং বর্তমানের সঙ্কট দেখিয়েছে যে, বিনিয়োগের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিনিময় শুধু বেশী নেতিবাচক কাজই করে থাকে, তা থেকে দীর্ঘ স্থায়ী লাভ হয় না. বিশ্বের অর্থনীতির নেতৃত্ব বুঝতে শুরু করেছেন যে, অন্য পথে সঙ্কট থেকে বেরোনো যায় না".

যেহেতু সঙ্কট বহু দেশকেই বিভিন্ন মাত্রায় ছুঁয়েছে, তাই প্রতিটি দেশের সঙ্কট থেকে বেরোনোর পথ হবে নিজের মত এবং তাদের জন্য সব থেকে প্রয়োজনীয় সময় মতই. খারাপ হল অন্য বিষয়. ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়াতে গত কয়েক মাসে বাণিজ্যিক যুদ্ধের আগুন জ্বলা শুরু হয়েছে. চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হওয়ার কারণও এই অর্থনৈতিক বৈরীতা. ওয়াশিংটনের তরফ থেকে চীন থেকে আমদানী করা টায়ার ও স্টীলের উপর শুল্ক বৃদ্ধি করা নিয়ে বিতর্কের পরেই হঠাত্ করে তাইওয়ানকে বিশাল পরিমানে অস্ত্র বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল. মুদ্রা বিনিয়োগ জোট গুলির মধ্যেও বিরোধের মাত্রা বাড়ছে, যখন দেশ গুলি প্রতিবেশী দেশের সমস্যা থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে. যেমন, কঠিনতম অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে থাকা গ্রীস দেশের পরিস্থিতি সম্বন্ধে জার্মানীর চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেল ঘোষণা করেছেন যে, ইউরোপীয় সংঘ থেকে একটি ইউরো ও এথেন্স কে সাহায্য হিসাবে দেওয়া উচিত্ নয়. গ্রেট ব্রিটেনের ব্যবসায় ও বাণিজ্য মন্ত্রী লর্ড মান্ডেলসন ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্বের অর্থনৈতিক ভাবে বড় কুড়িটি দেশ নিজেদের মধ্যে কাজের বিষয়ে কো অর্ডিনেশন কমাচ্ছে. তাদের জাতীয় আর্থিক ও বিনিয়োগ নীতি ক্রমাগতই একে অপরের থেকে দূরে চলে যাচ্ছে. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে নানা মুদ্রার বিশ্বের ধারণার বিষয়ে আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছিলেন, তাঁর ধারণার ভিত্তি ছিল যে, বর্তমানে একটি মাত্র বিনিময় যোগ্য মুদ্রা অর্থাত্ ডলারের উপর নির্ভর করলে চলবে না. আঞ্চলিক ভাবে বিনিময় যোগ্য মুদ্রা থাকতে হবে এবং স্বাধীন ভাবে অনেক বিনিয়োগ কেন্দ্র থাকতে হবে. তখন রাশিয়ার প্রস্তাবকে অগ্রাহ্য করা হয়েছিল, আর এখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সেই পথেই চলা শুরু করেছে, উপদেশ দিচ্ছে সরকার গুলিকে অর্থের স্রোতে নানা রকমের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরী করতে.